Main Menu

যুক্তরাজ্য ন্যাপ আয়োজিত শোক সভায় বক্তারা

বাংলাদেশের অভ্যুদ্বয়ে মোজাফফরের নাম থাকবে ইতিহাসের স্বর্ণালী অধ্যায়ে

Sharing is caring!

অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ ছিলেন আদর্শিক রাজনীতির বাতিঘর। তাঁর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ হারিয়েছে রাজনীতির সর্বশেষ বটবৃক্ষকে। তিনি ছিলেন নির্লোভ একজন রাজনীতিবিদ। স্বৈরশাসনের সঙ্গে তিনি কোনো দিন আপস করেননি। সুস্থ রাজনীতিচর্চার বিকাশে বাংলাদেশের প্রগতিশীল আন্দোলনের এই কিংবদন্তির আদর্শ তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া উচিত।
মুক্তিযুদ্ধকালীন মুজিব নগর সরকারের উপদেষ্টা, উপমহাদেশের বাম রাজনীতির অন্যতম পুরোধা, ন্যাপ সভাপতি অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের বর্নাঢ্য রাজনৈতিক জীবন ও কর্ম উদযাপন আমাদের প্রয়োজনেই জরুরী। বর্তমান রাজনৈতিক ক্রান্তিকালে রাজনীতিবিমূখ প্রজন্মকে রাজনীতিমূখী করতে হলে অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদের মত নেতাদের তাদের সামনে উপস্থাপন করতে হবে।

বুধবার ২রা অক্টোবর পূর্ব লন্ডনের মাইক্রোবিজনেস পার্ক কমিউনিটি হলে অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদের মৃত্যুতে যুক্তরাজ্য ন্যাপ আয়োজিত এক শোক সভায় বক্তারা উপরোক্ত মন্তব্য করেন।

সংগঠনের যুক্তরাজ্য সভাপতি আব্দুল আজিজ ময়নার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হাসান আহমদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত শোক সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ব্রিটেনে মুক্তিযুদ্ধের প্রবীন সংগঠক সুলতান শরীফ। বক্তব্য রাখেন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ফারুক, অধ্যাপক মোজাফফরের এক সময়ের রাজনৈতিক অনুসারী মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক আবু মুসা হাসান,
ন্যাপ নেতা সদর উদ্দিন, মুক্তিযাদ্ধা এম এ মন্নান, জাসদ নেতা সৈয়দ এনাম, টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র কাউন্সিলার আহবাব হোসেন, রুবি হক, জাসদ (রব) সভাপতি সমির উদ্দিন, তারিফ আহমদ, আ ,স ,ম মিসবাহ, প্রজন্ম ৭১ আহবায়ক বাবুল হোসেন, সাংবাদিক সৈয়দ আনাস পাশা, যুক্তরাজ্য জাসদের সভাপতি হারুনুর রশীদ, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবুল মনসুর, প্রগ্রেসিভ ফোরামের ড. মুখলেসুর রহমান মুকুল, ন্যাপ নেতা জোবায়ের আহমেদ, বাসদ নেতা গয়াসুর রহমান গয়াস, বিসিএ সভাপতি এম এ মুনিম, কবি মুজিবুল হক মনি, আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল আহাদ চৌধুরী, আলিমুজ্জামান ও যুক্তরাজ্য একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সাধারণ সম্পাদক জামাল খান
আর উপস্তিত ছিলেন লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব সভাপতি মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরী, সাংবাদিক সৈয়দ শাহ সেলিম, আহমদ ময়েজ , জোহানারা আক্তার, জালালাবাদ এসোসিয়েশন সভাপতি মুহিবুর রহমান, কানাডা প্রবাসি সৈয়দ হোসেন আহমদ, গোলাপগঞ্জ উপজেলা সোশ্যাল ট্রাস্ট এর-চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল বাছিত প্রমূখ ।
পবীত্র কোরআন তেলাওয়াত ও প্রয়াত নেতার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নিরবতা পালনের মাধ্যমে শুরু হওয়া শোকসভায় বক্তারা বলেন, ‘অধ্যাপক মোজাফফর ছিলেন রাজনীতির অহংকার প্রজন্মের শেষ প্রতিনিধি। সুবিধা বঞ্চিত জনগোষ্ঠির ভাগ্যন্নোয়নের লক্ষ্যে আজীবন লড়াই করেছেন তিনি।

মোজাফফর আহমেদ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত সংগ্রহে বিশ্বব্যাপী ছুটে বেরিয়েছেন, এমন মন্তব্য করে বক্তারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানের মিত্র মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে ভারতের সাথে তৎকালীন সোভিয়েট ইউনিয়নের মৈত্রী গড়তেও মূল ভূমিকা রেখেছেন অধ্যাপক মোজাফফর।

শোষনহীন সমাজের স্বপ্নদ্রষ্টা এই কালজয়ী রাজনীতিক ছিলেন তীব্র রসবোধ সম্পন্ন এমন মন্তব্য করে বক্তারা বলেন, রাজনীতিক সভা সমাবেশে যখন কথা বলতেন, তখন তাঁর প্রতিটি রসাত্মক কথাই প্রচন্ডভাবে আঘাত করতো সমাজের অসঙ্গতিগুলোকে। নিজের স্বগোত্রিয়দের কটাক্ষ করে তিনি বলতেন, ‘কে বলেছে আমরা রাজনীতিকরা ত্যাগ করতে জানিনা? অন্তত আর কিছু না হোক দল ও মল ত্যাগতো আমরা অহরহই করছি’। তাঁর কন্ঠে সব সময় উচ্চারিত হতে মানুষের কথা, বক্তৃতায় তিনি চিহ্নিত করে দেখিয়ে দিতেন সমাজের সব অসংগতি।
বক্তারা বলেন, আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাসে অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ ছিলেন এক কিংবদন্তীতূল্য নাম। ‘অধ্যাপক মোজাফফর, মার্কা তাঁর কুঁড়েঘর’। ‘কুড়েঘরের মোজাফফর’ নামে সারা দেশে ছিলো তাঁর ব্যাতিক্রমী এক পরিচিতি। শোষনহীন একটি সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে তিনি লড়ে গেছেন আজীবন। বাঙালির মুক্তিসংগ্রামের প্রতিটি বাঁকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের পরও কোনদিন তিনি এর বিনিময় কিছু গ্রহন করেননি। কয়েক বছর আগে মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাঁকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রিয় পুরস্কার ‘স্বাধীনতা পদক’-এ ভূষিত করলেও সবিনয়ে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। বলেন, ‘কোন কিছু পাবার লক্ষ্যে আমি রাজনীতি করিনি, দেশ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই রাজনীতি করেছি’।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*