Main Menu

ব্রিটিশ রাজপরিবারে কুকুরের মৃত্যু সমাচার

Sharing is caring!

কুকুরের জন্য ব্রিটিশদের ভালোবাসার অন্ত নেই। বিশেষ করে কুকুরটি যদি হয় কোনো অভিজাত কিংবা রাজপরিবারের সদস্য, তাহলে তো কথাই নেই-ওই কুকুরের সামাজিক স্ট্যাটাস অনেক উপরে। এমনই একটি কুকুর ছিল ব্রিটেনের ভবিষ্যৎ রাজা প্রিন্স উইলিয়াম ও তার স্ত্রী ক্যাথরিন মিডলটনের। কুকুরটি গত ২২ নভেম্বর মারা যায়।

এ মৃত্যুসংবাদ ডেইলি মেইলসহ ব্রিটেনের মূলধারার সংবাদপত্রে ছাপা হয়েছে। প্রিন্স উইলিয়াম কুকুরটির সঙ্গে তার নিজের ও স্ত্রী-সন্তানের তোলা ছবি প্রতিদিন ফেসবুকে আপলোড দিয়ে এক সপ্তাহ ধরে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

তবে প্রিন্স উইলিয়ামের শ্যালক জেমস মিডলটন একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন, যা পড়ে আমাকে কিছু লিখতে হচ্ছে। আমরা যেমন আমাদের স্বজনদের মৃত্যুতে শোকগাথা লিখি, মিডলটনের ফেসবুক স্ট্যাটাসে এমন চিত্রই ফুটে উঠেছে। নিচে তার স্ট্যাটাসটির সাবলীল বাংলা তুলে ধরলাম।

‘গভীর দুঃখ-ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানাচ্ছি, আমার বড় বোন কেট মিডলটন ও তার পরিবারের প্রিয় কুকুর লুপো মারা গেছে। লুপো হল এলার ছেলে এবং জুলু, ইনকা ও লুনার ভাই। তার বয়স হয়েছিল ৯ বছর। লুপোর মৃত্যুতে আমার বোনের যে ক্ষতি হয়েছে তা কোনো কিছু দিয়েই পূরণ করার মতো নয়। যাদের কখনও কোনো কুকুর ছিল না, তাদের এই বেদনা উপলব্ধি করা কঠিন।

তবে যারা কুকুরকে ভালোবাসেন, তারাই প্রকৃত সত্য উপলব্ধি করতে পারেন। একটি কুকুর কেবল পোষা প্রাণীই নয়-এটি পরিবারের সদস্য, সেরা বন্ধু, অনুগত সহচর, একজন শিক্ষক ও চিকিৎসক।

২০১৭ সালে আমার প্রথম কুকুর টিলি মারা যাওয়ার পর বিগত কয়েক বছর অনেকেই আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে সমবেদনা জানিয়েছেন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই একটি কুকুরের মৃত্যুর সঙ্গে একজন মানুষের প্রিয় ব্যক্তিকে হারানোর তুলনা করা যায়।

আমি যখন আমার কুকুর হারানোর বেদনা বয়ে বেড়াচ্ছিলাম, তখন লুপোর আকস্মিক মৃত্যু আমাকে ভীষণ আবেগতাড়িত করে তুলেছে। কুকুরের জন্য কীভাবে দুঃখ করতে হয়, সে সম্পর্কে বইপত্রে তেমন কোনো নিয়মকানুন নেই।

তবে আমি তার জন্য প্রার্থনা করেছি, একটি মোমবাতি জ্বালিয়েছি এবং লুপোকে স্মরণে রাখতে তার মা এলাকে নিয়ে দীর্ঘক্ষণ রাস্তায় ঘোরাঘুরি করে এসেছি। লুপো শান্তিতে থেকো। টিলি ও মিনি (আগে মারা গেছে) তোমার জন্য অপেক্ষা করবে। তুমি সর্বদা আমাদের স্মরণে থাকবে এবং তোমার অবদান চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’

আমার লেখাটি এখানেই শেষ হতে পারত। কিন্তু প্রিয় সাহিত্যিক সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘পণ্ডিত মশাই’ গল্পটি মনে পড়ে যাওয়ায় খানিকটা লম্বা হয়ে গেল। গল্পের শেষাংশে পণ্ডিতমশাই তার ছাত্রদের প্রশ্ন করেছিলেন : “লাট সায়েবের তিন ঠ্যাঙা কুত্তার পিছনে মাসে পঁচাত্তর টাকা খরচ হয়। এইবার দেখি, কী রকম আঁক শিখেছিস। বলতো দেখি, যদি একটা কুকুরের পেছনে মাসে পঁচাত্তর টাকা খরচ হয়, আর সে কুকুরের তিনটে ঠ্যাং হয় তবে ফি (প্রতি) ঠ্যাঙের জন্য কত খরচ হয়? … বললুম, ‘আজ্ঞে পঁচিশ টাকা।’

পণ্ডিতমশাই বললেন ‘সাধু, সাধু।’ তারপর বললেন, ‘উত্তম প্রস্তাব। অপিচ আমি ব্রাহ্মণী, বৃদ্ধ মাতা, তিন কন্যা, বিধবা পিসি, দাসী একুনে আটজন। আমাদের সকলের জীবনধারণের জন্য আমি মাসে পাই পঁচিশ। এখন বল তো দেখি, … এই ব্রাহ্মণ পরিবার লাট সায়েবের কুকুরের ক’টা ঠ্যাঙয়ের সমান?’ আমি হতবাক।’’

আজ থেকে প্রায় ১০০ বছর আগে ভারতীয় উপমহাদেশ শাসনামলে একজন ব্রিটিশ লাট সাহেবের তিন ঠ্যাঙওয়ালা কুকুরের ভরণপোষণে যদি মাসে ৭৫ টাকা খরচ হয়ে থাকে, তাহলে এখন ব্রিটিশ রাজপরিবারের একটি কুকুর পুষতে মাসে কত খরচ পড়ে?

তাইসির মাহমুদ : সম্পাদক, সাপ্তাহিক দেশ, লন্ডন






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*