Main Menu

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়

তারেকের ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কা জাফরুল্লাহর

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ন্যায়বিচার পাবেন কি না শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবী হিসেবে পরিচিত গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

‘গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি বলেন, ‘দেশে এখন কোনও ন্যায় বিচারের পরিবেশ নেই। বিচারকরাই যেখানে আতঙ্কিত সেখানে খালেদা-তারেক বা বিরোধী দলের কারোরই ন্যায় বিচার পাওয়ার অধিকার নেই।’

রবিবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি নিজেদের মিলনায়তনে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়। এতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মইনুল ইসলাম, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, জেএসডি প্রধান আ স ম আব্দুর রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না গণতান্ত্রিক আইনজীবী ফোরামের সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বক্তব্য রাখেন।

এক যুগেরও বেশি সময় আগে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলা মামলার রায় বুধবার (১০ অক্টোবর) ঘোষণা করা হবে। এই মামলার ৫২ আসামির মধ্যে আছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিণ্টু, খালেদা জিয়ার ভাগ্নে ও ডিজিএফআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম ডিউক।

আসামিদের মধ্যে জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, জঙ্গিনেতা মুফতি মোহাম্মদ হান্নানসহ তিন জনের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে অন্য মামলায়। ফলে ৪৯ জনের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা হবে ১০ অক্টোবর।

আ স ম আব্দুর রব বলেন, ‘বিচারপতি এসকে সিনহার বিতাড়ন জাতিকে একটি সঙ্কটে ফেলেছে। যে দেশে প্রধান বিচারপতি বিচার পায় না সে দেশে খালেদা-তারেক আমরা কেউ বিচার পাবো না।’

‘রাষ্ট্রের তিনটি স্তম্ভের একটি প্রশাসন যেটা এখন পুলিশ কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত এবং রাষ্ট্রটি পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। বাকি দুটি স্তম্ভ (বিচার ও আইন) অসহায় হয়ে পড়েছে।’

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা থাকলে তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে আজ জেলে যেতে হতো না। তারেক রহমানের ওপর এই ধরণের নির্যাতনও হতো না।’

‘আমাদের লড়াই করতে হবে বিচার বিভাগের পরিপূর্ণ স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান বিনির্মাণের জন্য।’

মইনুল ইসলাম বলেন, “রাষ্ট্রপতি চার বিচারপতিকে ডেকে নিয়ে গেলেন, তাদেরকে শিখিয়ে দিলেন। আর তারা এসে রাষ্ট্রপতির কথা মতো বললেন- ‘তোমার সঙ্গে (সুরেন্দ্র কুমার সিনহা) আমরা বিচারে বসবো না।’ অভিযোগ দায়েরের আগেই বিচার হয়ে গেলো।”

আইনজীবীদের অনৈক্যের কারণেই সাবেক বিচারপতিকে সরকার বের করে দিতে পেলেছে বলেও মন্তব্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক এ উপদেষ্টার।

সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘বর্তমানে দেশে নিয়ন্ত্রিত বিচার ব্যবস্থা চলছে। ১৬ কোটি মানুষ আজ অবরুদ্ধ। দেশের মানুষ আজ কারাগারে। একদিনের জন্য একটা ভোটের মহড়া হয়। এই সরকার ২০০৮ সালে নির্বাচিত হয়েছিলো এখন এই সরকার একটি অনির্বাচিত ও অবৈধ সরকার।’

শওকত মাহমুদ বলেন, ‘উচ্চ আদালতের রায়ের মাধ্যমে তারেক রহমানের বাক স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছে।’

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক মাহবুব উদ্দিন খোকন, ‘প্রধান বিচারপতি এখন রিফিউজিতে পরিণত হয়েছে। আরেক বিচারপতি যিনি তারেক রহমানকে খালাস দিয়েছিলেন তিনি মালয়য়েশিয়া পালিয়ে গেছেন।’

তাদেরকে দুদকের মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন এ আইনজীবী নেতা।