Main Menu

সিলেটে ইউপি নির্বাচনে ছাড় দেবে না বিএনপি

Sharing is caring!

বর্তমান সরকারের অধীনে আর কোন নির্বাচনে অংশ না নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। চলমান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও দলগতভাবে অংশ নিচ্ছে না দলটি। তবে দলীয় প্রতীকে অংশ না নিলেও সিলেটে আওয়ামী লীগকে খালি মাঠে গোল দিতে দেবে না বিএনপি। নির্বাচনে কোন ছাড় দিতে নারাজ বিএনপি রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত প্রার্থীরা। স্বতন্ত্র হিসেবে তারা অংশ নিচ্ছেন নির্বাচনে। নির্বাচনী প্রচারণায় দলের পদবীধারী নেতারা সরাসরি অংশ না নিলেও শেষ মুহুর্তে নিজেদের প্রার্থীদের পক্ষে অনানুষ্ঠানিকভাবে কাজ করার প্রস্তুতি সেরে রেখেছেন তারা।

প্রথম ধাপের ইউপি নির্বাচনে সিলেট জেলার কোন ইউনিয়ন পরিষদের নাম ছিল না। দ্বিতীয় ধাপে আগামী ১১ নভেম্বর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে সিলেট সদর উপজেলার ৪টি, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ৫টি ও বালাগঞ্জ উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে। এসব ইউনিয়ন পরিষদের বেশিরভাগেই একক প্রার্থী দিয়েছে আওয়ামী লীগ। নির্বাচনে একক প্রার্থী দিয়েও খুব সহজে পার পাচ্ছে না আওয়ামী লীগ। বিএনপি বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ না নেয়ার ঘোষণা দিলেও সেই সিদ্ধান্ত মানছেন না তৃণমূলের প্রার্থীরা। প্রায় সবকটি ইউপিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করেছেন বিএনপি নেতারা। কোন কোন ইউনিয়নে বিএনপির একাধিক নেতা প্রার্থী হয়েছেন। বাছাইকালে তাদের সবার মনোনয়ন নির্বাচন কমিশন কর্তৃক বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

সিলেট সদর উপজেলার ৪ ইউপির মধ্যে ৩টিতে বিএনপির পাঁচ জন স্বতন্ত্র হিসেবে প্রার্থী হয়েছেন। এর মধ্যে হাটখোলা ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম। জালালাবাদে চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন বিএনপি নেতা মো. আশিক আলী, মুজিবুর রহমান ও ইসলাম উদ্দিন এবং মোগলগাঁওয়ে প্রার্থী হয়েছেন বিএনপি নেতা ফজলু মিয়া।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নের চারটিতে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন বিএনপির ৭ নেতাকর্মী। এর মধ্যে ইসলামপুর পূর্ব ইউনিয়নে মো. আলমগীর আলম, ইছাকলস ইউনিয়নে মো. মকবুল আলী, আবুছাদ আবদুল্লাহ ও বর্তমান চেয়ারম্যান মো. কুটি মিয়া, উত্তর রণিখাই ইউনিয়নে মো. গিয়াস উদ্দিন এবং দক্ষিণ রণিখাই ইউনিয়নে শামস উদ্দিন শাহীন ও মো. শাহাব উদ্দিন।

এছাড়া বালাগঞ্জ উপজেলার ৬ ইউনিয়নের ৩টিতে প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির তিন নেতা। এই তিনজনই সিলেট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। এর মধ্যে দেওয়ানবাজার ইউনিয়নে উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক নাজমুল আলম, বালাগঞ্জ সদর ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান মো. আবদুল মুনিম এবং পূর্ব গৌরিপুর ইউনিয়নে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান প্রার্থী হয়েছেন।
তৃতীয় ধাপে আগামী ২৮ নভেম্বর সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলার ৬টি, জৈন্তাপুর উপজেলার ৫টি ও দক্ষিণ সুরমা উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এই তিন উপজেলার সবকটি ইউনিয়নেই নির্বাচনে প্রস্তুতি নিয়েছেন বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী।

সূত্র জানায়, কৌশলগত কারণে দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশ না নিলেও দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নিজেদের ঘরের প্রার্থীদের বিজয়ী করতে চাইছে বিএনপি। এজন্য দলের নেতাকর্মীদের নির্বাচনে অংশ নিতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে না। বরং গোপনে এলাকায় জনপ্রিয় ও শক্তিশালী প্রার্থীদের গোপনে নির্বাচনে প্রার্থী হতে উৎসাহ দেয়া হচ্ছে। দলীয় সূত্র জানায়, যেসব প্রার্থীর গুরুত্বপূর্ণ দলীয় পদ রয়েছে কৌশলগত কারণে তাদেরকে পদ থেকে সরে নির্বাচনে অংশ নেয়ার আহ্বান জানানো হতে পারে। নির্বাচনের পর আবার তাদেরকে বহাল করা হবে স্বপদে- এমন কৌশল নিয়ে রেখেছে বিএনপি।

নির্বাচনে দলের নেতাকর্মীদের প্রার্থী হওয়া প্রসঙ্গে সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আবুল কাহের শামীম বলেন, বিএনপি দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। এরপরও যদি কেউ প্রার্থী হন তবে দলীয়ভাবে তাদেরকে কোন সহযোগিতা করা হবে না। নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কেন্দ্র থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে সেটাই বাস্তবায়ন করা হবে।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*