Main Menu

স্ত্রীকে উত্যক্ত করায় অটোচালককে গাঁজা খাইয়ে হত্যা

Sharing is caring!

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার গোসাইপাড়া গ্রামের অটোবাইক চালক সেলিম হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার দুপুরে পাবনার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম খান এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এই হত্যাকাণ্ডের কাহিনী জানান।

প্রেস ব্রিফিং পুলিশ সুপার বলেন, সাঁথিয়া উপজেলার গোসাই পাড়া গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে সেলিম হোসেন একই উপজেলার বহলবাড়িয়া গ্রামের আল-আমিনের স্ত্রী শীলা খাতুনকে (২১) মোবাইলে উত্যক্ত করতো। এ ঘটনা শীলা তার স্বামীকে জানালে সে অটোচালক সেলিমকে হত্যা ও অটোবাইক ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ৯ জুন বিকালে ফোন করে সেলিমের অটোবাইক রিজার্ভ করে উপজেলার মাহমুদপুর নামক স্থানে অপেক্ষা করতে থাকে খুনিরা। পরে সেলিম অটোবাইক নিয়ে এলে গাড়িতে উঠে রাত ৯ টার দিকে পাবনা-নগরবাড়ি মহাসড়কের বহলবাড়িয়া কালুকাটা নামক স্থানে মাঠের মধ্যে নিয়ে গিয়ে চালক সেলিমকে গাজা সেবন করান হত্যাকারীরা। সেলিম নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়লে হত্যাকারীরা তাকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ও চাকু দিয়ে রগ কেটে হত্যা করেন।

পুলিশি তদন্ত ও তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে ১২ জুন ভোরে ঢাকার ধামরাইয়ের এক ইটভাটা থেকে প্রথমে সাঁথিয়ার বহলবাড়িয়া গ্রামের আবু সাইদ মোল্লার ছেলে রাসেল হোসেন (২২), সোলেমানের ছেলে রানা শেখকে (২১) আটক করে।

তাদের দেওয়া তথ্য অনুসারে, একইদিন বহলবাড়িয়া থেকে আল-আমিনের স্ত্রী শীলা খাতুন(১৮) ও ওয়াজেদ সরদারের ছেলে হোসেন আলীকে আটক করা হয়। এরপর নিহত সেলিমের অটোবাইক উদ্ধারে তৎপর হয় পুলিশ।

এক পর্যায়ে পুলিশ জানতে পারে, আতাইকুলা বাজারের ভাংড়ি ব্যবসায়ী বৃহস্পতিপুর গ্রামের রায়হান উদ্দিনের ছেলে দেলোয়ার হোসেনের কাছে খুনিরা ৩১ হাজার ৫শত টাকায় সেলিমের অটোবাইকটি বিক্রি করে এবং পরে পুলিশ ওই অটোবাইক উদ্ধার ও তাকে আটক করে।

আটককৃতদের মঙ্গলবার পাবনার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করলে আসামিরা ১৬৪ ধারায় নিজেদের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। এর সঙ্গে আরও দুইজন জড়িত আছে বলেও জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, গত ১০ জুন সকালে পাবনা-নগরবাড়ি মহাসড়কের সাঁথিয়ার বহলবাড়িয়া নামক স্থান সংলগ্ন কালুকাটা মাঠে সেলিমের লাশ দেখতে পায় স্থানীয়রা।

এ ব্যাপারে সেলিমের ভাই সাঁথিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকেই থানা পুলিশ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনে কাজ শুরু করেন।

সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসিফ মোহাম্মদ সিদ্দুকুল ইসলাম জানান, জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে অটোবাইক চালকের হত্যার রহস্য উদঘাটনের সব ধরণের চেষ্টা চালানো হয়। এ মামলার পাঁচজন আসামি আটক করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের আটকের চেষ্টা চলছে।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*