Main Menu

সিলেট সিটি

৮ নং ওয়ার্ডের সমস্যা জলাবদ্ধতাও ছিনতাই

১৯টি মসজিদ ও ৬টি মন্দির নিয়ে গঠিত সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ৮ নং নম্বর ওয়ার্ড। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এ ওয়ার্ডে মুসলমান ও হিন্দু সম্প্রদায় পাশাপাশি শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছেন।

জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ, মদনমোহন কলেজের তারাপুর ক্যাম্পাস ছাড়াও সম্প্রতি মাউণ্ট এডোরা হাসপাতাল এ ওয়ার্ডে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা পাঠানটুলাসহ এ ওয়ার্ডে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে নগরীর লন্ডনী রোডের সামন থেকে পাঠানটুলা পয়েন্টের ফুলকলির সামন, রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল রাস্তার সামনসহ ৩-৪টি স্থানে প্রকট জলাবদ্ধতার শিকার এখানকার মানুষ। সামান্য বৃষ্টি হলেই হাঁটু থেকে কোমর পর্যন্ত এ রোডে জলাবদ্ধতা ঘণ্টার পর ঘণ্টা লেগেই থাকে।

এছাড়া কালীবাড়ি- রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল রোডে মাদকে সয়লাব রয়েছে। এ রোডে ঘন ঘন ছিনতাই ও ইভটিজারদের উৎপাত রয়েছে। মূলত এ সমস্যাগুলো অগ্রাধিকার দিয়ে সমাধান করলে ৮নং ওয়ার্ড একটি শান্তিপূর্ণ ওয়ার্ডে পরিণত হবে।

৮ নং নম্বর ওয়ার্ডের এলাকাগুলো হচ্ছে- পনিটুলা, পাঠানটুলা, পানতলা, হাড়িখাই, নোয়াপাড়া, ছড়ারপাড়, করের পাড়া, ভটপাড়া, ব্রাহ্মণ শাসন, হাওলাদারপাড়া, কুচারপাড়া, কালীবাড়ি, দর্জিপাড়া ইত্যাদি। এ ওয়ার্ডে নারী-পুরুষ মিলে ভোটার হচ্ছেন-১৫ হাজার ৪শ’ ৮৭জন।

এ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৬জন প্রার্থী। তারা হচ্ছেন- সদ্য সাবেক কাউন্সিলর ইলিয়াছুর রহমান ইলিয়াছ ঝুড়ি প্রতীক, জগদীশ চন্দ্র দাশ ট্রাক্টর প্রতীক, ফয়জুল হক লাটিম প্রতীক, বিদ্যুৎ দাস ঠেলাগাড়ি প্রতীক, মো. শাহাদত খান ঘুড়ি প্রতীক ও শাহেদ আহমদ মিষ্টি কুমড়া প্রতীক।

কাউন্সিলর প্রার্থী ইলিয়াছুর রহমান ইলিয়াছ বলেন, ৮নং ওয়ার্ডে অনেক কাজ হয়েছে। তবে, পানি সমস্যা অনেকটা সমাধান হলেও পুরোপুরিভাবে এখনও সমাধান করা যায়নি। পানি সমস্যাসহ ড্রেনেজ এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ অসমাপ্ত রয়েছে। অসমাপ্ত কাজ সমাপ্তের জন্য আমি আবারও প্রার্থী হয়েছি। আবারও নির্বাচিত হলে যেসকল কাজ বাকি রয়েছে তা সমাপ্ত করবো।

জগদীশ চন্দ্র দাশ বলেন, ৮ নম্বর ওয়ার্ডে তিনবার কাউন্সিলর ছিলাম। এ ওয়ার্ডে ১৯টি মসজিদ ও ৬টি মন্দির রয়েছে। অতীতে যেসব কাজ করেছি এবার নির্বাচিত হলে এর ধারাবাহিকতা রাখবো। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও ইভটিজিংয়ের সমস্যার কথা ওয়ার্ডবাসী তুলে ধরছেন। নির্বাচিত হয়ে দ্রুত এসব সমস্যার সমাধান করে সিসি ক্যামেরা বেষ্টিত একটি ডিজিটাল ওয়ার্ড গড়ে তুলবো। এছাড়া, একটি খেলার মাঠ ও পাঠাগার প্রতিষ্ঠার কথা জানান জগদীশ চন্দ্র দাশ।

কাউন্সিলর প্রার্থী ফয়জুল হক বলেন, ৮ নম্বর ওয়ার্ডে পানি ও জলাবদ্ধতা সমস্যা প্রকট। এছাড়া, মাদক ও ছিনতাই সমস্যা রয়েছে। নির্বাচিত হলে এসব সমস্যার সমাধান করবো। পাশাপাশি প্রতিটি মহল্লায় একটি করে পাঠাগার, নারীদের জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও খেলার মাঠ করবো।

কাউন্সিলর প্রার্থী বিদ্যুৎ দাস বলেন, ৮ নম্বর ওয়ার্ডে অনেক স্থানে মাদক ও ছিনতাই সমস্যা রয়েছে। এছাড়া, পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবে জলাবদ্ধতায় নাকাল ওয়ার্ডবাসী। আমাকে নির্বাচিত করলে গুরুত্ব দিয়ে এসব সমস্যা সমাধান করবো। মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত ওয়ার্ড উপহার দেবো।

কাউন্সিলর প্রার্থী মো. শাহাদত খান বলেন, ৮ নম্বর ওয়ার্ডে কয়েকটি বস্তি রয়েছে। এসব বস্তিতে শিক্ষা ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা জরুরি। এছাড়া, পানি সমস্যা ও জলাবদ্ধতা সমস্যা দূরীকরণে পরিকল্পিতভাবে কাজ করবো।

কাউন্সিলর প্রার্থী শাহেদ আহমদ বলেন, ৮ নম্বর ওয়ার্ডে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও মাদক সমস্যা চরমে। নির্বাচিত হলে প্রথমে গুরুত্ব দিয়ে এসব সমস্যা সমাধান করে ৮ নম্বর ওয়ার্ডকে শান্তির একটি ওয়ার্ডে পরিণত করবো।

৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রাশেদুজ্জমান রাশেদ জানান, তাদের ওয়ার্ডে যিনি কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হবেন তাকে জলাবদ্ধতা, মাদক, ইভটিজিং ও ছিনতাই সমস্যা সমাধান করতে হবে। এই সমস্যাগুলো সমাধান করা গেলে ৮ নম্বর ওয়ার্ডে আর বড় কোনো সমস্যা থাকবে না।