Main Menu

সিলেট মহানগরীর সঙ্গে কয়েকটি উপজেলার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

সিলেট মহানগর থেকে গ্রাম- সব জায়গাই জলমগ্ন। উজান থেকে নেমে আসা পাড়ারি ঢলে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এতে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সদরসহ ৬টি উপজেলার বিস্তীর্ণ জনপদ পানিতে ভাসছে। অন্যান্য উপজেলার নিম্নাঞ্চলও ডুবে গেছে। এতে পানিবন্দি হয়ে আছেন জেলার অন্তত ১৫ লাখ মানুষ। আকস্মিক এ বন্যায় তারা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। এরই মধ্যে শুকনো খাবারসহ বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ২৭৪টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলার প্রস্তুতি নিয়েছে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া বন্যা দুর্গত এলাকার জন্য ২৫ লাখ টাকা ও ২০০ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান। গতকাল বুধবার বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে এমনটাই জানিয়েছেন তিনি। সিটি করপোরেশন ও উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকেও আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

এদিকে সিলেটের প্রধান দুই নদী সুরমা ও কুশিয়ারার তলদেশ ভরাট হয়ে গেছে মন্তব্য করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, এই দুই নদী খনন করতে হবে। এ প্রধানমন্ত্রী খুবই আন্তরিক। আগামী বর্ষার আগেই নদীগুলো খনন করতে হবে। গতকাল দুপুরে নগরের চালিবন্দর এলাকার একটি আশ্রয়কেন্দ্রে বন্যা দুর্গতদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

তিন দিনেও পানি না নামায় সিলেট মহানগরীর সঙ্গে গোয়াইনঘাটসহ কয়েকটি উপজেলার যোগাযোগ এখনও বিচ্ছিন্ন রয়েছে। নগরীর বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা জলমগ্ন হয়ে আছে। এতে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন নগরবাসী। এছাড়া জেলার সীমান্ত জনপদ গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট, জকিগঞ্জ, কোম্পানীগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলাবাসী পানিবন্দি হয়ে আছেন। পানিতে ভাসছে সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলাও। এ উপজেলার সবকটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে গেছে। গতকালও সুরমা-কুশিয়ারা নদীতে পানি বেড়েছে। এতে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হচ্ছে। বেশ কয়েকটি নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। প্রায় ১৫০ হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এ ছাড়া বিয়ানীবাজার-সিলেট আঞ্চলিক সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় গতকাল সকাল থেকে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। ফলে সড়কে যানজট দেখা দিয়েছে। পানি ঢুকেছে প্রাথমিক, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বেশ কিছু কলেজের আঙিনায়। এ কারণে ছুটি দেওয়া হয়েছে বন্যাকবলিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।

সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সুরমা নদীর পানি সিলেট পয়েন্টে বিপদসীমার ২৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এটি ছিল ১০ দশমিক ৯০ মিটার। কুশিয়ারা নদীর পানি শেওলা পয়েন্টে বিপদসীমার ৪৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পানিসীমা ছিল ১৩ দশমিক ৪০ মিটার।

বিয়ানীবাজার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আহমেদ রাশেদুন নবী জানান, বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ওই উপজেলার প্রায় ১৫০ হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়ে আছে। সুরমা ও কুশিয়ারার একাধিক পয়েন্টে ডাইক ভেঙে হু-হু করে পানি ঢুকছে। ফলে নিম্নাঞ্চলের বহু বাড়ি ও এলাকা পানিতে নিমজ্জিত হয়ে গেছে।

বিয়ানীবাজারের ইউএনও আশিক নূর জানান, সুরমা-কুশিয়ার নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিয়ানীবাজারে ২৪টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। সিলেটের সুরমা, কুশিয়ারা ও সারি নদীর পানি ৫ পয়েন্টে বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে।

সুনামগঞ্জে পানি কমলেও ভোগান্তির শেষ নেই : সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, জেলার নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করলেও এখনও বিপদসীমার ওপরে রয়েছে। পাউবোর বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে দুপুর ১২টায় পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জ পয়েন্টে পানি ১৭ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ১৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তারা বলছেন, আগামী ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের কিছু স্থানে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।

এদিকে সরেজমিন সদর উপজেলার লালপুর, গৌরারং, হোসেনপুর, কুতুবপুর এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, অনেক ঘরের মধ্যে পানি ঢুকে পড়েছে। অনেক কাঁচা সড়ক পানিতে ধসে গেছে। ওইসব এলাকায় এখন যোগাযোগের মাধ্যম হয়েছে নৌকা। সেই নৌকা করে ধান নিয়ে রাস্তায় শুকাচ্ছেন স্থানীয়রা।

জেলা কৃষি কার্যালয়ের উপপরিচালক বিমল চন্দ্র সোম বলেন, গত তিন দিনের বৃষ্টিতে হাওরের অনেক পাকা ধান পানিতে ডুবে গেছে। এখন পর্যন্ত ৬৫০ হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়ে আছে। জেলা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম বলেন, পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে পানি আরও বাড়বে।