Main Menu

‘পাখি পাকা পেঁপে খায়’

পাখির সঙ্গে দারুণ সম্পর্ক রয়েছে ফলের। গাছের প্রাকৃতিক ফল মানেই বন্যপ্রাণীদের অধিকারের চিরন্তন অংশ।

আর যদি সেই ফল কৃত্রিমভাবে মানুষের বসতভিটার পাশে কিংবা ছাদের বড় টবে লাগানো গাছের হয় – তাতেও সেই একই অধিকার বন্যপ্রাণী অর্থাৎ পাখিদের।
পাখি ফলের প্রতি জন্মলগ্ন থেকেই দারুণ দুর্বল। সেই দুর্বলতার অস্তিত্ব থেকেই ‘পাখি পাকা পেঁপে খায়’ এই বিশেষ লাইনটির উৎপত্তি। সময়ের চিরাচরিত গণ্ডি পেরিয়ে এই লাইনটি যেন চিরপ্রাকৃতিক সুতোয় গাঁথা।

আমাদের চোখের সামনে লাইনটির বাস্তবতা যখন আলোকচিত্রাকারে ফুটে উঠে তখন আরো সার্থক হয়, স্পষ্টতই বুঝতে দারুণ সুবিধে হয় এমন অপূর্ব লাইনটির প্রতিটি শব্দের বিশদ ব্যাখ্যা।

বন্যপ্রাণী আলোকচিত্রী ফিরোজ আল সাবাহ সম্প্রতি ‘পাখি পাকা পেঁপে খায়’ শীর্ষক মনোমুগ্ধকর ছবিগুলো তুলেছেন।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মজার ব্যাপার হচ্ছে এই পেঁপেটা আমার খাওয়ার কথা ছিল। কৃষক আমার জন্য পেঁপে ছিঁড়তে গিয়ে দেখেন পাখি সেই পাকা পেঁপেটি খাচ্ছে। তিনি তা দেখে এসে আমাকে বলেন- আহারে, আপনার পেঁপে পাখি খাচ্ছে। আমি সঙ্গে সঙ্গে বললাম, আমার জন্য এর চাইতে খুশি আর কিসে? আমার পেঁপে পাখিই খাক। তারপর আমি এই অসাধারণ দৃশ্যগুলো ক্যামেরাবন্দী করি।

তিনি বলেন, এই পৃথিবীতে সৃষ্টিকর্তা অসংখ্য নেয়ামত ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রেখেছেন তাতে মানুষের পাশাপাশি পশু পাখিদেরও হক (অধিকার) রয়েছে। অনেকেই দেখি – গাছের ফলগুলো তারা জাল দিয়ে ঘিরে রাখেন, যাতে পাখি না খেতে পারে। পাখিদের সেই হক নষ্ট করা অত্যন্ত হীন মানসিকতার পরিচয়। আমাদেরকে এমন নোংরা মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে।

আলোকচিত্রের পাখির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ফিরোজ বলেন, ছবিতে যে পাখিটাকে দেখা যাচ্ছে এর নাম নীলগলা বসন্তবৌরী। ইংরেজি নাম ব্লু-থ্রটেড বারবেট এবং বৈজ্ঞানিক নাম Psilopogon asiaticus। রঙের বৈচিত্র্যের দিক থেকে পাখিটি অত্যন্ত সুন্দর। দেখলে শুধু তাকে দেখতেই ইচ্ছে করে। এই সময়টাতে অর্থাৎ বসন্তকালে ওরা উঁচু গাছের ডালে ক্রমাগত ডাকতে থাকে। বিরামহীন সেই ডাক।

তিনি আরো বলেন, পাখিটি আকারে অনেকটা আমাদের শালিকের মতো। এর দৈর্ঘ্য ২৩ সেন্টিমিটার। কিছু পালক ছাড়া তার পুরো দেহজুড়েই সবুজের সৌন্দর্য। তবে মুখ, গলা ও বুকের উপরিভাগে রয়েছে নীল রঙের আভা। কপাল আর ঘাড়ে গাঢ় লাল রঙের শোভা। এই রঙগুলোই দূর থেকে আকর্ষণ করে থাকে এই পাখিটিকে।

এই প্রজাতির পাখিরা দীর্ঘসময় ধরে ডেকে ডেকে চারপাশ মুখর করে রাখে। দেশের সব ধরনের বনাঞ্চল ও লোকালয়ের বৃক্ষে তাদের দেখা যায় বলে জানান ফিরোজ আল সাবাহ।