Main Menu

বরিসের নয়া ব্রেক্সিট প্রস্তাব – সন্তুষ্ট নয় ইইউ

Sharing is caring!

ব্রেক্সিট পরিকল্পনা নিয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের নয়া প্রস্তাবে সন্তুষ্ট হতে পারেনি ইউরোপীয় ইউনিয়ন। সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্ক শুক্রবার বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করছে। এ প্রস্তাবে আমরা সন্তুষ্ট নই। তবে জনসনের এই প্রস্তাব খোলামনে যাচাই-বাছাই করার আশ্বাস দিয়েছেন ডোনাল্ড টুস্ক। খবর বিবিসি ও গার্ডিয়ান অনলাইনের।

ব্রিটেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বের হয়ে যাওয়ার পরও ব্রিটেন যেসব সুবিধা নিতে চায় সে ব্যাপারে সংশয় প্রকাশ করেছেন ডোনাল্ড টুস্কসহ ওই অঞ্চলের আরও কিছু নেতা। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের ইউরোপ বিষয়ক উপদেষ্টা ডেভিড ফ্রর্স্টের সঙ্গে ব্রাসেলসে ইইউ নেতাদের বৈঠকের পর এই তথ্য এলো। ব্রিটেনের ইইউ ত্যাগের চূড়ান্ত তারিখ নিয়ে আলোচনার জন্য ডেভিড ফ্রর্স্ট ব্রাসেলসে যান। বরিস জনসনের প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে- ব্রেক্সিটের পরও উত্তর আয়ারল্যান্ড খাদ্য, শিল্পজাত পণ্য ও পশু সম্পদের ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একক বাজার ব্যবস্থার মধ্যেই থাকবে। কিন্তু যুক্তরাজ্যের অন্য অংশের মতোই তারা শুল্ক ইউনিয়ন থেকে বের হয়ে যাবে। অপরদিকে আয়ারল্যান্ড ও উত্তর আয়াল্যান্ডের সীমানার (ব্যাকস্টপ) কি হবে সেটি আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। বরিস জনসনের প্রস্তাব হলো উত্তর আয়ারল্যান্ড ইউরোপীয় ইউনিয়নের অংশ থাকতে চায় কিনা সে ব্যাপারে সেখানকার সংসদের প্রতি চার বছর পরপর সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা থাকবে। আইরিশ প্রধানমন্ত্রী লিও ভারাদকার জনসনের এই নয়া প্রস্তাবকে স্বাগত জানালেও তিনি বলছেন, এতে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে ঘাটতি রয়েছে। বৃহস্পতিবার বরিস জনসন বলেন, ৩১ অক্টোবরের মধ্যে নতুন সমঝোতায় পৌঁছানোর সময় ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই ইইউ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দ্বিমত ঘোচাতে তিনি সত্যিকার অর্থেই চেষ্টা করেছেন। জনসন এই তারিখের আগেই ইইউ ছেড়ে যাওয়ার প্রতিজ্ঞা করলেও যুক্তরাজ্যের এমপিরা পার্লামেন্টে এমন আইন পাস করে ফেলতে পারেন যার ফলে তাকে ব্রেক্সিট বাস্তবায়নে দেরি করা লাগতে পারে। যদি না তার আগেই তিনি সফল একটি চুক্তি করতে পারেন। যুক্তরাজ্য সরকার বলছে, তারা ১৭ অক্টোবরের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছতে চান। ইইউ কর্মকর্তারা বলছেন, তারা ইতোমধ্যেই বরিস জনসনের পরিকল্পনায় সমস্যা চিহ্নিত করেছেন। বিশেষ করে আয়ারল্যান্ড ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের মধ্যে সীমানার বিষয়টি সমাধান করতে না পারা। তারা ইইউ একক ব্যাজার ব্যবস্থার জন্যও হুমকি দেখতে পাচ্ছেন বলে মনে করা হচ্ছে। ইইউ-এর প্রধান সমন্বয়ক মাইকেল বার্নিয়ার বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় কূটনীতিকদের বলেন, বরিস জনসনের ব্রেক্সিট পরিকল্পনায় অসংখ্য প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে ব্যাকস্টপ নিয়ে তিনি যা বলেছেন, তা অগ্রণযোগ্য। ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টুস্ক শুক্রবার এক টুইটে বলেন, আমি আয়ারল্যান্ড ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি আরও লিখেছেন, বরিস জনসনের প্রতি আমার বার্তা হলো আমরা তার দেয়া প্রস্তাব খোলা মনেই যাচাই করব। তার প্রস্তাব সন্তোষজনক নয়। ব্রিটেনের ইইউ ত্যাগ করার বিষয়ে আয়ারল্যান্ড ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীরা এখন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় রয়েছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান জ্যাঁ ক্লদ জাংকার বলেছেন, যুক্তরাজ্যে চুক্তির ব্যাপারে বেশ এগোলেও আরও অনেক কাজ বাকি। তবে এই মুহূর্তে বরিস জনসনের প্রস্তাব মানার বিপক্ষে তিনি। আর ইইউ ব্রেক্সিট বিষয়ক সমন্বয়ক গাই ভারহফস্টাডা সরাসরি বলেছেন, এই পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করা সম্ভব নয়। ইইউ পার্লামেন্টের ব্রেক্সিট কমিটি বলেছে, আগে যা কথা হয়েছে নতুন পরিকল্পনা তার ধারে কাছেও নেই।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*