Main Menu

সিলেট সিটি

মাদক-যানজটে অতিষ্ঠ ২নং ওয়ার্ডবাসী

ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মদন মোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, সিলেট জেলা স্টেডিয়ামসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক প্রতিষ্ঠানের কারণে নগরী ২নং ওয়ার্ডের পরিচিতি সর্বত্র। অথচ মাদক, যানজট, জলাবদ্ধতাসহ নানা সমস্যা নাগরিকদের এখন নিত্যসঙ্গী।

সড়ক-ড্রেনের উন্নয়ন হলেও থেমে নেই মশার উৎপাত। অভিযোগ আছে, রাজনৈতিক আশ্রয়ে চলে মাদকের কারবার।

২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ৩ প্রার্থীই জানিয়েছেন, নির্বাচিত হলে সমস্যাগুলো দূর করে ওয়ার্ডকে মডেল ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তুলবেন।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ২নং ওয়ার্ডে আগে কাঁচা রাস্তা থাকলেও বর্তমানে কোন কাঁচা রাস্তা নেই বলে জানান বর্তমান কাউন্সিলর রাজিক মিয়া।

তিনি জানান, এ ওয়ার্ডে কোন কাঁচা ড্রেন নেই। ৮ ফুটের সড়ককে ২৫ ফুটে উন্নীত করা হয়েছে। সড়ক বাতি স্থাপন করা হয়েছে। পানির কোন সংকট নেই। প্রতিটি পাড়া মহল্লায় ৬ ইঞ্চির পানির পাইপ স্থাপন করা হয়। মঙ্গলীছড়ার কাজ চলছে। কাজ সম্পন্ন হয়ে গেলে জলাবদ্ধতা চিরদিনের জন্য দূর হবে।

নগরীর জিন্দাবাজার, কাজী ইলিয়াস, জল্লারপাড়, বারইপাড়া, পুলেরপার, সরষপুর, কুড়িটোলা, দাড়িয়াপাড়া, মির্জাজাঙ্গাল, ক্ষেত্রীপাড়া ও চৌহাট্টা (পুরাতন মেডিকেল) এলাকা নিয়ে সিটি কর্পোরেশনের ২নং ওয়ার্ড।

এ সকল পাড়া মহল্লার লোকজনদের সাথে কথা বলে ওয়ার্ডের সমস্যার চিত্র পাওয়া গেছে। রাজনৈতিক আশ্রয়ে মাদকের কারবার চললেও এ নিয়ে কারো মাথাব্যথা নেই। শক্তিশালী মাদক সিন্ডিকেট দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই দাড়িয়াপাড়াসহ একাধিক পাড়ায় সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। যানজট তো দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করেছে। ছিনতাই-মশার উৎপাত তো আছেই। এ সকল যন্ত্রণায় অতীষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন।

এই ওয়ার্ডের মধ্যে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মদন মোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, সিলেট জেলা স্টেডিয়াম, সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যালয়, বিভাগীয় গণগ্রন্থাগার, শহর সমাজসেবা কার্যালয়, রসময় মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়, প্রাণী সম্পদ হাসপাতাল, নিম্বার্ক আশ্রম, মিউজিয়াম অব রাজাস ও গ্রীন ডিজএ্যাবল্ড ফাউন্ডেশন। কেবল সিলেট নয় এ সকল প্রতিষ্ঠানের খ্যাতি আছে দেশ জুড়ে।

২নং ওয়ার্ডে এবার ৩ জন লড়ছেন। এই ৩ জন ২০১৩ সালের নির্বাচনেও অংশ নেন। এর মধ্যে বিক্রম কর সম্রাট লাটিম প্রতীকে, মোঃ রাজিক মিয়া ঘুড়ি প্রতীকে ও রাসেল মামুন ইবনে রাজ্জাক রেডিও প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

২ নং ওয়ার্ডে মোট ভোটার ৬ হাজার ৭৫৪ জন। এর মধ্যে ৩ হাজার ৪৮ জন পুরুষ ও ৩ হাজার ৭০৬ জন হলেন মহিলা ভোটার।

কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ৩ প্রার্থী বিজয়ী হলে ওয়ার্ডের জন্য কি কি করতে চান তা জানিয়েছেন। তারা তাদের পরিকল্পনাও তুলে ধরেন।

মোঃ রাজিক মিয়া বলেন, বিগত দিনে অনেক কাজ করেছি। ২টি ড্রেনের কাজ বাকী রয়েছে। মঙ্গলীছড়ার কাজ এখনো শেষ হয়নি। এগুলোসহ ওয়ার্ডের উন্নয়নে কাজ করব।

বিক্রম কর সম্রাট বলেন, ‘সুষ্ঠু-সুন্দর ও পরিকল্পিত পরিবর্তন’ এই শ্লোগান নিয়েই কাজ করব। উন্নয়নে সমভাবে সকল পাড়াকে গুরুত্ব দেয়া হবে।

রাসেল মামুন ইবনে রাজ্জাক বলেন, ওয়ার্ডবাসীর নিরাপত্তায় ৭টি গেইট দেব। পুরো ওয়ার্ডকে সিসি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসা হবে।

মাদকের ফলে ওয়ার্ডবাসী অতিষ্ঠ বলেও ৩ প্রার্থীই স্বীকার করেন। তারা এও বলেন, নির্বাচিত হলে মাদক সমস্যা নির্মূল করবেন।

২নং ওয়ার্ডের ভোটার দীপালী রায় বলেন, ওয়ার্ডের প্রকৃত উন্নয়ন যিনি করবেন তিনিই আমাদের নিকট প্রিয়। তিনি যেন মৌসুম ভিত্তিক না হয়ে সবসময় আমাদের পাশে থাকেন-সুখে দুঃখের অংশীদার হন। বিশেষ করে ওয়ার্ডের সমস্যাগুলো দূর করেন। বাস্তবে যিনি কাজ করবেন তাকেই জনগণ বাহবা দেবে। আরো একাধিক ভোটার প্রার্থীদের নিকট তাদের প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন।