Main Menu

সিলেটে আল্লামা তাফাজ্জুল হক হবিগঞ্জী (র.)’র স্মরণসভা

ন্যায়নীতি ও সাম্যের বার্তা পৌঁছে দিতে আল্লামা হবিগঞ্জী আজীবন কাজ করে গেছেন

Sharing is caring!

শায়খুল হাদিস আল্লামা তাফাজ্জুল হক হবিগঞ্জী (র.) ছিলেন উপমহাদেশের শীর্ষ ইসলামি ব্যক্তিত্ব ও শায়খুল হাদিস। তাঁর ব্যাপ্তি ও খ্যাতি ছিল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিস্তৃত। শিক্ষা, রাজনীতি, আন্দোলন, আত্মশুদ্ধিসহ- সব ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন কিংবদন্তিতুল্য মনীষী। সমকালের সবচেয়ে প্রাগ্রসর ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি বরিত ও সম্মানিত ছিলেন। উম্মাহর জন্য এক নিবেদিতপ্রাণ বুজুর্গ ছিলেন তিনি। ব্যক্তি, দল ও গোষ্ঠির উর্ধ্বে উঠে তিনি দেশ ও জাতির কল্যাণে নিরন্তর কাজ করে গেছেন।
মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) নগরীর শহিদ সুলেমান হলে শায়খুল হাদিস আল্লামা তাফাজ্জুল হক হবিগঞ্জী (র.) স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে বক্তারা এসব কথা বলেন। সিলেটের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জামিআ সিদ্দিকিয়া এই আলোচনা সভার আয়োজন করে। সর্বস্তরের উলামা-মাশায়েখ, ইসলামি চিন্তাবিদ ও নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণে নগরীতে এটিই ছিল তাঁর বিদায়-পরবর্তী বৃহৎ ও প্রথম স্মরণসভা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শিক্ষার উন্নয়নে আল্লামা হবিগঞ্জী (র.) যে ব্যাপক কাজ করে গেছেন তার তুলনা বিরল। ৫৬ বছরের শিক্ষকতার জীবনে ৫৪ বছর শায়খুল হাদিস হিসেবে বুখারি শরিফের পাঠ দান করেছেন। তিনি ছেলেদের শিক্ষার পাশাপাশি নারী শিক্ষার উন্নয়নেও যুগান্তকারী অবদান রেখেছেন। উনিশ শতকের শেষপ্রান্তে প্রতিষ্ঠা করেছেন নারীদের উচ্চশিক্ষার বৃহৎ প্রতিষ্ঠান। ইসলামি রাজনীতির মাঠেও তিনি ছিলেন তারকাতুল্য ব্যক্তিত্ব। আপসহীন নেতৃত্বের গুণাবলী ছিল তার রাজনৈতিক জীবনে। জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সিনিয়র সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলেন সবসময় সামনের সারিতে। বৃদ্ধ বয়েসেও হুইল চেয়ারে বসে বিভিন্ন আন্দোলনে-মিছিলে নেতৃত্ব দিয়েছেন। একজন ইনসানে কামেল ও বুজুর্গ ব্যক্তিত্ব হিসেবে মানুষের নৈতিক ও আত্মিক উন্নয়নেও তিনি সমানভাবে কাজ করে গেছেন। সাধারণ মানুষের কাছে ন্যায়নীতি, ইনসাফ ও ইসলামের বার্তা পৌঁছে দিতে অক্লান্তভাবে তিনি কাজ করে গেছেন।
জামেয়া তাওয়াক্কুলিয়া রেঙ্গার মুহতামিম মাওলানা মুহিউল ইসলাম বুরহানের সভাপতিত্বে ও জামিআ সিদ্দিকিয়ার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সৈয়দ মবনুর সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন গলমুকাপন মাদরাসার মুহতামিম ও শায়খুল হাদিস আল্লামা আব্দুশ শহিদ শায়খে গলমুকাপনী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জামিআ সিদ্দিকিয়ার পরিচালক মুফতি মাওলানা মনসুর আহমদ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন আল্লামা হবিগঞ্জীর সাহেবজাদা জামেয়া শারইয়্যাহর পরিচালক হাফিজ মাওলানা মামনুনুল হক, সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের ৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রেজওয়ান আহমদ, বিশিষ্ট শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আখলাক আহমদ, কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান