Main Menu

ফ্রান্সে কৃষ্ণাঙ্গ সাংসদকে ক্রীতদাসের সঙ্গে তুলনা

Sharing is caring!

ফ্রান্সের এক কৃষ্ণাঙ্গ নারী সংসদ সদস্যকে ক্রীতদাসের সঙ্গে তুলনা করে দেশটির এক অতি-রক্ষণশীল পত্রিকা। ওই সাংসদকে চেনে বাঁধা অবস্থায় একটি ছবি দিয়ে একটি প্রবন্ধ ছেপেছে তারা। এই ঘটনার প্রতিবাদে হওয়া বিক্ষোভে অংশ নেন ফরাসী প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরোঁও। খবর এনডিটিভির।

শনিবার থেকে শুরু হয়েছে এই বিক্ষোভ। প্রেসিডেন্টের দপ্তর থেকে বলা হয়েছে, বামপন্থী দল ফ্রান্স আনবাউডের নেত্রী ড্যানিয়েলে ওবোনোকে নিয়ে যা হয়েছে তার তীব্র নিন্দা করছেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরোঁ। কোনো ধরনের বর্ণবৈষম্যকে সমর্থন করেন না তিনি।

ফ্রান্সের অতি-রক্ষণশীল ও চরম দক্ষিণপন্থী পত্রিকা ভ্যালেওর্স অ্যাকচুয়েলস একটি আর্টিকলে ওবোনোকে চেন দিয়ে বাঁধা অবস্থায় দেখিয়েছে। তার গলায় লোহার কলার পরানো হয়েছে। ঠিক যেভাবে ক্রীতদাসদের আগেকার দিনে বেঁধে রাখা হত, সেভাবেই রাখা হয়েছে ওই পার্লামেন্ট সদস্যকে। এই ছবির সঙ্গে একটি সাত পাতার প্রবন্ধ ছেপেছে তারা।

এই ঘটনার পর থেকেই ওই পত্রিকার বিরুদ্ধে শুরু হয়েছে বিক্ষোভ। ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী জিন ক্যাস্টেক্স জানিয়েছেন, ওই পত্রিকার নিন্দা করছেন তিনি এবং ওবোনোর সঙ্গে সরকারের সব রকমের সমর্থন রয়েছে। আইনমন্ত্রী এরিক দুপোঁ- মোরেত্তি জানিয়েছেন, ‘কেউ কারও বিরুদ্ধে কিছু লিখতেই পারে, তবে সেটা আইনের মধ্যে থেকে। তেমনই কেউ কোনো কিছুকে ঘৃণা করতেই পারে। আমি এই কাজকে ঘৃণা করছি’।

এই ঘটনার পরে মুখ খুলেছেন ড্যানিয়েলে ওবোনোও। তিনি টুইট করে বলেছেন, ‘চরম দক্ষিণপন্থী—ঘৃণ্য, বোকা ও হিংস্র। অর্থাৎ নিজের মতোই।’

বর্ণবৈষম্যের বিরোধী সংস্থা এসওএস রেসিজম জানিয়েছে, আফ্রিকান ও আরব রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে এই ধরনের মন্তব্য হয়েই চলেছে। আইনগতভাবেই এর মোকাবিলা করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।

এই ঘটনার শুরুতে দোষ স্বীকার না করে বরং পত্রিকাটি জানায়, ওবোনোকে নিয়ে এই গল্প সম্পূর্ণ কাল্পনিক। এটা নোংরা নয়। তবে পরে অবশ্য এই ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়েছে ওই পত্রিকা।

আমেরিকায় পুলিশের হাতে কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর পরেও সেখানকার আন্দোলন দেখে জুন-জুলাই মাসে অনেক বিক্ষোভ হয়েছে ফ্রান্সে। তাদের প্রধান দাবি ছিল কৃষ্ণাঙ্গদের জীবনেরও মূল্য রয়েছে। তাই বর্ণবৈষম্য বন্ধ হোক। ফ্রান্সে বিভিন্ন দেশ থেকে আসা মানুষের সংখ্যা নেহাত কম নয়। তার মধ্যে একটা বড় অংশ কৃষ্ণাঙ্গ।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*