Main Menu

প্রথম ধাপে করোনার টিকা নেননি যে তারকারা

Sharing is caring!

সম্ভাব্য মধ্যম আয়ের দেশ, ভাগ্যের শিকেয় আদৌ কি মিলবে করোনার টিকা- প্রশ্নটি বছরের শুরুর দিকে কিংবা তারও আগে থেকে চিকন ঘামের কারণ হয়েছে সর্বস্তরে।

তবে চলতি বছরের প্রথম সপ্তাহেই সে আশংকা কেটে যায়। ৫ জানুয়ারি প্রথম টিকা গ্রহণ করে একরকম তাক লাগিয়ে দেন তারকা নওশীন নাহরিন মৌ। সেটা অবশ্য সম্মুখ যোদ্ধা কোটায়, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে! কারণ, দেশটির একটি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন ঢাকার এই ডাকসাইটে সঞ্চালক-অভিনেত্রী।

৫ জুন নওশীনের মাধ্যমে শুরু হওয়া প্রবাসী তারকাদের এই মিশনে সামিল হয়েছেন সেখানে থাকা আদনান ফারুক হিল্লোল, রিচি সোলায়মান, তিন্নি, টনি, প্রিয়া ডায়েস প্রমুখ।

তবে বাংলাদেশের দিকে ফিরলে, প্রথম টিকা গ্রহণের খবর ও ছবি আসে কিংবদন্তি অভিনেত্রী সুবর্ণ মুস্তাফার কাছ থেকে। নওশীনের মতো ‘কিন্তু’ রয়েছে এখানেও। কিংবদন্তি এই অভিনেত্রী টিকা গ্রহণ করেন সংসদ সদস্য কোটায়। সাধারণ কোটায় এই তালিকায় রোল নম্বর এক অর্জন করেন রক তারকা জেমস।

টিকার প্রথম ডোজের শেষটা হলো সেরা নায়ক শাকিব খানের মাধ্যমে, গত ৫ এপ্রিল।

গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত চলা ভ্যাকসিনের প্রথম কিস্তি নিলেন শোবিজের কোন তারকা- সেই অনুসন্ধানই করা হয়েছে বাংলা ট্রিবিউনের পক্ষ থেকে। তবে খোঁজ নিয়ে দেখা গেল, অনেক তারকাই টিকা নিতে অনীহা প্রকাশ করছেন এখনও। কারণ, বিশ্বাসের ঘাটতি কিংবা আরও ভালো ভ্যাকসিনের অপেক্ষায় আছেন তারা। অনেকে আবার বিদেশ গিয়েও ভ্যাকসিন নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন বলে খবর মিলছে।

৮ এপ্রিল থেকে দেশে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ডোজের ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু হয়েছে। এবার দেখে নেওয়া যাক, ২য় ডোজ শুরু হওয়া পর্যন্ত কারা কারা আস্থা রাখলেন অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিনের ওপর।

দেশে করোনা টিকা তারকাদের মধ্যে প্রথম নেওয়ার নজির রাখেন সুবর্ণা মুস্তাফা। তবে শুরুতে নিবন্ধন অ্যাপে বয়স সময়সীমা ও সার্ভার জটিলতায় অনেকেই সুযোগ পাননি বা সাহস দেখাননি। সংসদ সদস্য কোটায় শুরুতেই সুবর্ণা মুস্তাফা সে সুযোগ পেয়েছেন বলে অনেকেই ধরে নিয়েছেন।

সংসদ কর্মচারী ও মহিলা সাংসদদের জন্য সংসদ ভবন চত্বরে কোভিড ১৯ ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানেই ৮ ফেব্রুয়ারি টিকা নেন সুবর্ণা। তার নেওয়ার পরদিন নাট্যজন ও সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর এটি নেন। তবে কোনও বিশেষ কোটার বাইরে দেশে প্রথম টিকা গ্রহণ করেন রক লিজেন্ড জেমস।

১০ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ নাগরিকের কাতারে দাঁড়িয়ে এটি নেন নগরবাউল। বিষয়টি নিয়ে বেশ প্রশংসাও পান এ তারকা।

মূলত এরপর থেকে অনেক তারকাকে নিজ আগ্রহ ও সচেতনতায় টিকা নিতে দেখা গেছে।

শোবিজ অঙ্গনের অন্যতম জুটি হিসেবে ধরা হয় নায়ক আলমগীর ও গায়িকা রুনা লায়লাকে। রোমান্টিক এ জুটি ভালোবাসা দিবসেই (১৪ ফেব্রুয়ারি) টিকা গ্রহণ করেন! যা অন্যরকম একটি বার্তা ছড়িয়ে দেয় সবখানে।