মাহমুদ রাজা চৌধুরী, রসমেলার ডাইরেক্টর মাওলানা বদরুল আলম, লাউয়াই মাদরাসার শিক্ষক ও আল্লামা হবিগঞ্জীর জামাতা মাওলানা মুজাহিদুল ইসলাম, জামেয়া ফয়জুল উলুম শাহপরান মাদরাসার মুহতামিম মুফতি ফয়জুল হক, বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন মাওলানা আরমান আলী, ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমীর প্রশিক্ষক মুফতি মামুনুর রশিদ, দৈনিক সিলেটের ডাকের সাহিত্য সম্পাদক ফায়য়ুর রাহমান, সাংবাদিক নোমান বিন আরমান, ঢাকা মুহাম্মদপুর মাদরাসার মুহাদ্দিস মাওলানা আব্দুল কাদির, টিলাগড় মদনীবাগ জামে মসজিদ ইমাম ও খতিব হাফেজ মাওলানা আফতাবুজ্জামান হেলাল, জামেয়া দারুল উলূম রায়নগরের শিক্ষক মুফতি আলতাবুর রহমান, সৈয়দপুর শাহ শামসুদ্দিন জামেয়া ইসলামিয়া হাফিজিয়া দারুল হাদিস বালিকা মাদরাসার মুহতামিম হাফেজ মাওলানা মুহিবুর রহমান, সিলেট রিপোর্ট সম্পাদক মাওলানা রুহুল আমিন নগরী, সূর্যসকাল সম্পাদক মাওলানা কবির আহমদ খান, রাইজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের শিক্ষক মাহবুব মুহম্মদ, শৈলী পাঠকসংঘের উপদেষ্টা হেলাল হামাম, শৈলীর কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা সুফিয়ান আহমদ, জাউয়া মাদরাসার শিক্ষক হাফিজ হারুনুর রশিদ, তরুণ সমাজসেবক মাওলানা মাসুমুর রহমান, হাফিজ আব্দুল হাই মাসুম প্রমূখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আল্লামা আব্দুশ শহিদ শায়খে গলমুকাপনী বলেন, উপমহাদেশে আল্লামা তাফাজ্জুল হক হবিগঞ্জীর মত উচুস্তরের শায়খুল হাদিস খুব বিরল। তিনি যেভাবে ইলমের সবক্ষেত্রে অবদান রেখে গেছেন, তেমনি পাশাপাশি রাজনীতি, আধ্যাত্মিক সাধনায়ও কাজ করেছেন। বাংলাদেশের ইসলামি অঙ্গনে তার মত মহান বুজুর্গ ও নেতাকে হারিয়ে এখন সত্যিকার অর্থেই অভিভাবকশুন্য।
সভাপতির বক্তব্যে রেঙ্গা মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা মুহিউল ইসলাম বুরহান বলেন, আল্লামা হবিগঞ্জী (র.) খুব আল্লাহওয়ালা বুজুর্গ ছিলেন। তিনি মুখস্থ বুখারি শরিফ পড়াতেন। মনে হতো বুখারি শরিফের হাফিজ তিনি। এমন একজন বুজুর্গকে নিয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করায় জামিআ সিদ্দিকিয়ার প্রশংসা করেন তিনি।
পিতাকে নিয়ে স্মৃতিচারণে মাওলানা মামুনুল হক বলেন, আমার পিতা দেশ, সমাজ ও মানুষের জন্য নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে গেছেন। উনি একটি দলের শীর্ষ পর্যায়ে ছিলেন। এরপরও তিনি সবসময় সব পথ ও মতের মানুষের সঙ্গে সমন্বয় রক্ষা করে চলেছেন। সবাইকে নিয়ে চলার এক আদর্শ নমুনা ছিলেন আল্লামা হবিগঞ্জী (র.)। তিনি সমাজের অসহায়, দুঃস্থ, নিরন্ন মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে সবসময় তৎপর ছিলেন। এতিমদের খুব পছন্দ করতেন।
জামিআর সিদ্দিকিয়ার ছাত্র হাফিজ যুবায়ের আহমদ ও হাফিজ কাওসার আহমদের কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করে জামিআর ছাত্র আজির হোসেন, হানিফ আল মামুন, মাজহারুল আমিন। মুনাজাত পরিচালনা করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি শায়খুল হাদিস আল্লামা আব্দুশ শহিদ শায়খে গলমুকাপনী। অনুষ্ঠানে সৈয়দ মবনু রচিত আল্লমা তাফাজ্জুল হক হবিগঞ্জী (র.) এর জীবন ও কর্ম শীর্ষক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন ও বিতরণ করা হয়।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*