Main Menu

হৃদয় ভেঙ্গে গেলো শুনে ডা: ইমদাদ ভাই আর নেই

Sharing is caring!

জুমআর দিন । লন্ডনে লকডাউন চলছে । বাসায় ছেলে মেয়েদের নিয়ে জোহরের জামাত আদায় করলাম । তারপর
খাবারের জন্য তৈরী হচ্ছিলাম । হঠাৎই ঢাকা থেকে ফোন করলেন আমিনুর রহমান ফিরোজ ভাই । কোন কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই জড়ানো গলায় বললেন , সালেহ ভাই ! ডা: ইমাদাদুল্লাহ খান আর নেই ।শুনে হৃদয়টা ভেঙ্গে গেলো ।

বরিশালের ইমদাদ ভাই । ডা: আবদুল্লাহ খান ভাইয়ের অনুজ ।
গতকালই আবদুল্লাহ ভাই জানালেন তাঁর ছোট ভাই ইমদাদ ভাই বরিশাল মেডিকেল ভর্তি হয়েছেন করোনা উপসর্গ নিয়ে। কিন্তু এতো তাড়াতাড়ি তিনি চলে যাবেন তা অবুঝ মন ভাবেনি ।
ডা: আবদুল্লাহ ভাইর সাথে যারা মিশেছেন তারা জানেন, মানুষকে মাতিয়ে রাখা তাঁর এক অনন্য গুন ।আবদুল্লাহ ভাইর কাছে গেলে জুনিয়র সিনিয়র সবাই বয়সের পার্থক্য ভূলে আপন বন্ধু হয়ে উঠে । ছোট ভাই ইমদাদুল্লাহ খানও বরিশাল শহর মাতিয়ে রাখতো । সদস্য হিসেবে আন্দোলন ও আনুগত্যে ছিলেন অন্যের জন্য অনুকরনীয় । ইমদাদও ভাই বেশ প্রাণবন্ত মেজাজের ছিলেন । কিন্তু সবসময় একটা ভাবুক ভাব তাঁর চেহারা টিকরে উপচে পড়তো ।
অনেক দিন দেখা নেই । কিন্তু ইমদাদ ভাইর চেহারাটা মাঝে মধ্যেই ভেসে উঠতো আমার মানস পটে ।

কেন উঠতো ? কারন তাঁর একটা বিশেষ বৈশিষ্ট আমার মনের গহীনে দারুন রেখা তৈরী করে দিয়েছিল । বরিশাল সফরে গেলে
সদস্য বৈঠক হতো । সে সব বৈঠকের বিশেষ আকর্ষনীয় বিষয় থাকতো মোনাজাত । একটু দীর্ঘ মোনাজাত হতো । মন উজাড় করে সবাই প্রভুর দরবারে সব কথা খুলে বলতেন । এ ক্ষেত্রে ইমদাদ ভাই ছিলেন অনন্য । হাত উঠাবার মিনিটের মধ্যেই তাঁর আকুল কান্না অন্যদেরও প্রভাবিত করতো ।এ কান্নার কান্নার গমক ছড়িয়ে ছড়িয়ে পড়তো সবার মধ্যে ।আজও তা আমার শ্রুতির কুহরে মাঝে মাঝে বাজে ।

যে লোকটি তাঁর প্রভুর দরবারে বিণীত স্বরে কাঁদতো ; আজ তিনি সবাইকে কাঁদিয়ে আচমকা চলে গেলেন । ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন ।

মহান আল্লাহর দরবারে আমার মোনাজাত ,তিনি যেনো ইমদাদ ভাইকে মাফ করে আখেরাতে চির সুখের জীবন দান করেন ।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*