Main Menu

হিফজ বিভাগে শিফট সিস্টেম চালুর দাবি

Sharing is caring!

মহাগ্রন্থ ঐশীবাণী পবিত্র আল-কোরআন। মানব জীবনের নিখুঁত সমাধান বর্ণিত হয়েছে যার নির্ভুল আয়াতের বর্ণিল প্রকাশশৈলীতে।

আসমানী এ মহাগ্রন্থের সংরক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছেন স্বয়ং আল্লাহতায়ালা। আর হাফেজে কুরআনরা পৃথিবীর বুকে এ কিতাব সংরক্ষণের বড় একটি মাধ্যম।

অতুলনীয় প্রচেষ্টা ও সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধায়নের মাধ্যমে হিফজ বিভাগের শিক্ষকরা ধারাবাহিকভাবে গড়ে তোলেন কোরআনের পাখিদের।

বহির্বিশ্বে এমন হাফেজে কুরআন তৈরি করার পদ্ধতি দারুণভাবে শিফট সিস্টেম পরিচালিত হয়। এতে একজন শিক্ষক তার পরিবারকে যথেষ্ট সময় দিতে পারার পাশাপাশি মানসিক প্রফুল্লতা নিয়ে আদর্শ ছাত্র গঠনে ভূমিকা রাখছেন।

কিন্তু বাংলাদেশে এ বিভাগের পঠন পদ্ধতি এখন পর্যন্ত চরম অমানবিক ধারায় চলে আসছে। দিনের ২৪ ঘণ্টা এ বিভাগের শিক্ষকদের কেবল এই সেক্টরে দায়িত্ব পালন করতে হয়। এজন্য তারা নিজেদের পরিবারকে সময় দিতে পারেন না, মানসিক কোনো প্রফুল্লতা গ্রহণের অবকাশও পাচ্ছেন না।

ফলে দেখা যায়, এসব শিক্ষকের ভেতরে একঘেয়েমি ভাব চলে আসে। যার ফলশ্রুতিতে বিভিন্ন সময়ে এসব শিক্ষকের হাতে শিক্ষার্থীদের মারধরের সংবাদসহ বিব্রতকর ঘটনা আমাদের সামনে আসে।

খুলনার তরুণ প্রজন্মের হাফেজে কুরআনরা এ ধারা পরিবর্তনের আওয়াজ তুলেছেন।

আসহাবুল কুরআন ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি মাওলানা ওমর ফারুক বলেন, হিফজ বিভাগের শিক্ষকদের চাকরির ক্ষেত্রে শিফট সিস্টেমের অধিকার বাস্তবায়নে বোর্ড কর্তৃক একটা নীতিমালা ঘোষণা করা সময়ের দাবি।

এ বিষয়ে দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম আলেমে দ্বীন মুফতি গোলামুর রহমান বলেন, হিফজ বিভাগের শিক্ষকদের চব্বিশ ঘণ্টার দায়িত্ব পালনের এ নিয়ম বাস্তবিক পক্ষে জুলুম। আমাদের উচিত দেশের বৃহৎ মাদ্রাসাগুলো এ নিয়ম পরিবর্তনে কার্যকর ভূমিকা রাখা। তাহলে সহজেই এ ধারা চালু করা সম্ভব।

তিনি তার মাদ্রাসায় অনতিবিলম্বে এ নিয়ম চালু করার অঙ্গীকার করেন।

খুলনার ঐতিহ্যবাহী দারুল উলুম মাদ্রাসার নায়েবে মোহতামিম, মুফতি হাফিজুর রহমান বলেন, শিফট সিস্টেমের এ নিয়ম একটি মানবিক দাবি। শুধু হিফজ বিভাগের জন্য নয়। যেসব মাদ্রাসায় জামাত বিভাগে এ নিয়ম চালু সেগুলোরও পরিবর্তন প্রয়োজন।

নতুবা একটা মানুষ কীভাবে তার পরিবারকে সময় দিবে। পাশাপাশি শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধির দাবিও জানান তিনি।

ইমাম পরিষদ খালিশপুর থানার সভাপতি মাওলানা কারামত আলী বলেন, খুলনার সব মোহতামিমদের নিয়ে সম্মিলিত উদ্যেগ নিয়ে এটা দ্রুত বাস্তবায়ন করা হোক।

হুফ্ফাজুল কুরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের খুলনা বিভাগীয় সিনিয়র সহ-সভাপতি হাফেজ মাওলানা কবীর হুসাইন ও কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষককারী মুস্তাকিম বিল্লাহসহ আরও অনেকেই এ দাবির যথার্থতা স্বীকার করে এটি বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রস্তাব দেন।

তারা সবাই তরুণদের এ দাবির সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে চলমান এ ধারা পরিবর্তন করে হিফজ বিভাগের শিফট সিস্টেম চালুর দাবি জানান।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*