Main Menu

সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষতিপূরণ: অবশেষে গঠিত হলো ট্রাস্টি বোর্ড

Sharing is caring!

অবশেষে সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষতিপূরণের দাবি নিষ্পত্তির জন্য একটি ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করেছে সরকার। যদিও এটি পুরোপুরি কার্যকর হবে সড়ক পরিবহন আইন -২০১৮ এর বিধিমালা প্রণয়নের পরে।

এর আগে ক্ষতিগ্রস্ত ও তাদের পরিবার ক্ষতিপূরণ চাইতে পারবেন। তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব আবেদনের ব্যাপারে কাজ করা হবে বোর্ড পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার পর। তারা বলছেন, বিধিমালা তৈরিতে আরও সময় লাগবে। অর্থাৎ, ক্ষতিপূরণ পাওয়ার জন্য ক্ষতিগ্রস্তদের অপেক্ষা করতে হবে।

এ বিধিমালা সরকারি তহবিলের জন্য অর্থ সংগ্রহের পরিমাণ ও পদ্ধতি নির্ধারণ করবে এবং সেখান থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেবে।

১২ সদস্যের এ বোর্ডের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান। বাকিদের মধ্যে ৮ জন বিভিন্ন সরকারি সংস্থার, ২ জন পরিবহন নেতা এবং ১ জন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক।

তবে যেসব সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে সড়ক নিরাপত্তা এবং দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার জন্য কাজ করে আসছে, তাদের কেউ বোর্ডে নেই।

গতকাল বিআরটিএ চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার বলেন, ‘একটি সার্কুলার (গঠন সংক্রান্ত) দেওয়া হয়েছে। বোর্ড এখন কাজ শুরু করবে। বিধিমালা কার্যকর হলে পুরোদমে কাজ শুরু করা হবে।’

সংসদে সড়ক পরিবহন আইন -২০১৮ পাস হওয়ার প্রায় ৩ বছরেরও বেশি সময় পর এবং বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সদস্য সচিব নিয়োগের প্রায় ১ বছর পর কাজের এ অগ্রগতি দেখা গেল।

মোটরযান অধ্যাদেশ-১৯৮৩ এর আওতায়, সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু, আঘাত ও সম্পদের ক্ষতির জন্য ভুক্তভোগী বা তাদের পরিবারের সদস্যদের মোটর এক্সিডেন্ট ক্লেইমস ট্রাইব্যুনালে ক্ষতিপূরণ চাওয়ার সুযোগ ছিল।

কিন্তু ২০১৯ সালের নভেম্বরে সড়ক পরিবহন আইন -২০১৮ কার্যকর হওয়ার পর অধ্যাদেশটি বাতিল করা হয়। কিছু বিরল ক্ষেত্রে, ক্ষতিগ্রস্তরা ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে রিট পিটিশন করে।

প্রতি বছর শত শত মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত হয়। দেশের জন্য একটি উদ্বেগের কারণ এটি। নিরাপদ সড়ক চেয়ে ২০১৮ সালের জুলাইয়ের পর ২টি বড় আন্দোলন হয়। আন্দোলনের পর ওই বছরের সেপ্টেম্বরে সংসদে এ কঠোর আইনটি পাস করা হয়।

কিন্তু পরিবহন সমিতির চাপের কারণে সরকার আইনটি কার্যকর করতে ২ বছরেরও বেশি দেরি করে। সমিতি আইনের কিছু ধারা পরিবর্তন করার দাবি জানিয়ে আসছে।

সরকার বিধিমালা প্রণয়ন করতে না পারায় আইনটি বর্তমানে আংশিকভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে।

ট্রাস্টি বোর্ড

আইন অনুযায়ী, সরকার প্রয়োজনে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণ ও চিকিৎসার জন্য তহবিল তৈরি করবে। মোটরযান মালিক, পরিবহন সমিতি ও সরকারের কাছ থেকে এককালীন বা বার্ষিক ‘অনুদান/ চাঁদা’ নিয়ে এই তহবিল তৈরি করা হবে। এর পরিমাণ নির্ধারিত হবে বিধিমালায়।

তহবিল ও সংশ্লিষ্ট কাজ পরিচালনার জন্য সরকার একটি ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করবে বলে আইনে বলা হয়েছে।

গত বছরের ডিসেম্বরে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ সার্কুলার দেয়। এতে বিআরটিএর চেয়ারম্যান ও তার সচিবকে ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সচিবের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়।

গত রোববার বিভাগ পূর্ণ বোর্ড গঠনের জন্য আরেকটি সার্কুলার দেয় এবং এটি অনবিলম্বে কার্যকর হয়।

বোর্ডের সদস্যদের মধ্যে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, জননিরাপত্তা বিভাগ, আইন ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগ, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এবং হাইওয়ে পুলিশের প্রতিনিধি রয়েছেন।

অন্য ৩ সদস্য হলেন— বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক তানিয়া হক।

বিআরটিএ চেয়ারম্যান জানান, তারা এখন একটি অর্গানোগ্রাম তৈরিসহ বোর্ডের অন্যান্য কাজ করবেন। বিধিমালা কার্যকর হওয়ার পরে তারা তহবিল গঠনের জন্য অনুদান সংগ্রহ করা শুরু করবেন।

তিনি বলেন, ‘অনুদান ও ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ফি ও পদ্ধতি বিধিমালায় বিশদভাবে নির্ধারণ করে দেওয়া হবে।’

বিধিমালা

আইন পাস হওয়ার পর সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ বিআরটিএকে বিধিমালার খসড়া প্রণয়নের দায়িত্ব দেয়। ৪টি সময়সীমা চলে যাওয়ার পর বিআরটিএ একটি ‘আংশিক’ খসড়া জমা দেয়।

২০১৯ সালে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য খসড়াটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পর মন্ত্রণালয় এটি বাতিল করে দেয় এবং বিআরটিএকে একটি ‘সম্পূর্ণ’ খসড়া জমা দিতে বলে।

বিআরটিএ সম্পূর্ণ খসড়া বিধিমালা তৈরি করে গত বছরের সেপ্টেম্বরে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। মন্ত্রণালয় এ বছরের এপ্রিল মাসে খসড়াটি আবারও আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠায়।

যাচাই-বাছাইয়ের পর আইন মন্ত্রণালয় গত সেপ্টেম্বর কিছু প্রশ্নসহ এটি ফেরত পাঠায়। পরে এটি বিআরটিএর কাছে ফেরত পাঠানো হয় বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিআরটিএর এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা ওই প্রশ্নগুলোর বিষয়ে কাজ করছি। কাজ শেষ হওয়ার পর সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের কাছে বিধিমালা জমা দেবো। তারা সেটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে।’

এরপর আইন মন্ত্রণালয় সায় দিলে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় বিধিমালা কার্যকর করার জন্য একটি গেজেট বের করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সুতরাং, এতে আরেকটু সময় লাগবে।’






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*