Main Menu

বিজয়ের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি

Sharing is caring!

ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের প্রিয় এ দেশ। ১৯৭১ সালে স্বাধীন হওয়া বাংলাদেশের মাত্র ৭৮৬ কোটি টাকার বার্ষিক বাজেট আজ পরিণত হয়েছে ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটে।

১২৯ ডলার মাথাপিছ আয়ের দেশটির বর্তমান মাথাপিছু আয় ২০৬৪ ডলার। সময় পেরিয়েছে। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশও এগিয়েছে।

তাই যখন স্বাধীনতার ৪৯ বছর পূর্ণ হতে চলেছে, তখন দেশের সার্বিক অগ্রগতি ও কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের তুলনা করার সময় এসেছে। বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় বেড়েছে, অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে, বৈদেশিক বাণিজ্য বৃদ্ধি পেয়েছে, সম্পদ উৎপাদন ও আহরণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

তবে বাস্তবিক অর্থে একটি দেশের প্রকৃত সমৃদ্ধি বা অগ্রগতি নির্ভর করে বেশকিছু নিয়ামকের ওপর, যা সাধারণত পরিসংখ্যানের নজর কাড়তে পারে না। জনগণের জীবনযাত্রার বাস্তব রূপ, খাদ্য নিরাপত্তা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, মতপ্রকাশের অধিকার, গুণগত মানসম্মত বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা ও গবেষণা, কর্মসংস্থান প্রভৃতি প্রকৃত উন্নয়নের চিত্র প্রদর্শন করে।

স্বাধীনতার অর্ধশত বছরে দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মান যে উন্নত হয়েছে তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে জীবনযাত্রার প্রত্যাশিত মান অর্জন করা গেছে কি না এবং সর্বস্তরের মানুষের জীবনমানের উন্নতি হয়েছে কি না-সেটাই দেখার বিষয়। দেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। এ কৃতিত্ব সরকার ও কৃষিবিজ্ঞানীদের।

তবে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করলেও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা আজও সম্ভব হয়নি। ভেজাল খাবার খেয়ে প্রতিবছর তিন লাখের বেশি মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে ক্যানসারসহ বিভিন্ন মরণব্যাধিতে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে সরকার কর্তৃক বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ, আইন প্রণয়ন হলেও এর বাস্তবায়ন হতাশাজনক।

একটি দেশের উন্নয়নের অন্যতম মাপকাঠি হল দেশটির রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। বিদেশি বিনিয়োগ ও বাণিজ্য, অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন, রাষ্ট্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এর ওপর নির্ভরশীল। দেশে ক্রমাগত বিভাজনের রাজনীতি চর্চার ফলে জাতীয় ঐক্যের সৃষ্টি হয়নি। যখন কোনো দল ক্ষমতার বাইরে অবস্থান করে, সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা না করে ধ্বংসাত্মক রাজনীতির পথ গ্রহণ করে। আবার ক্ষমতার গদিতে যখন যে দল আরোহণ করে, তখন যেন বিরোধী দলকে দমন করাই হয় তার অন্যতম নীতি।

একটি দেশের প্রকৃত উন্নয়নের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি হল শিক্ষা। এটি পরিমাপের দুটি দিক রয়েছে। একটি পরিমাণগত, অন্যটি গুণগত। স্বাধীনতার পর থেকে আজ অবধি আমরা শিক্ষার পরিমাণগত দিকটিকেই আমাদের সাফল্যের মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করেছি। স্বাধীনতার সময় দেশে সাক্ষরতার হার ছিল ১৬.৮ শতাংশ, যা বর্তমানে ৭৪.৭ শতাংশে পরিণত হয়েছে। এতেই আমরা পরিতৃপ্ত হই।

পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হলেই দেশ ভেসে যায় কথিত এ+ এর আনন্দ বন্যায়। শিক্ষাব্যবস্থায় জিপিএর পরিমাণকে মানদণ্ড বিবেচনা করা নিরেট বোকামি ও জাতির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর বলে অভিমত দিচ্ছেন শিক্ষাবিদরা।

দেশের উচ্চশিক্ষাব্যবস্থার অবস্থা আরও করুণ। মান্ধাতা আমলের সিলেবাস দিয়ে চলছে পাঠদান। গবেষণা নেই, নেই কোনো সৃষ্টিশীলতা। স্বল্প গবেষণা হলেও অভিযোগ ওঠে নকলের। আবার চাকরির বাজারের সঙ্গে উচ্চশিক্ষা পদ্ধতির কোনো মিল নেই।

কর্মসংস্থান একটি দেশের উন্নয়নের অন্যতম ধারক ও বাহক। বাংলাদেশে বেকারত্বের হার নিয়ে প্রায়ই ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়। সরকারি তথ্যমতে, দেশে বর্তমানে বেকারের সংখ্যা প্রায় ২৭ লাখ। এর মধ্যে আবার ৪০ শতাংশ বেকার উচ্চশিক্ষিত। আর আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার মতে, বাংলাদেশে বেকারের সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি। ক্রমেই বাড়ছে এ সংখ্যা।

সার্বিকভাবে দেশের উন্নতি হয়েছে। তবে সমতাভিত্তিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। শহরকেন্দ্রিক উন্নয়নে ঝুঁকে পড়ার ফলে গ্রাম ও শহরের মধ্যে বিস্তর ফারাক সৃষ্টি হয়েছে। দেশে বর্তমানে রাজনৈতিক অস্থিরতা নেই। দুর্নীতি দমন এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করা সম্ভব হলে দেশ বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে-তাতে কোনো সন্দেহ নেই।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*