Main Menu

১৪ দলের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ নাসিম

ডুবন্ত বিএনপিকে বাঁচাতে মাঠে ওয়ান-ইলেভেনের কুশীলবরা : ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় ২৯ সেপ্টেম্বর নাগরিক সমাবেশ

ওয়ান-ইলেভেনের কুশীলবরা ডুবন্ত বিএনপিকে বাঁচাতে মাঠে নেমেছেন বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ১৪ দলীয় জোটের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম। তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধী, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী ও বর্ণচোরা রাজনৈতিক নেতারা গণতন্ত্রের নামে নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। আর বিএনপি জনবিচ্ছিন্ন নেতাদের ভাড়া করে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে মাইনাস করার জন্য মাঠে নেমেছে।

রাজধানীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে সোমবার দুপুরে ১৪ দলের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় ২৯ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে নাগরিক সমাবেশ ও অক্টোবর মাসের মধ্যে দেশের প্রতিটি বিভাগীয় শহরে ১৪ দল সমাবেশ করবে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।

তিনি বলেন, ২২ সেপ্টেম্বর মহানগর নাট্যমঞ্চে একটি নাটক অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্বাধীনতাবিরোধীদের লালন-পালনকারী, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের সুযোগ-সুবিধাদানকারী, মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান দিয়ে রাজনীতি করেন যারা এবং বর্ণচোরা ১/১১ সরকারের কুশীলবরা একই মঞ্চে বসে নাটক করলেন।

নাসিম বলেন, তারা একই মঞ্চে বসে গণতন্ত্রের নামে নতুন করে একটি ঘোষণা দিয়েছেন। এ গণতন্ত্রের কথা বলেই ১/১১ সৃষ্টি করা হয়েছিল। ১/১১-এর কুশীলবরা এ মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। তাদের মানুষ চিনে এবং জানে। তারা ১/১১ সৃষ্টি করে মূলত শেখ হাসিনাকে মাইনাস করতে চেয়েছিল কিন্তু তারা দেশের জনগণের কাছে পরাস্ত হয়েছিল।

তিনি বলেন, ১/১১ সরকারের আগেও এ রকম নাগরিক সমাবেশ, বুদ্ধিজীবী সমাবেশের নামে এ ধরনের নাটক করা হয়েছিল। ওই সময় একজন বিখ্যাত ব্যক্তির ইঙ্গিতে করা হয়েছিল। আবারও সেই চক্রান্তের অশুভ ইঙ্গিত আমরা দেখতে পাচ্ছি। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই যে, কেউ নির্বাচন করতে চাইলে কোনো সমস্যা নেই, জোট, মহাজোট করে নির্বাচন করেন কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু নির্বাচন নিয়ে নতুন করে কোনো চক্রান্ত ও ফন্দি করবেন না। এটা আমরা সহ্য করব না। জাতীয় ঐক্যের নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা দুর্নীতিবাজ, দণ্ডিত ব্যক্তির পক্ষে কেন নেমেছেন তা আমরা বুঝতে পারছি। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে সেই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের রায় হবে। তখন আপনারা তড়িঘড়ি করে বিএনপিকে সঙ্গে নিয়ে দেশের জনগণকে অন্যদিকে নিয়ে যাবেন। তা কখনই হবে না।

মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বিএনপি নিজেরা এমন নেতৃত্ব সৃষ্টি করেছে যে, এখন অন্য নেতৃত্বকে ভাড়া করতে হচ্ছে। বিএনপিকে এখন জনবিচ্ছিন্ন নেতাদের ভাড়া করতে হচ্ছে এটা বড়ই দুর্ভাগ্য। এমনকি তারা এখন খালেদা জিয়াকে মাইনাস করার জন্য মাঠে নেমেছে, অন্য নেতাদের ভাড়া করে এনে তারা নিজেদের দুই নেতাকে মাইনাস করার জন্য মাঠে নেমেছে।

