Main Menu

ব্রিটেনে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকায় রক্ত জমাট বেঁধে ৭ জনের মৃত্যু

Sharing is caring!

অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনা টিকা নেওয়ার পর রক্তজমাট বাঁধা সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে যুক্তরাজ্যের হাসপাতালগুলোতে যে ৩০ রোগী ভর্তি হয়েছিলেন, তাদের মধ্যে ৭ জন মারা গেছেন।

শনিবার দেশটির ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা মেডিসিন অ্যান্ড হেলথকেয়ার প্রোডাক্টস রেগুলেটরি এজেন্সি এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

শনিবারের বিবৃতিতে সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি, করোনা টিকা নেওয়ার পর রক্ত জমাট বাঁধা সমস্যার মুখে পড়ে যে ৩০ জন রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন, তাদের সাতজনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত হয়েছি আমরা।’

ব্রিটেনের স্বাস্থ্যবিভাগ জানিয়েছে, অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনা টিকা নেওয়ার পর মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে এ পর্যন্ত ৩০ জন রোগী রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়া সমস্যায় পড়ে ‍দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ২২ জন ভুগছিলেন সেরেব্রাল ভেনাস সাইনাস থ্রম্বসিসে। এ ধরনের সমস্যায় রোগীর মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বেঁধে যায়। বাজি ৮ জন দেহের অন্যান্য অংশের রক্তনালীতে রক্ত জমাট বাঁধা সমস্যা নিয়ে এসেছিলেন।

দেশটির স্বাস্থ্যবিভাগ আরো জানিয়েছে, এ পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের ১ কোটি ৮১ লাখ মানুষ অ্যাস্ট্রাজেনেকা টিকার ডোজ নিয়েছেন। তাদের মধ্যে রক্তজমাট বাঁধা সমস্যায় পড়েছেন ৩০ জন।

তবে ফাইজার-বায়োএনটেকের করোনা টিকা যারা নিয়েছেন, তাদের কারো দেহে রক্ত জমাট বাঁধার কোনো ঘটনা ঘটেছে— এমন তথ্য জানা যায়নি।

এদিকে, ব্রিটেনে রক্ত জমাট বাঁধা একাধিক রোগীর মৃত্যুর পর শনিবার ষাট বছরের কম বয়স্কদের জন্য অ্যাস্ট্রাজেনেকা টিকার ডোজ স্থগিত করেছে নেদারল্যান্ডস। দেশটির স্বাস্থ্যবিভাগ জানিয়েছে, এই টিকার ডোজ নেওয়ার পর মোট ৫ জন রোগী রক্ত জমাট বাঁধা সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন; তাদের মধ্যে একজন শুক্রবার মারা গেছেন।

ব্রিটেন ও নেদারন্যান্ডসে সাম্প্রতিক এই মৃত্যুর ঘটনায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইউরোপিয়ান মেডিসিন্স এজেন্সি (ইএমএ) এক বার্তায় জানিয়েছে, আগামী ৭ এপ্রিলের মধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) কাছ থেকে এ বিষয়ক একটি মূল্যায়ন আশা করছে তারা।

তবে বার্তায় এ ও বলা হয়েছে— ইএমএ এখনও বিশ্বাস করে, অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা নিরাপদ এবং ইউরোপের বিশেষজ্ঞরা বয়স, লিঙ্গ ও রোগীর স্বাস্থ্যগত মেডিকেল হিস্ট্রি বিবেচনায় এ টিকার কোনো নির্দিষ্ট ঝুঁকি খুঁজে পাননি।

চুড়ান্ত মেডিকেল ট্রায়ালের তথ্য অনুযায়ী, করোনার বিরুদ্ধে দেহে ৭৯ শতাংশ প্রতিরোধী শক্তি গড়ে তুলতে সক্ষম অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনা টিকা। দেশের গণটিকাদান কর্মসূচির জন্য ২০২০ সালের জুনে ১০ কোটি ডোজ অ্যাস্ট্রাজেনেকা ও ৩ কোটি ডোজ ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকার অর্ডার দিয়েছিল ব্রিটেন।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*