Main Menu

ড. কামাল শয়তানের সঙ্গে হাত মেলাতে চেয়েছিলেন:মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম

হাওয়া ভবনের দুঃশাসনের ঠেকাতে গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন শয়তানের সঙ্গে হাত মেলাতে চেয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। সোমবার সকালে রাজধানীর পল্টনে মুক্তিভবনে ‘দ্বিদলীয় মেরুকরণের বাইরে বাম-গণতান্ত্রিক বিকল্প গড়ে তোলো’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সরকার বিরোধী রাজনৈতিক জোট ‘বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য’ গঠন প্রসঙ্গে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেছেন, দুঃশাসনের বিরুদ্ধে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন আগেও একবার মাঠে নেমে সরে দাঁড়ান।

তিনি আরো বলেন, ২০০৬ সালেও হাওয়া ভবনের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে একই কথা বলেছিলেন। আওয়ামী লীগের সঙ্গে এবং দরকার হলে শয়তানের সঙ্গে হাত মেলাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তারপরে তা আর হয়নি। আমরা এই জোট করি না।

গত ২২ সেপ্টেম্বর মহানগর নাট্যমঞ্চে ঐক্য প্রক্রিয়ার নাগরিক সমাবেশ প্রসঙ্গে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, হেফাজতের ঢাকা জেলার সাধারণ সম্পাদক সেই সমাবেশে অংশ নেন, যার নেতৃত্বে ২০১৩ সালে হেফাজতের তাণ্ডবের সময় সিপিবি অফিসে আগুন দেওয়া হয়।

ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতাদের রাজপথে নেমে আন্দোলন করার আহ্বান জানিয়ে সেলিম বলেন, তারা যেসব দাবি করেছে, আমি আশা করব, এই দাবিতে তারা রাজপথে নামবে। প্রেসক্লাব থেকে শহীদ মিনার যাওয়ার পথে দুই ফুট এগিয়ে আবার ফিরে আসবে না।

আওয়ামী লীগ বা বিএনপির নেতৃত্বাধীন কোনও জোটে সিপিবি যাবে না জানিয়ে দলটির সভাপতি বলেন, এক দুঃশাসন শেষ হলে আরেক দুঃশাসন এসে পড়ে। তিন দশক ধরে আমরা এই অবস্থায় আছি। এই দুঃশাসনের দুষ্টুচক্র ভাঙতে হবে।

আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয়েই এই দেশের নির্বাচনকে প্রহসন বানিয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রসঙ্গে সিপিবি নেতা সেলিম বলেন, পরিস্থিতি বুঝে তারা সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে এখন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে তারা আন্দোলন করবেন। প্রয়োজনে তারা নির্বাচন বয়কট করতে পারেন, আবার অংশও নিতে পারেন। অংশ নিলে বামজোট ও প্রগতিশীল ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে তারা ৩০০ আসনে প্রার্থী দেবেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, সিপিবির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম। সেখানে বলা হয়, সরকার ২০১৪ সালের মতো আরও একটি একতরফা নির্বাচনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করছে। তফসিল ঘোষণার আগে সরকারকে পদত্যাগ করে আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ তদারকি সরকার গঠনের দাবিও জানানো হয়। এ ছাড়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮–এর সমালোচনা করে বলা হয়, মানুষের কথা বলার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলন থেকে জানানো হয়, আগামী ৫ অক্টোবর বেলা তিনটায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ ও লাল পতাকা মিছিল করবে সিপিবি।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য অনিরুদ্ধ দাশ, সহসাধারণ সম্পাদক কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন প্রমুখ।