Main Menu

ঢাবিতে ভর্তি ফি বেড়ে ১০০০, উপাচার্য বললেন ‘ন্যূনতম’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক (সম্মান) প্রথমবর্ষে ভর্তি পরীক্ষার ফি টানা তিন বছর বাড়ানো হয়েছে। এবার এক ধাপে ৩৫০ টাকা বাড়িয়ে এক হাজার টাকা করা হয়েছে। যদিও উপাচার্য বলছেন এটাই ‘ন্যূনতম’।

বৃহস্পতিবার (৭ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ভর্তি কমিটির সভায় ফি নির্ধারণ করা হয়। ১০০০ টাকার মধ্যে ভর্তি পরীক্ষার ফি ৯৫৬ টাকা ৫০ পয়সা, অনলাইন সার্ভিস চার্জ ৩০ টাকা ও ব্যাংক পেমেন্ট সার্ভিস চার্জ ১৩ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকের (সোনালী, অগ্রণী, জনতা ও রূপালী) যেকোনো শাখায় ফি জমা দেওয়া যাবে।

২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার আবেদন ফি ছিল ৩৫০ টাকা। ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ১০০ টাকা বাড়িয়ে তা করা হয় ৪৫০ টাকা। এরপর ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে আরও ২০০ টাকা বাড়িয়ে করা হয় ৬৫০ টাকা। এবার ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে ফি আরও ৩৫০ টাকা বাড়িয়ে এক হাজার টাকা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

ফি বাড়ানোর বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, বিভাগীয় শহরে ভর্তি পরীক্ষা হওয়ার কারণে গত বছরের ফিতে খরচ সংকুলান হয়নি, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ভর্তুকি দিতে হয়েছে। এছাড়া পরিবহনসহ সবকিছুর দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। সেকারণে ‘ন্যূনতম’ ফি বাড়ানো হয়েছে।

বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আব্দুস সামাদ বলেন, বিভাগীয় শহরে ভর্তি পরীক্ষা নিতে গিয়ে খরচের পরিমাণটা অনেক বেশি হয়ে গেছে। পরে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভর্তুকি দিতে হয়েছে। তাই এবার ৬৫০ থেকে ১০০০ টাকা করা হয়েছে। এর মধ্যে আবার অনলাইন ফি আছে, ব্যাংকের চার্জ আছে। সবকিছু বিবেচনা করে মিনিমামটাই নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, বিভাগীয় শহরে ভর্তি পরীক্ষা হওয়ার কারণে শিক্ষার্থীপ্রতি আমাদের খরচ পড়ে প্রায় সাড়ে ১৩শ টাকা। এই টাকা হলে মোটামুটি সংকুলান হয় বলে জানিয়েছেন ভর্তি পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা ডিনরা। ফলে এই ১০০০ টাকাও কম। যেটা সবচেয়ে ন্যূনতম সেটা আমরা রাখছি। এর মধ্যে একটা অংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে আসবে।

তিনি বলেন, যারা সমন্বয়কারী থাকবেন তাদের পরামর্শ দিয়েছি। যাতে তারা শিক্ষার্থীদের স্বার্থে সেক্রিফাইস করে। এমনিতেও আমাদের শিক্ষকরা সবসময় সেক্রিফাইস করেন। উনাদের পরামর্শ দিয়েছি যাতে এবার ২০০-৩০০ টাকা কম রাখেন, সামনে প্রয়োজন হলে আরও বাড়ানো হবে।

ভর্তি কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ৩ জুন ব্যবসা শিক্ষা অনুষদভুক্ত ‘গ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শুরু হবে এবারের ভর্তি পরীক্ষা। ৪ জুন কলা অনুষদভুক্ত ‘খ’ ইউনিট, ১০ জুন বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘ক’ ইউনিট এবং ১১ জুন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘ঘ’ ইউনিটের পরীক্ষা বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া ১৭ জুন চারুকলা অনুষদভুক্ত ‘চ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা (সাধারণ জ্ঞান) বেলা ১১টা থেকে ১১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে।

ভর্তি যোগ্যতা :

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি আবেদনের ক্ষেত্রে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় চতুর্থ বিষয়সহ প্রাপ্ত জিপিএ মোট ন্যূনতম ৮.০ থাকতে হবে। এছাড়া মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিকের জিপিএ আলাদাভাবে ৩.৫ থাকতে হবে। একইভাবে মানবিক এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীদের জিপিএ ৭ দশমিক ৫ এবং আলাদাভাবে ৩ থাকতে হবে। এছাড়া ‘চ’ ইউনিটের পরীক্ষায় উভয় জিপিএ মিলিয়ে ৬.৫ এবং আলাদাভাবে ৩.০ থাকতে হবে।

পরীক্ষার মানবণ্টন :

গত বছরের মতো ভর্তি পরীক্ষায় মোট ১২০ নম্বরের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে। এর মধ্যে মাধ্যমিক/সমমান ও উচ্চ মাধ্যমিক/সমমান পরীক্ষার ফলাফলের ওপর থাকবে ২০ (১০+১০) নম্বর। বাকি ১০০ নম্বরের মধ্যে ৬০ নম্বরের এমসিকিউ এবং ৪০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা হবে। পরীক্ষার সময় থাকবে দেড় ঘণ্টা (এমসিকিউ ৬০ নম্বরের জন্য ৪৫ মিনিট, লিখিত ৪০ নম্বরের জন্য ৪৫ মিনিট)। তবে চারুকলার ক্ষেত্রে ৪০ নম্বরের এমসিকিউ (সাধারণ জ্ঞান) এবং ৬০ নম্বরের লিখিত (অঙ্কন) পরীক্ষা হবে। এতে এমসিকিউর জন্য ৩০ মিনিট এবং লিখিত ১ ঘণ্টাসহ মোট দেড় ঘণ্টা সময় থাকবে।

ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা ২০ এপ্রিল থেকে ১০ মে পর্যন্ত http://addmission.eis.du.ac.bd ওয়েবসাইটে আবেদন এবং ভর্তি ফি জমা দিতে পারবেন। ১৬ মে থেকে পরীক্ষা শুরুর এক ঘণ্টা আগ পর্যন্ত প্রবেশপত্র ডাউনলোড করা যাবে। ভর্তি সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশনা ও তথ্য এ ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।