Main Menu

স্মৃতির পাতায় কামরান

Sharing is caring!

স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে সিলেটের জমীনে বদর উদ্দিন আহমদ কামরানই একমাত্র ব্যক্তি যিনি সুদীর্ঘকাল জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি একমাত্র ব্যক্তি যিনি তাঁর জীবদ্দশায় সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষের সমর্থন বা ভোট সংগ্রহ করতে পেরেছেন। তিনিই সিলেট সিটি কর্পোরেশনের বিপুল ভোটে নির্বাচিত প্রথম মেয়র হয়ে ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছেন। তিনিই একমাত্র মেয়র যিনি দল মত,ধর্ম বর্ণ,ধনী গরীব,শত্রু মিত্র নির্বিশেষে সবাইকে কাছে টানতে পেরেছেন। যিনি চরম দু:খ কষ্ট,দুর্যোগ ঘনঘটায়ও বিচলিত না হয়ে ইনশাআল্লাহ সমাধান হবে বলতে পারতেন। তিনিই একমাত্র মেয়র যিনি একদম তৃণমূল থেকে লড়াই করে করে সিটির শীর্ষবিন্দু স্পর্শ করতে সক্ষম হয়েছিলেন। সুতরাং বদর উদ্দিন আহমদ কামরানকে বাদ দিয়ে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ইতিহাস কেঊ কোনদিন কল্পনাও করতে পারবে না।

সদ্য প্রয়াত সিলেটের সাবেক মেয়র মরহুম কামরান ভাইয়ের পজিটিভ দিক নিয়ে ছোট্ট আকারে কয়েকটি স্ট্যাটাস ফেসবুকে দিয়েছিলাম।
কিন্তু দুঃখের সাথে বলতে হয় কিছু ভাই ইনবক্সে ইনিয়ে বিনিয়ে সাহিত্যের মারপ্যাঁচে আমাকে বুঝাতে চাচ্ছেন কামরান সাহেবের এসব ভদ্রজনোচিত আচরণের অন্তরালে তাঁর উদ্দেশ্য ছিল সস্তা জনপ্রিয়তা আর ভোট কালেকশন।

প্রথম কথা হলো আমার স্ট্যাটাসগুলো অবশ্যই প্রমাণ করে মেয়র কামরান শুধু শুধু ভোটের জন্যই কারো সাথে সম্পর্ক রাখতেন না। সবার সাথে ভালো আচরণ তাঁর স্বভাবজাত স্টাইল এবং মজ্জাগত বিষয়ে পরিণত হয়েছিলো।

ফলে মরহুম কামরান আমাদেরকে খুব ভালো করে চিনতেন এবং জানতেন। বুঝতেন যে আমরা তাঁর ভোটার না তারপরও ভালো আচরণ করতেন।

২০১৩ সালে প্রকাশ্যে ২০ দলীয় জোটের প্রার্থীর পক্ষে টেলিভিশন মার্কার সমর্থনে শক্ত অবস্থানে ছিলাম আমরা। সারা নগরী চষে বেড়িয়েছি। তাঁকে ফেইল করানোর জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি। টেলিভিশনের জয় ছিনিয়ে আনতে মরিয়া হয়ে কাজ করেছি। এবিষয়টা জনাব কামরানের অজানা ছিলো না। তারপরও তিনি আমাদেরকে সাদরে গ্রহণ করেছেন।

২০১৮ সালে নিজের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে ২০ দলীয় জোটের প্রার্থীকে সমর্থন দেয়া এবং পাশ করাতে আমাদের ভুমিকার বিষয়টিও কামরান সাহেব জানতেন। তবুও তিনি ২০১৯ সালের ঈদের দিন আমাকে আগে হয়ে সালাম ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। আমার আব্বার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিয়েছেন।

জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাড়িয়ে কেউ অভিনয় করতে পারে না। ঢাকায় যাওয়ার সময় হাত তুলে দোয়া চাওয়ার মধ্যে আদৌ কোন রাজনৈতিক দূরভীসন্ধি কিংবা অভিনয় ছিলো না। এটা ছিলো নগরবাসীর প্রতি তাঁর নিঁখাদ ভালোবাসার স্মারক।

এগুলো শুধু তাঁর রাজনৈতিক কৌশলই নয়। সামাজিক দায়বদ্ধতা,পারিবারিক শিক্ষা এবং ইসলামী অনুশাসন থেকে ধার করাও বটে।

শত্রু মিত্র সবার সাথে “হুসনে সুলুক” বা ভালো আচরণ করার অসংখ্য উদাহরণতো রাসুলুল্লাহ সা: রেখে গিয়েছেন। কথায় কথায় মুচকি হাসি দেয়া,কথায় কথায় ইনশাআল্লাহ বলাও সুন্নত। আপনি আমি সেই সুন্নতের উপরও ঠিকমতো আমল করতে পারিনি।

আপনি রাসুলপ্রেমীর দাবিদার হয়েও যা পারেন নি কামরান সেটাই করে দেখিয়েছেন। এজন্য আপনার অনুতপ্ত ও শরমিন্দা হওয়া উচিত।

দ্বিতীয় বিষয় হচ্ছে আপনি হয়তো বুঝাতে চাইবেন যে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির সাথে কামরান সাহেবের সম্পৃক্ততা ছিলো।

তার জবাবে বলবো আপনি যাদের আইডল বা আদর্শ মনে করছেন সে মানুষগুলোর দুর্নীতির বিষয়ে আপনি অবগত নন। আপনি যদি আপনার আইডলদের চুরি ডাকাতির ফিরিস্তি জানতেন তাহলে আপনি নিজেই বমি করে দিতেন। এরা কামরানের মতো ক্ষমতা পেলে দুর্নীতির এক একটা পাহাড় গড়ে তুলতো।

সুতরাং অন্তত একথা বলতে আমার কোন সংকোচ নেই যে ছদ্মবেশী ঠকবাজ ধোঁকাবাজ ডাকাতগুলোর চেয়ে মরহুম বদর উদ্দিন আহমদ কামরান অনেক ভালো একজন মানুষ ছিলেন।

আল্লাহ্ সুবহানাহু তায়ালা তাঁর বান্দাকে মাফ করুন এবং জান্নাতের সম্মানিত স্থানে তাঁকে অধিষ্ঠিত করুন। আমীন।।

লেখক: সাধারন সম্পাদক, খেলাফত মজলিশ, সিলেট মহানগর






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*