আরেক ভালোবাসার জুটি নাঈম-শাবনাজের টিকা নেওয়া নিয়েও বেশ আলোচনা হয়। এছাড়া এটি নিয়েছেন ববিতা, মামুনুর রশীদ, তারিক আনাম খান-নিমা রহমান, কুদ্দুস বয়াতি, মৌসুমী-ওমর সানী, জুলফিকার রাসেল, তাহসান খান, আঁখি আলমগীর, মাসুম রেজা, শহিদ, ফয়সাল আহসান, ফেরদৌস ওয়াহিদ, চঞ্চল চৌধুরী, মিশু সাব্বির, তারিন, অরণ্য আনোয়ার, কবির বকুল-দিনাত জাহান মুন্নী, জিতু আহসান, ববিতা, চম্পা, আসিফ আকবর, এসকে সাহেদ আলী পাপ্পু, মিষ্টি জান্নাত, শওকত আলী ইমন, সুইটি, আবদুন নূর তুষার, কাজী হায়াৎ, হাসান মাসুদ, সঞ্জয় সমদ্দার, এলিটা করিম-আশফাক নিপুণ, দীপংকর দীপন, গোলাম সোহরাব দোদুল, নাজনীন হাসান চুমকি, সাগর জাহান, মিজানুর রহমান আরিয়ান, সাবেরী আলম, আরমান খান, ফখরুল বাশার-মিলি বাশার, শুভ্র খান-শ্রাবণী ফেরদৌস, রবি চৌধুরী, খোরশেদ আলম খসরু, হাসান আবিদুর রেজা জুয়েল, আনজাম মাসুদ, শান্তা ইসলাম, আলিফ আলাউদ্দিন-কাজী ফয়সাল, অরুণ চৌধুরী-চয়নিকা চৌধুরী প্রমুখ।

উল্লেখযোগ্য তারকাদের টিকা গ্রহণ- উপরে জেমস, আলমগীর-রুনা, শাকিব, বয়াতি, নিম্নে চঞ্চল, নূর, সুবর্ণা, বাবু, অধরা ও তাহসান

এর বাইরে আরও অনেকেই নিয়েছেন টিকা। তবে সমপরিমাণ তারকা-শিল্পী এখনও নিজেদের টিকার বাইরে রেখেছেন। বিশেষ করে জয়া আহসান, আফরান নিশো, পরীমনি, জিয়াউল ফারুক অপূর্বদের মতো শীর্ষ তারকাদের কাছ থেকে টিকা নেওয়ার খবর এখনও পাওয়া যায়নি।

তবে এরমধ্যে অনেকেই টিকার প্রতি আস্থা রাখলেও সর্বনিম্ন বয়সসীমা ৪০ হওয়ায়, আটকে আছেন!

দেশে সাধারণ মানুষসহ তারকারা পেয়েছেন কোভিশিল্ড নামের টিকা। তবে অন্য প্রবাসীদের মতো নায়িকা অধরা খান দুবাই গিয়ে পান ফাইজারের ভ্যাকসিন!

এদিকে, খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অনেকে টিকা নিতে অনীহা প্রকাশ করছেন। এর কারণ হিসেবে তারা জানান, টিকাগ্রহীতার আবারও করোনা সংক্রমণ হওয়া ও টিকা কর্মসূচির ওপর বিশ্বাস না থাকা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে শীর্ষ এক তারকা টিকা প্রসঙ্গে বলেন, ‘এরচেয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রত্যেকে সচেতন থাকাটাই জরুরি।’ এমন দায়সারা মতামত কিংবা টিকার প্রতি অনাস্থা দেখা গেছে অনেক তারকার মাঝে। যদিও তাদের এই দোটানা মনোভাবের দাঁতভাঙা জবাব দিয়েছেন শুরুতে জেমস, আর শেষ পেরেকটা মেরেছেন শাকিব খান। পারফর্মিং মিডিয়ায় যে দুজনের শীর্ষ অবস্থান গেল একযুগেও কেউ অতিক্রম করতে পারেনি। নিকট ভবিষ্যতে সে সম্ভাবনাও স্পষ্ট নয়!

এদিকে, প্রথম ধাপের ভ্যাকসিন নেওয়ার পর ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া তারকার সংখ্যা কম নয়। এদের মধ্যে অন্যতম কাজী হায়াৎ ও চয়নিকা চৌধুরী।

টিকা প্রথম ডোজ নেওয়ার পরেও বর্ষীয়ান হায়াতকে ঘুরে আসতে হয়েছে আইসিইউ থেকে।

টিকা নেওয়ার পরও আক্রান্ত হওয়া চয়নিকা চৌধুরী বলেন, ‘টিকা নেওয়াতে জটিলতা কমবে। আমার চিকিৎসক আমাকে বলেছেন, আমার মাইল্ড অ্যাটাক হয়েছে। দ্রুতই সুস্থ হয়ে যাব। কিন্তু যারা করোনা ভাইরাস জেনেও ঘুরে বেড়াচ্ছে তারা হিপোক্রেট। তারাই করোনা ছড়াচ্ছে।’

গত ৫ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা ছিলো প্রথম ডোজের কার্যক্রম।

এদিন পাবনা শুটিং স্পট থেকে ঢাকায় এসে তড়িঘড়ি টিকা নেন শাকিব খান। কাকতালীয়ভাবে একই সময়ে একই কেন্দ্রে পাওয়া গেছে সংগীতশিল্পী সোমনুর মনির কোনালকেও।

শাকিব জানান, এই মুহূর্তে সবাই নিরাপদে থাকাটাই জরুরি। পাশাপাশি অন্যকেও নিরাপদ রাখতে হবে। তাই এই টিকা নেওয়া।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*