Main Menu

বিদায় হে আত্মার আত্মীয়

Sharing is caring!

কামরান ভাই আমার রক্তের কেউ না, উনার সাথে আমার আত্মীয়তার কোন সম্পর্ক নেই, আমি তার দলের সমর্থক ও না, তার রাজনৈতিক আদর্শ ও আমার চিন্তাধারা সম্পূর্ণ ভিন্ন। তবু তার মৃত্যুর খবরে বিমর্ষ হয়েছি! সারাক্ষণ তার কথা মনে হয়েছে। গতকাল রাতে একফোঁটা ঘুমোতে পারিনি। শেষরাতে সেহরী খেয়ে ফজরের নামাজ পড়ে মহান মাবুদের দরবারে দু’হাত তুলে তার জন্য দোয়া করেছি। কিন্তু কেনো? এরই নাম কী ভালোবাসা? আমি জানি আমার মতো সিলেটের হাজার হাজার মানুষ তার জন্য দোয়া করেছেন, কেউ নফল নামাজ পড়েছেন, কেউ বা খতম করেছেন, কেউ কেউ রোজা রেখেছেন। কতো জনের ভাগ্য এমন হতে পারে? আমি মনে করি মানুষের সাথে ভালো আচরণের পুরস্কার এটা।

কামরান ভাইয়ের সাথে আমার পরিচয় পেশাগত কারনে। সিলেটে সাংবাদিকতা করার সুবাদে এবং একটি লম্বা সময় তিনি পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান ও মেয়র থাকার কারনে নিউজের প্রয়োজনে তার সাথে যোগাযোগ হতো নিয়মিত। বিশেষ করে ওয়ান ইলেভেন পরিবর্তিত সময়ে তিনি জেলে যাওয়ার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত যোগাযোগ ছিলো। সিলেটে যারা সাংবাদিকতা করেছেন একমাত্র তারাই বলতে পারবেন মেয়র কামরান সাংবাদিকদের কতো আপন ছিলেন। বিশেষ করে ফটো সাংবাদিকরা সবসময়ই তার কাছে আলাদা কদর পেতেন।
কামরান ভাই যেদিন জেলে যান সে রাতের কথা সিলেটের সাংবাদিকদের সবারই জানা। সেদিন সারারাত তার বাসায় সাংবাদিকরা অবস্থানের পর আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ভোরে তাকে গ্রেফতার করেন।
এর পরে তিনি কারাগার থেকে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিলে তার পুত্র আরমান আহমদ শিপলু আমাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করতেন। নিয়ম করে প্রায় প্রতিদিনই একবার পত্রিকা অফিসে আসতেন। সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেন। আমার মনে আছে সেবার সিলেটের বেশিরভাগ সাংবাদিকই কিন্তু তার পক্ষ নিয়ে কাজ করেছিলেন।
২০০৭ সালে সিডরের পর সিলেট এমসি কলেজ ট্যুরিস্ট ক্লাবের পক্ষ থেকে ত্রাণ নিয়ে আমরা সিডর দুর্গত এলাকায় যাই। সেসময় দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত হয়ে তিনি কুমিল্লা কারাগারে। কুমিল্লা হয়ে আসার সময় কারাগারে তার সাথে দেখা করতে চেয়েছিলাম।
দৈনিক জালালাবাদ’র সম্পাদক, সিলেট প্রেসক্লাব’র তৎকালীন সভাপতি মুকতাবিস উন নূরের মাধ্যমে কারাগারে যোগাযোগ করে পরে জানা যায় ঐদিনই তাকে অন্য একটি কারাগারের স্থানান্তর করা হয়েছে। আমি যে তাকে দেখার চেষ্টা করেছিলাম এটা কিভাবে কিভাবে তিনি জানতে পেরে খুবই খুশি হয়েছিলেন।
কামরান ভাই দল মতের উর্ধে সিলেটের গণমানুষের নেতা হয়ে উঠেছিলেন একমাত্র তার অমায়িকক ব্যবহারের ধারা। সমাজের উচু থেকে নীচু সব শ্রেণী পেশার মানুষের অবাধ যাতায়াত ছিলো তার কাছে। মানুষ হিসেবে তিনি কেমন ছিলেন তা না জানলেও সাধারণ মানুষের কাছে তিনি ছিলেন ভালো মনের মানুষ।
কামরান ভাই আর অন্যান্য নেতাদের মাঝে পার্থক্য এখানেই যে, যে সময় তার দলের অন্যান্য বর্ষীয়ান নেতা মারা যাবার পর চারদিকে মানুষের গালির ফুলঝরি ঠিক সেই মুহূর্তেই কামরান ভাইয়ের জন্য দল মত নির্বিশেষে সবাই শোকে মুহ্যমান। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তার এই বান্দাকে ক্ষমা করুন এবং তার ট্রেডমার্ক চিরচেনা হাসিমুখে রাখুন। আমিন।

লেখক- নির্বাহী সম্পাদক, বাংলা মেইল






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*