Main Menu

“দার্শনিক জীবনী”

Sharing is caring!

“সুখ্যাতি অর্জনের উপায় হল তুমি কি হিসেবে আবির্ভূত হতে চাও তার উপক্রম হওয়া।
তুমি যা হতে চাও তা-ই হও।
কঠিন যুদ্ধেও সবার প্রতি দয়ালু হও” ।

মগ্নতায় তৃতীয় বর্ষের কাজ করছি, শেষ হবেনা এত তাড়াতাড়ি, তার উপর সেই সকাল বেলা ট্রেনধরে ছুটে চলা একই গন্তব্যে ll কত কথা মনে পড়ে, ছোট বেলা বাবা হাতে তুলে দিয়েছিলেন একখানা বই, যার নাম ছিল এক দার্শনিকের আত্মকাহিনী ll ট্রেনে বসে মনে পড়ল খুব অসাধারন দুটো লাইন, ভাবলাম দুলাইন লিখব….

“শক্ত মন আলোচনা করে ধারনা নিয়ে, গড়পড়তা মন আলোচনা করে ঘটনা নিয়ে, দুর্বল মন আলোচনা করে মানুষ নিয়ে”

কথা গুলো সত্য বটে, ভাবতে থাকলাম সক্রেটিস এর জীবন নিয়ে, একজন দার্শনিক কে হত্যা করার কারন হলো হিংসা ll একজন বিখ্যাত গ্রীক দার্শনিক, জন্ম মোটামোটি আর্থিক সচ্ছল পরিবারে, বাবা ভাস্কর নির্মিতা, মা একজন ধাত্রী ll একদিন হাঁটতে হাঁটতে উঁচু পাহাড় চুড়ার গির্জায় এসে পৌছিলেন বন্ধু চেরেফোনের সাথে ll প্রার্থনার হাত তুলে হাঠু গেড়ে ঘভীর মনে ঈশ্বরকে প্রশ্ন করলেন, হে ঈশ্বর, এই শহরে সবচেয়ে জ্ঞানী ব্যক্তি কে???? এটা হয়তো তার জীবনের ভুল ছিল ll

ঐ সময় গ্রীক এক যুদ্ধবিগ্রহ দেশ, ক্ষমতা লড়াই চলছে ll গনতন্ত্রের তেমন কোন হদীছ পাওয়া যায়নি ইতিহাসে ll তবুও সক্রেটিসের বিচারে ৫২৬ বিষিষ্ট আদালত বসে দরবারে ll তার মধ্যে শাস্তি কার্যকরি করার জন্য ভোট গ্রহন হয় ll ভোট গ্রহনের সিদান্ত হয় বিষপানে তাহাকে হত্যা করা হবে ll পরাজয়ের গ্লানি ভুলে এথেন্স যখন পুনরায় স্থিত হওয়ার চেষ্টা করছিল তখনই সেখানকার জনগণ একটি কর্মক্ষম সরকার পদ্ধতি হিসেকে গণতন্ত্রের সঠিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা শুরু করেছিল। সক্রেটিসও গণতন্ত্রের একজন সমালোচক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। তাই অনেকে সক্রেটিসের বিচার ও মৃত্যুটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে ব্যাখ্যা করেছেন। দেশে যুদ্ধ চলাকালিন সক্রেটিস ও অংশ গ্রহন করেছিলেন, বেশ সুনাম অর্জন করলেন, দক্ষতা দিয়ে ll

জ্ঞান চর্চার জন্য নিজেকে বিলিয়ে দিবেন, সংসারের প্রতি তার ছিল বেশ উদাসীনতা, টাকা পয়সার প্রতি তেমন কোন লোভ ছিল না,এ কারণে শেষ জীবনে তার পুরো পরিবারকেই দারিদ্র ও অনাহারের মধ্যে জীবন যাপন করতে হয়। এক সময় বন্ধুর দেয়া জমি ফিরিয়ে দিয়ে ছিলেন, উনার স্ত্রী খুব রাগী মহিলা ছিলেন, স্বামীর সংসার জীবনের উদাসীনতা তার মোটেই পছন্দ ছিল না ll পারিবারিক সচ্ছলতা তেমন ছিল না, সক্রেটিসের বিশ্বাস ছিল মানুষের শেষ্ট সম্পদ শিক্ষা আর জ্ঞান অর্জন ll তাই তার সম্পদের প্রতি উদাসীনতা, একপর্যায়ে ঈশ্বরের প্রতি উদানীতায় ধর্ম বিমুখ হয়ে পড়েন, তাই সমাজের মানুষের অপছন্দ ও কটাক্ষের মুখখোমুখি হয় ll

