Main Menu

রিজার্ভ হতে ছাড়া হচ্ছে ডলার, টাকার পতন ঠেকাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগ

টাকার দরপতন ঠেকাতে বাজারে ডলার সরবরাহ বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রিজার্ভ থেকে বাজারে ডলার ছাড়া হচ্ছে। গত তিন মাসে প্রায় ১৮ কোটি ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এদিকে টানা তিন মাস স্থিতিশীল থাকার পর টাকার বিপরীতে বাড়তে শুরু করেছে ডলারের দাম। গেল সপ্তাহে এক ডলারে দাম বেড়েছে ৫ পয়সা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে প্রতি ডলার বিক্রি করছে ৮৩ টাকা ৮০ পয়সা দরে, যা এক বছর আগের তুলনায় ৩ টাকা বেশি। আমদানি দায় শোধ করতে নতুন এ হার বেঁধে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

তবে সাধারণ মানুষ, যারা ভ্রমণ করতে বিদেশে যাওয়ার কথা ভাবছেন, তাদের এক ডলার কিনতে হচ্ছে ৮৬ টাকার কাছাকাছি দরে।

ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, ভারতে রুপির মান ধারাবাহিক অবমূল্যায়ন হচ্ছে। তাতে বাংলাদেশে ডলারের আয় কমতে পারে। এজন্য রপ্তানি ও রেমিট্যান্স প্রবাহ ধরে রাখতেই ডলারের বিপরীতে টাকার মান কিছুটা অবমূল্যায়ন করা হয়েছে।

জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরেই টাকা-ডলার বিনিময় হার কিছুটা অস্থিতিশীল। ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় মূল্য কমে গেছে। এক মাস আগেও আন্তঃব্যাংক লেনদেনে এক ডলারের বিনিময় মূল্য ছিল ৮০ টাকা ৭৫ পয়সা। রোববার তা দাঁড়ায় ৮৩ টাকা ৮০ পয়সা। এমন পরিস্থিতিতে বাজার স্থিতিশীল করতে বাজারে ডলার বিক্রি করে চলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সূত্র অনুসারে, বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি মাসের প্রথম চার কার্যদিবসে চার কোটি ৫০ লাখ ডলার বাজারে ছেড়েছে। আগের দুই মাসে ছাড়া হয়েছিল সাড়ে ৫ কোটি ডলার। জুলাই মাসে ছাড়া হয়েছিল তার প্রায় দ্বিগুণ। ওই মাসে বাজারে ১০ কোটি ডলার বিক্রি করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

বিশ্বব্যাপী ডলার শক্তিশালী হয়ে উঠায় বেশ কয়েক মাস ধরেই উন্নয়নশীল অনেক দেশের মুদ্রা দর হারাচ্ছে। এর সঙ্গে রয়েছে কোনো কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ সংকট। চলতি বছরে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর স্থানীয় মুদ্রার ব্যাপক দর পতন হয়েছে। এর মধ্যে প্রতিবেশি দেশ ভারতের মুদ্রা রুপি চলতি বছরে প্রায় ১৭ শতাংশ দর হারিয়েছে। গত শনিবার এক ডলারের বিনিময় মূল্য ৭৪ রুপি উঠে যায়।
টাকাও অনেকটা অভ্যন্তরীণ কারণেই চাপে পড়েছে। গত কয়েক মাসে আমদানি ব্যয় অস্বাভাবিকরকম বেড়ে গেছে। কিন্তু তার বিপরীতে রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স প্রবাহ সেভাবে বাড়েনি। তাতে বাজারে ডলারের সরবরাহ কমে যাওয়ায় টাকার বিপরীতে তার বিনিময় মূল্য বেড়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চেষ্টা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিশেষ করে নির্বাচনের আগে টাকার বিপরীতে ডলারের মূল্য বেড়ে যেতে দিতে চায় না তারা। কারণ টাকার মূল্য কমে গেলে বা ডলারের মূল্য বেড়ে গেলে ভোগ্য পণ্যের মূল্য বেড়ে যেতে পারে। ভোগ্য পণ্যের চাহিদার একটি বড় অংশ আমদানি করে পূরণ করতে হয় বলে ডলারের মূল্য বাড়লে আমদানি খরচও বেড়ে যায়। তার প্রভাব পড়ে স্থানীয় বাজারে।

এদিকে আমদানি ব্যয়ের উচ্চ প্রবৃদ্ধির বিপরীতে রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স প্রবাহ ততটা না বাড়ায় দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও কমছে। এক বছরের ব্যবধানে রিজার্ভ ৩২ দশমিক ৯৩ বিলিয়ন থেকে ৩১ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। এই রিজার্ভ আমাদের ৫ মাসের আমদানি ব্যয় পূরণ করতে পারবে।

ইন্টারনেট মানি এক্সচেঞ্জ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার এক ডলারের বিনিময়ে ভারতীয় মুদ্রার মূল্য এসে দাঁড়িয়েছে ৭৪.০২ রুপি। চলতি বছরের শুরুতে (১ জানুয়ারি) যা ছিল ৬৩.৮৮ রুপি। এ হিসাবে ১০ মাসের ব্যবধানে রুপির মান কমেছে ১৫ শতাংশ।
এদিকে ডলারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রুপির বিপরীতে বাংলাদেশি মুদ্রাও শক্তিশালী হচ্ছে। তথ্য অনুযায়ী, প্রতি রুপিতে মান দাঁড়ায় ১ টাকা ১৪ পয়সা। তবে গত বৃহস্পতিবার প্রতি রুপিতে মান কমে ১ টাকা ১৩ পয়সায় নেমেছিল। অর্থাৎ ১১৩ টাকায় ১০০ রুপি পাওয়া গেছে। টাকার বিপরীতে রুপির এ দর এযাবৎকালের সর্বনিম্ন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৭ই অক্টোবরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ব্যাংকগুলোতে নগদ ডলারের মূল্য সর্বোচ্চ ৮৬ টাকা ৫০ পয়সায় উঠেছে। আমদানি পর্যায়ের ডলারের দর উঠেছে ৮৩.৮০ টাকায়। নগদ ডলারের মূল্য সবচেয়ে বেশি উঠেছে রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংক ও শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডে। ব্যাংক দুটিতে সোমবার প্রতি ডলারের দাম দাঁড়ায় ৮৬ টাকা ৫০ পয়সা। সাধারণ মানুষের কাছে নগদ টাকায় সবচেয়ে কম দামে ডলার বিক্রি করছে এনআরডি গ্লোবাল ব্যাংক। ব্যাংকটি নগদ ডলার বিক্রি করছে ৮৪ টাকা ৩০ পয়সায়।

চলতি বছরের ২৮শে জুন থেকে ৩০শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডলারের দাম একটি জায়গায় স্থিতিশীল রেখেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এ সময়ে বাজারের ডলারের সংকট সামাল দিতে ব্যাংকগুলোর কাছে ২০ কোটি ডলার বিক্রি করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।