Main Menu

লন্ডনে সম্মাননা পেলেন ব্রিটিশ-বাংলাদেশী সাংবাদিক কাজী জাওয়াদ

Sharing is caring!

প্রথিতযশা ব্রিটিশ-বাংলাদেশী সাংবাদিক কাজী জাওয়াদকে সাংবাদকিতায় বিশেষ অবদানরে স্বীকৃতিস্বরূপ ইউনাইটেড কিংডম বেঙ্গলি কনভনেশন (ইউকেবিসি) সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে । ইউকেবিসি বৃটেনে বসবসরত পশ্চিম বাংলার বাঙালিদের ৫৪টি সাংস্কৃতকি সংগঠনের ঐক্যজোট। গত ২৬ সেপ্টেম্বের ক্যামব্রিজের ক্যামবোর্ণ ভিলেজ কলেজে অনুষ্ঠিত ‘বিলেতের বুকে বাঙালিয়ানা’ র্শীর্ষক সম্মেলনে আনুষ্ঠানকিভাবে তাঁকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।

কাজী জাওয়াদ চার দশকরেও বেশি সময় ধরে সাংবাদিকতায় জড়িত। বাংলাদেশে থাকাকালীন তিনি সাপ্তাহকি বিচিত্রার প্রধান প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করে সুনাম অর্জন করেন। তাঁর লেখা বেশ কিছু প্রচ্ছদ প্রতিবেদন আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। সংবাদ রচনায় বস্তুনিষ্ঠতা ছিল তাঁর প্রতিবেদনের প্রধান বৈশিষ্ট। সামরিক শাসনের বধিনিষিধে উপক্ষো করে বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে এবং রাজনৈতিক প্রতিবেদন লিখে তিনি সাহসকিতার পরিচয় দেন। তখন তাঁর বিরুদ্ধে সামরিক সরকার মামলাও দায়ের করে।

১৯৯১ সালে তিনি বিবিসি বাংলা সার্ভিসের প্রযোজক পদে যোগ দিতে পাড়ি জমান যুক্তরাজ্যে। সেখানেও তিনি অনুষ্ঠান প্রযোজনা ও পরিকল্পনায় কৃতিত্বের পরিচয় দেন। তাঁর পরিকল্পনা অনুসারে বিবিসি বাংলা বিভিগের প্রবাহ অনুষ্ঠানের ৫০ ধরে প্রচলিত কাঠামো পুরোপুরি পরির্বতন করা হয়। তিনি ঢাকা থেকে প্রচারতি বিবিসির এফএম অনুষ্ঠানের কাঠামোও পরকিল্পনা করনে।

বিবিসির সঙ্গে চুক্তি শেষ হওয়ার পর তিনি যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগে কম্পিউটার বিশেষজ্ঞ হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করেন। বর্তমানে তিনি বার্মিংহামে অবসর জীবন যাপন করছেন এবং পুরোদমে লেখালেখিতে মনোনিবেশে করছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী স্বনামধন্য সাংবাদিক কাজী জাওয়াদ গবেষণার পাশাপাশি অনুবাদ সাহিত্যে কাজ করে চলেছেন। দিব্য প্রকাশ ও দৈনিক প্রথম আলোর সহযোগী প্রতিষ্ঠান প্রথমা প্রকাশন থেকে তাঁর কয়েকটি বই প্রকাশিত হয়েছ। তাঁর প্রকাশিত বইগুলোর মধ্যে অন্যতম— লিও তলস্তয় রচিত ‘হাজি মুরাদ’, নোবেলজয়ী কাজুও ইশিগুরোর লেখা উপন্যাস ‘বিনোদনের এক শিল্পি’, মুক্তিযুদ্ধে যোগদানের উদ্দেশ্যে যাত্রার কাহিনি – ‘একাত্তরের খোয়াবী যুদ্ধযাত্রী’ ও সংবাদপত্রে প্রকাশিত নিবন্ধ সংগ্রহ ‘বাহ কিন্দর হরে’।

সাংবাদিক ও লেখক পরিচয়ের পাশাপাশি কাজী জাওয়াদ ভাই একজন নিবেদিতপ্রাণ সংস্কৃতি অনুরাগী। যুক্তরাজ্যভিত্তিক র্শীষস্থানীয় সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন সৌধ ও রাধারমণ সোসাইটির সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে তাঁর উপস্থতি নিয়মিত। বার্মিংহামের সাংস্কৃতিক সামাজিক কর্মকান্ডে তাঁর সোৎসাহ উপস্থতি রয়েছে।

উন্নত রুচী ও রসবোধসম্পন্ন প্রজ্ঞাদীপ্ত প্রিয়জন কাজী জাওয়াদকে সম্মাননা প্রদানে ইউকেবিসির এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*