Main Menu

সিলেট সিটি

সমস্যার শেষ নেই ১নং ওয়ার্ডে

হযরত শাহজালালের (রহ.) সংলগ্ন এলাকা নিয়েই গঠিত সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ১নং ওয়ার্ড। এ কারণে ১নং ওয়ার্ডের গুরুত্বও আলাদা। গুরুত্বপূর্ণ এই ওয়ার্ডটিতে যেমন উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে, তেমনি সমস্যারও শেষ নেই।

আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে ৯ প্রার্থী ভোট যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন। তাদের সকলেই বলেছেন, নির্বাচিত হলে ওয়ার্ডবাসীর উন্নয়নে কাজ করবেন।

সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, নগরীর দরগাহ মহল্লা, রাজারগলি, মিরের ময়দান, দর্শন দেউড়ী, মিয়া ফাজিলচিশত, ঝর্ণারপাড়, আম্বরখানা পশ্চিম ও চৌহাট্টা এলাকা নিয়ে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ১ নং ওয়ার্ড। গুরুত্বপূর্ণ এই ওয়ার্ডে ছিনতাই, বিশুদ্ধ পানি, মাদক, সড়ক বাতি, মশা ও ড্রেন ভর্তি আবর্জনা ওয়ার্ডবাসীকে বিষিয়ে তুলেছে।

ওয়ার্ডের মিরের ময়দান পয়েন্ট, পায়রা, দর্শন দেউড়ীতে প্রায়শ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। রয়েছে মাদকের শক্তিশালী সিন্ডিকেট। সকাল বেলা ঘণ্টা দেড়েক সিটি কর্পোরেশনের পানির সাপ্লাই দেয়া হলেও বাকী সময়ে আর পানি মিলেনি। রাজারগলি ও পায়রার সড়কে যানজট নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে।

১নং ওয়ার্ডে বিশ্বব্যাপী সুপরিচিত হযরত শাহজালাল (রহঃ) মাজার রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে শতবর্ষী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সিলেট সরকারী আলিয়া মাদ্রাসা, বাংলাদেশ বেতার সিলেট কেন্দ্র, ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি বিজড়িত কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ, সিভিল সার্জন কার্যালয়, জামেয়া ক্বাসিমুল উলুম দরগাহে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাদ্রাসা, ওসমানী মেডিকেল উচ্চ বিদ্যালয়, সিলেট সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কার্যালয়, মেডিকেল কলোনী ও ছাত্রাবাস।

ওয়ার্ডটিতে বিগত ৫ বছরে উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে বলে জানিয়েছেন বর্তমান কাউন্সিলর সৈয়দ তৌফিকুল হাদী। তিনি দাবী করেন, এই ওয়ার্ডে বর্তমানে কোন জলাবদ্ধতা নেই-নেই পানির সংকট। রাস্তার ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। ড্রেনগুলো বড় করা হয়েছে।

তার মতে, ওয়ার্ডে আপাতত কোন সমস্যা নেই। তবে একাধিক ভোটার তাদের বক্তব্যে ওয়ার্ডের নানা সমস্যার চিত্র তুলে ধরেন।

১নং ওয়ার্ডের মোট ভোটার সংখ্যা ৮ হাজার ৮৮১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৫ হাজার ১৪ জন ও ৩ হাজার ৮৬৭ জন হলেন মহিলা ভোটার। এ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে আনোয়ার হোসেন মানিক মিষ্টিকুমড়া প্রতীক, ইকবাল আহমদ রনি এয়ারকন্ডিশনার প্রতীকে, এজহারুল হক চৌধুরী মন্টু ঘুড়ি প্রতীকে, নিয়াজ মোঃ আজিজুল করিম করাত প্রতীকে, মুফতি কমর উদ্দিন কামু কাঁটা চামচ প্রতীকে, মোঃ মুবিন আহমদ ট্রাক্টর প্রতীকে, সলমান আহমদ চৌধুরী রেডিও প্রতীকে, সৈয়দ আনোয়ারুছ সাদাত টিফিন ক্যারিয়ার প্রতীকে ও সৈয়দ তৌফিকুল হাদী ঝুড়ি প্রতীকে ভোটের লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন।

প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীদের সাথে নির্বাচিত হলে ওয়ার্ডবাসীকে নিয়ে তাদের পরিকল্পনা কি এ বিষয়ে কথা হয়। তারা তাদের পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সৈয়দ আনোয়ারুছ সাদাত (এম এ সাদাত) জানান, নির্বাচিত হলে ওয়ার্ডবাসীর পরামর্শক্রমে সমস্যা চিহ্নিত করে সমস্যার সমাধান করবেন তিনি।

নিয়াজ মোঃ আজিজুল করিম বলেন, পুরো ওয়ার্ডে সমতার ভিত্তিতে বরাদ্দ দেয়ার পাশাপাশি উন্নয়নে সমঅধিকার দেয়া হবে। নাগরিকদের সেবা করাই মূল লক্ষ্য।

সৈয়দ তৌফিকুল হাদী বলেন, অতীতের ন্যায় আগামীতেও ওয়ার্ডবাসীর সেবা করে যাব।

আনোয়ার হোসেন মানিক বলেন, প্রতিটি ঘরে ঘরে ডিজিটাল সাইনবোর্ড স্থাপনের পাশাপাশি পানি-মশা সমস্যা দূর করব। যুব সমাজের কল্যাণে বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হবে।

এজহারুল হক চৌধুরী মন্টু বলেন, সকলের মতামত নিয়েই কাজ করব। উন্নয়ন হবে সমতার ভিত্তিতে।

মুফতি কমর উদ্দিন কামু বলেন, নিরাপত্তার জন্য সিসি ক্যামেরা স্থাপন, মাদক নির্মূল, ড্রেনেজ সমস্যা, যানজট নিরসনে কাজ করব।

ইকবাল আহমদ রনি বলেন, সমস্যা সমাধান করে কাজ করব।

মোঃ মুবিন আহমদ বলেন, নাগরিকদের সাথে আলাপ আলোচনার ভিত্তিতেই কাজ করব।

সলমান আহমদ চৌধুরী জানান, ছিনতাই-মাদক নির্মূলে পদক্ষেপ নেয়া হবে। মাজারের পবিত্রতা রক্ষা ও নিরাপত্তায় কাজ করবেন।

কাউন্সিলর প্রার্থীদের নিকট প্রত্যাশা তুলে ধরে ১ নং ওয়ার্ডের ভোটার মারুফা বেগম বলেন, আমরা এমন ব্যক্তি নির্বাচিত করব-যাকে কেবল ভোটের মৌসুমে নয় পুরো ৫ বছরই পাশে পাবো। যিনি পানির সংকট দূর করবেন, ছিনতাই রোধে পদক্ষেপ নেবেন, মাদক নির্মূল করে যুব সমাজকে রক্ষা করবেন।

১নং ওয়ার্ডের একাধিক ভোটার প্রার্থীদের নিকট এভাবেই তাদের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।