Main Menu

দেড় বছর বেতন নেই ২ হাজার দারুল আরকাম মাদ্রাসা শিক্ষকের

Sharing is caring!

অনিশ্চয়তায় পড়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগ্রহে প্রতিষ্ঠিত ইসলামিক ফাউন্ডেশনের (ইফা) দারুল আরকাম মাদ্রাসা। গত বছরের ১১ মে পরিকল্পনা কমিশন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রস্তাবিত পাঁচ বছর মেয়াদি ৭তম পর্বে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা প্রকল্পে তিন হাজার ১২৮ কোটি ৪৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়।

ওই প্রকল্প থেকে দারুল আরকাম মাদ্রাসাকে বাদ রাখা হয়। এ কারণে এ মাদ্রাসার ২ হাজার ২০ জন শিক্ষক দীর্ঘ দেড় বছর ধরে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। ফলে করোনা মহামারিতে এসব শিক্ষক ও তাদের পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে। মানবিক সহায়তা হিসাবে সম্প্রতি তাদের প্রত্যেককে ২৫ হাজার টাকা করে এককালীন অর্থ সহায়তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

সূত্র জানায়, দারুল আরকাম মাদ্রাসাকে স্থায়ী রূপ দিতে আলাদা প্রকল্প প্রস্তাব তৈরি করে অনুমোদনের জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। এ অবস্থায় আইন মেনে মাদ্রাসাটিকে স্থায়ী রূপ দিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের (ইফা) মহাপরিচালক ড. মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘দারুল আরকাম মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কিছু জটিলতা ছিল। সেই জটিলতা দূর করে আলাদা প্রকল্পের মাধ্যমে মাদ্রাসাটি চালু করার সিদ্ধান্ত আছে। সে অনুযায়ী আমরা প্রকল্প প্রস্তাব তৈরি করে অনুমোদনের জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছি। এ বিষয়ে শিগগিরই হয়তো সুখবর পাব বলে আশা করছি।’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর একনেক সভায় মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম (৬ষ্ঠ পর্যায়) প্রকল্প অনুমোদনকালে নির্দেশনা দেন-দেশের যে সব এলাকায় স্কুল নেই সেখানে এ প্রকল্পের মসজিদভিত্তিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রমকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

এরপর ২০১৫ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শিক্ষা কারিকুলামে শিশুদের জন্য প্রযোজ্য ধর্মীয় শিক্ষার বিষয়টি স্টাডি করা যেতে পারে বলে মন্তব্য করেন। পরবর্তীতে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা বঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার আওতায় আনতে ২০১৭ সালের নভেম্বরে চূড়ান্তভাবে এক হাজার ১০টি দারুল আরকাম মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মাদ্রাসাগুলোতে কওমি নেসাবের এক হাজারের বেশি আলেমকে শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ দেয় ইসলামিক ফাউন্ডেশন। পাশাপাশি আলিয়া নেসাবেরও সমসংখ্যক আলেমকে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগের প্রক্রিয়ায় রয়েছে আরও এক হাজার সাধারণ শিক্ষার শিক্ষক। এসব প্রতিষ্ঠানে ইফার নিজস্ব সিলেবাস দ্বারা তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত কার্যক্রম শুরু হলেও ২০২০ সালে তা পঞ্চম শ্রেণিতে উন্নীত করা হয়।

এভাবেই সারা দেশে এ মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রম চলছিল। এসব মাদ্রাসায় সারা দেশের শিক্ষা বঞ্চিত দেড় লাখ শিক্ষার্থী লেখাপড়ার সুযোগ পাচ্ছে। গত বছরের ১১ মে পরিকল্পনা কমিশন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রস্তাবিত পাঁচ বছর মেয়াদি ৭তম পর্বে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা প্রকল্পে ৩ হাজার ১২৮ কোটি ৪৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। তবে প্রকল্প থেকে দারুল আরকাম মাদ্রাসাকে বাদ রাখা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ইফার তৎকালীন মহাপরিচালক (ডিজি) আনিস মাহমুদ জানান, ‘দারুল আরকাম মাদ্রাসা আলাদা প্রকল্পের মাধ্যমে করতে যাচ্ছে সরকার। মাদ্রাসাটি চালু করার সময় যে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার প্রয়োজন ছিল তার কিছুই মানা হয়নি। এবার সরকারের নিয়মনীতি মেনেই এটির প্রকল্প প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। বিশেষ করে প্রকল্পের অধীনে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু এসব শিক্ষার্থী কোনো বোর্ডের অধীনে পরীক্ষা দিবে? তাদের সিলেবাস কারা তৈরি করবে সেটা উল্লেখ নেই। এসব কারণে প্রকল্প থেকে মাদ্রাসাটিকে বাদ দেওয়া হয়। আমরা চাই এই মাদ্রাসাগুলো মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে ইবতেদায়ি মাদ্রাসা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হোক। সেভাবেই প্রকল্প প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। এটি পাশ হলে এসব মাদ্রাসার শিক্ষকদের পদগুলো স্থায়ী হবে।’

এদিকে করোনা মহামারির শুরু থেকেই বেতন-ভাতা বন্ধ রয়েছে দারুল আরকাম মাদ্রাসার শিক্ষকদের। বেতন-ভাতা না পেয়ে উদ্বিগ্ন মাদ্রাসার শিক্ষকরা। তারা জানান, প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায়ে প্রতিষ্ঠিত এই মাদ্রাসার শিক্ষকরা গত বছরের জানুয়ারি থেকে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না।

অর্থাৎ গত দেড় বছর ধরে চাকরি আছে কিন্তু বেতন নেই। সম্প্রতি প্রতি শিক্ষককে ২৫ হাজার টাকা করে দুই হাজার ২০ জন শিক্ষককে মোট ৫ কোটি ৫ লাখ টাকা অনুদান দেন প্রধানমন্ত্রী। ইতোমধ্যে সেই টাকা তাদের হাতে পৌঁছেছে। তবে তারা মাদ্রাসাটির স্থায়ী রূপ দিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ প্রসঙ্গে দারুল আরকাম মাদ্রাসার শিক্ষক সমিতির মহাসচিব আনাস মাহমুদ বলেন, ‘দারুল আরকাম মাদ্রাসার কনসেপ্ট প্রধানমন্ত্রীর। এ মাদ্রাসা বন্ধ হয়ে যাক সেটা তিনি অবশ্যই চাইবেন না। গত দেড় বছর ধরে আমরা বেতন-ভাতা পাচ্ছি না। করোনা পরিস্থিতির কারণে আমাদের কোনো আয়ও নেই। চলতি মাসে আমরা ২৫ হাজার টাকা করে প্রধানমন্ত্রীর অনুদান পেয়েছি। এ জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা জানাই। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের আকুল আবেদন-প্রকল্প থেকে মাদ্রাসা বাদ দেওয়ায় মাদ্রাসার দেড় লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎও অনিশ্চয়তায় পড়েছে। আমরা এ বিষয়ে তার হস্তক্ষেপ চাই।’






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*