সক্রেটিসের বিশেষ গুনাবলি ছিল নিজের পরিচয় গোপন করে সহজ সরল ভাব দেখিয়ে মানুষের জ্ঞান সমন্ধে জানা, লোক সমাগমে দেখাতেন তিনি কিছুই
জানেননা ll ইতিহাসে হয়তো সক্রেটিস এতটা বিখ্যাত্য হতে পারতে না, যদি উনাকে হত্যা করা না হতো II

সমাজে যখনই কোন ব্যাক্তির প্রতিভার প্রকাশ পায়, তখন তার শত্রু আর হিংসা দুটোই বেড়ে যায়, সক্রেটিস এর বিরুদ্ধে যে মামলা ছিল তা সম্পুর্ন ভিত্তিহীন II তিনি তখনকার রাজনিতীতে একজন প্রতিযোগি হয়েছিলেন, বেশ কিছু শত্রু তিনি তৈরি করে ফেলেছিলেন II তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল তিনি তরুন সম্প্রদায়ের মধ্যে চরিত্রহীনতা দুর্নিতী শিক্ষা দিচ্ছিলেন, প্লেটোর অ্যাপোলজি গ্রন্থের ভাষ্যমতে, সক্রেটিসের বন্ধু চেরিফোন একদিন ডেলফির ওরাকলের কাছে যেয়ে প্রশ্নে করে যে, সক্রেটিসের চেয়ে প্রাজ্ঞ কেউ আছে কি-না। উত্তরে ওরাকল জানায় সক্রেটিসের চেয়ে প্রাজ্ঞ আর কেউ নেই II আর এটাই ছিল সক্রেটিসের কাল, কিন্তু সক্রেটিসের খুব কাছের বন্ধুরা তার শত্রুতা করে IIএথেনীয় সরকার সক্রেটিসকে এমন দোষে দোষী বলে সাব্যস্ত করেছিল যাতে তার মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হতে পারে II

সক্রেটিস এর একটা খারাপ স্বভাব ছিল তিনি সরা-সরি মুখের উপর কথা বলতেন, তারপর একজন রাজ্নিতিবীদ, তার একটা উক্তি আমার মন ছুয়ে যায় II
“কঠিন যুদ্ধেও সবার প্রতি দয়ালু হও”

দার্শনিক আড্ডাছিল তার খুব প্রিয়, অনান্য দার্শনিকরা তার সাথে আড্ডায় বসতে রিতিমত ভয় পেত II সবাই তর্কে হেরে যেত, তার একটা উক্তি ছিল প্রনাবন্ত
“নিজেকে অন্যের মধ্যে বিলিয়ে দেয়াই আমার অভ্যাস, আর এজন্যই এমনিতে না পেলে পয়সাকড়ি দিয়েও আমি দার্শনিক আলোচনার সাথী সংগ্রহ করতাম” II

সক্রেটিসের নেষা ছিল জ্ঞান অর্জন, সে জন্য তিনি সকল শ্রেনির মানুষের সাথে মিলতেন ll তাদের কথা শুনতেন, যখন উনাকে দোষি সাব্যস্ত করে ভোটের মাধ্যমে শাস্তি প্রধান করার সিদান্ত হলো ll তাহাকে বিষ পানে হত্যা করা হবে, তখন একটু বিচলিত হলেও তিনি হাস্য ঠোটের কোনে রেখে বলে ছিলেন, “অপরিক্ষিত জীবন নিয়ে বেচেঁ থাকা গ্লানিকর”, আমার জীবন পরিক্ষিত ll তাহাকে যখন বিচার গন বলার সুযোগ দিয়েছিলেন, তখন তিনি যেভাবে নিরদোষ প্রমান করতে চেয়েছেন তাহাতে বিচারগন আরো ক্রোধ হন, তাহাদের মনে হয় সক্রেটিস তাহাদের নিয়ে উপহাস করছেন ll






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*