Main Menu

দলীয় কোন্দল-মতানৈক্য দূর করতে কাজ শুরু করেছে আওয়ামী লীগ

একাদশ সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলীয় কোন্দল-মতানৈক্য দূর করতে কাজ শুরু করেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত পাঁচ নেতা। ৩০০ আসনের মধ্যে যেসব আসনে মনোনয়নকে কেন্দ্র করে দলের ভেতর আভ্যন্তরীণ কোন্দল তৈরি হয়েছে, সেসব আসনের ব্যাপারে এরই মধ্যে খোঁজ-খবর নেওয়া শুরু হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট নেতারা জানান, এরই মধ্যে যেসব আসনে দলীয় কোন্দল প্রকট হয়েছে এবং প্রকাশ্যে দলের মনোনয়নপ্রাপ্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মানববন্ধন, সভা-সমাবেশ, বিক্ষোভ করেছে, সেসব আসনের বিদ্রোহী নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা শুরু হয়েছে।

নেতারা জানান, পাশাপাশি দলের জন্য যেসব আসন ঝুঁকিপুর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে সেসব আসনেও কাজ করবে পাঁচ সদস্যের এই দল। এছাড়া এই দলটি কেন্দ্রীয়ভাবে দলের প্রচারণার কৌশল নির্ধারণ, মাঠ পর্যায়ের সর্বশেষ অবস্থা শীর্ষ নেতাদের অবহতিকরণসহ কেন্দ্রীয় সমন্বয়ের কাজটি করবে। তারা বলেন, আওয়ামী লীগ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করবে আগামী ১১ ডিসেম্বর। এর আগেই আগামী ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে সব ধরনের মতানৈক্য দূর করতে এই নেতাদের নির্দেশনা দিয়েছেন দলের শীর্ষ নেতা।

পাঁচ সদস্যের এই দলের নেতৃত্বে রয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক। অন্য চার জন হলেন—যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ও বি এম মোজাম্মেল হক। আর এই কমিটিকে সহযোগিতা করবেন দলের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সাত্তার, উপদফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, কার্যনির্বাহী সদস্য আনোয়ার হোসেনসহ আরও বেশ কয়েকজন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এ প্রসঙ্গে বলেন, নির্বাচনের আগ পর্যন্ত কেন্দ্রীয়ভাবে জাহাঙ্গীর কবির নানকের নেতৃত্বে একটি টিম কাজ করবে। এই টিমের সদস্যরা নির্বাচন করছেন না। এই টিমটি কেন্দ্রীয়ভাবে নির্বাচনকেন্দ্রিক সব কাজ মনিটরিং করবেন এবং সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতাদের অবহতি করবেন।

এর আগে, গত ১ ডিসেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, নেত্রীর (শেখ হাসিনা) আক্ষেপ, নির্বাচনের সময় সব নেতাই ঢাকার বাইরে চলে যান। হেড কোয়ার্টারে কেউ থাকেন না। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে, এমনকি ভারতেও গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের একটি অংশকে হেড কোয়ার্টারে রেখে দেওয়া হয়। এ জন্য আমাদের দলের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন নেতাকে রাখা হয়েছে। শক্তিশালী একটি টিম কেন্দ্রে থাকবে, নির্বাচন পর্যবেক্ষণের কাজ করবে। এতে হেড কোয়ার্টারে নেতৃত্বের ঘাটতি পূরণ হবে। আমিও মাঝে মাঝে আসব।

এই দলের অন্যতম যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বলেন, আমরা এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছি। প্রথমে যেসব আসনের কোন্দল প্রকাশ্যে এসেছে, সেসব আসনের স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে আমরা কথা বলছি।

তিনি বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে অনেক নেতারকর্মীর মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। আলোচনা করলেই এসব সমস্যা মিটে যাবে। মনোনয়ন চূড়ান্ত করার আগেই আমরা সব বিবাদ মিটিয়ে ফেলব। সবাই নৌকার জয়ের জন্য কাজ করব।

আওয়ামী লীগের একাধিক জেষ্ঠ্য নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মনোনয়নের আগেই বিদ্রোহী প্রার্থী হলে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের কথা দলীয় নেতাকর্মীদের জানিয়ে দেন দলের প্রধান শেখ হাসিনা। এরপর একাধিক দলীয় সভায় দলের সাধারণ সম্পাদক বিষয়টি বারবার স্মরণ করিয়ে দেন নেতাকর্মীদের। দলের এই সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ৩০০ আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেওয়া ২৬৪ আসনের বিপরীতে প্রায় ৭৯ জন আওয়ামী লীগের মনোনয়নের প্রত্যাশায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

নেতারা জানান, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেওয়া এসব নেতাদের কীভাবে ম্যানেজ করে, দ্বন্দ্ব ও সব মতানৈক্য দূর করে তাদের দল মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নামানো যায়, এটা নিয়ে কাজ করছেন দলটি। কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পরও কোনো আসনে দলের ভেতর থেকে কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হলে তাকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বহিষ্কার করা হবে।

ক্ষমতাসীন দলটির নেতারা আরও জানান, দলের ভেতর মনোনয়ন কোন্দল মেটানোর পাশাপাশি দলটি দলীয় প্রচারণার কাজ কীভাবে করা হবে, সেই কাজগুলো গুছিয়ে আনতে উপকমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সঙ্গে কথা বলে কর্মপরিকল্পনা ঠিক করবেন দলীয় সাধারণ সম্পাদক। দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা দলীয় সভানেত্রীর ধানমন্ডির কার্যালয়ে বসে ৩০০ আসনে দল বা মহাজোটের প্রার্থী, স্থানীয় আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করবেন। তারা প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করবেন। সারাদিনের কার্যক্রম রাতে দলীয় সভানেত্রীকে অবহিত করবেন তারা। দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের কার্যক্রম মনিটরিং করবেন দলের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।