Main Menu

সংগঠনের সভাপতি হয়েও শ্রমিকদের আন্দোলনের কিছুই জানেন না শাজাহান খান

শ্রমিকদের ডাকা ৪৮ ঘণ্টা ধর্মঘটে গণপরিবহন শূন্য হয়ে পড়েছে রাজপথ। সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ। অথচ এই সম্পর্কে কিছুই জানেন না দেশের শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর সবচেয়ে বড় মোর্চা সংগঠনের প্রধান নেতা, সরকারের নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান।

রোববার সকাল ৬টা থেকে সারা দেশে শুরু হওয়া এ পরিবহন ধর্মঘটকে এরই মধ্যে ‘নৈরাজ্য’ উল্লেখ করে সমালোচনা শুরু হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। শাজাহান খান বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি। এই সংগঠনটির ডাকেই সারা দেশে রোববার ও সোমবার ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়।

ধর্মঘট শুরুর প্রায় ছয় ঘণ্টা পর দুপুর ১২টার দিকে সচিবালয়ের নিজ দপ্তর থেকে বের হওয়ার সময় নৌমন্ত্রীকে ঘিরে ধরেন সাংবাদিকরা। ধর্মঘটের ব্যাপারে জানতে চাইলে পরিবহন শ্রমিকদের এই নেতা বলেন, ‘এ আন্দোলন সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। যে বিষয়ে কিছু জানা নেই, সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’

‘আপনি শ্রমিকদের কেন্দ্রীয় নেতা। আপনি চাইলে পরিবহন শ্রমিকরা আন্দোলন ছেড়ে কাজে যোগ দেবে। শ্রমিকদের আপনি এ ধরনের কোনো নির্দেশ দেবেন কি না—এ প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে এখন কোনো মন্তব্য করব না।’

এর পর সাংবাদিকরা বিভিন্ন প্রশ্ন করলে শাজাহান খান সব প্রশ্নই এড়িয়ে যান।

যদিও শ্রমিকরা যে আট দফা দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন, সেই দাবি এখনই পূরণ করা সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেছেন, ‘এই সরকারের হাতে যে সময় আছে, তাতে সড়ক পরিবহন আইনটি আর সংশোধনের কোনো সুযোগ নেই। শ্রমিক নেতারা আইনটি ভালোভাবে না পড়েই আন্দোলনে নেমেছেন।’

এর আগে অবশ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আইনটি সংশোধন করা বা শ্রমিকদের দাবি মেনে নেওয়া সম্ভব নয় বলে জানান। এ সময় তিনি আরো বলেন, ‘এ মুহূর্তে শুধু বলতে চাই, ধর্মঘট প্রত্যাহার করুন, মানুষকে কষ্ট দিয়ে কোনো লাভ নেই।’