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার অ্যা ব্রোকেন ড্রিম বই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কারও প্ররোচনায় তিনি যে জুডিশিয়াল ক্যু করতে চেয়েছিলেন, সেটা পারেননি বলে উনার হার্টটাই এখন ব্রোকেন হয়ে গেছে, তাই তিনি এ বইটা লিখেছেন। উনি নিজেই সংবাদ সম্মেলন করে ঢাকা ছেড়েছিলেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, জুডিশিয়াল ক্যু ষড়যন্ত্রের মঞ্চে যারা ছিলেন, তারা আজকে ডুবন্ত বিএনপিকে উদ্ধার করার জন্য মাঠে নেমেছেন। সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও খুনের হাওয়া ভবন তৈরি করার জন্য। ড. কামাল হোসেনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, যিনি আইনের কথা ও আইনের শাসনের কথা বলেন। তিনি আজকে চান আবার দুর্নীতিবাজ, ২১ আগস্টের হত্যাকারীদের সহায়তাকারীদের রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠা করতে।

নাসিম বলেন, নতুন নতুন ইস্যু তৈরি করে তারা নির্বাচনকে শুধু বিলম্বিতই করতে চায় না, নির্বাচনকে ধ্বংস ও নস্যাৎ করতে চায়। কিন্তু আমরা বলতে চাই, যে কোনো মূল্যে সংবিধান অনুযায়ী শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন হবে, এর কোনো ব্যত্যয় হবে না। ১৪ দলের মুখপাত্র বলেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে শেখ হাসিনার নির্দেশে দেশের প্রতিটি ইঞ্চি জমিতে আমরা থাকব। কোনো ছাড় দেয়া হবে না।

এক প্রশ্নের জবাবে জোটের আহ্বায়ক বলেন, আগামী নির্বাচনে ১৪ দলীয় জোটের কে কত আসন পাবেন সেই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, উপদফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া। জোট নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাসদ একাংশের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের আহ্বায়ক ওয়াজেদুল ইসলাম মিয়া, গণআজাদী লীগের এসকে সিকদার প্রমুখ।

ড. কামালের সমালোচনা : ১৪ দল সূত্র জানায়, বৈঠকে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের তীব্র সমালোচনা করা হয়। জাসদ একাংশের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের আহ্বায়ক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম, ওয়ার্কার্স পার্টির আনিসুর রহমান মল্লিক, তরিকত ফেডারেশনের নজিবুল বশর, জাসদ আরেকাংশের সাধারণ সম্পাদক শিরিন আখতার ও সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়–য়া তাদের আলোচনায় ড. কামালের তীব্র সমালোচনা করেন। তারা বলেন, উনি আইনের শাসনের কথা বলেন, অথচ বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড, যুদ্ধাপরাধী এমনকি ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিচারের বিষয়েও নির্লিপ্ত ও নিশ্চুপ। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তার কোনো ভূমিকা নেই। ড. কামালসহ অনেকে ওয়ান-ইলেভেনের আগে নাগরিক ঐক্যের নামে এমনি কিছু করেছিলেন যার ধারাবাহিকতায় ওয়ান-ইলেভেন এসেছিল। এবারও জাতীয় ঐক্যের নামে একই ধরনের ষড়যন্ত্র করছেন তারা।

ওবায়দুল কাদের বাহুল্য বক্তব্য দিয়েছেন : বৈঠকে ওয়ার্কার্স পার্টির পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ‘আওয়ামী লীগ ছাড়া জাতীয় ঐক্য হবে না’ বক্তব্যকে বাহুল্য বক্তব্য বলে সমালোচনা করা হয়। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের এমন কথা বলার দরকার ছিল না।

বাড়ছে না ১৪ দলের শরিক : বৈঠকে আবারও ১৪ দলের শরিক বাড়ানোর প্রসঙ্গ আসে। তখন শরীফ নুরুল আম্বিয়া, ওয়াজেদুল ইসলাম বলেন, যদি কেউ জোটে আসতে চায় তাদের মহাজোটগতভাবে শরিক করা যেতে পারে। ১৪ দল আদর্শিক জোট। এতে আদর্শের সঙ্গে সঙ্গতি না থাকলে আর কাউকে নেয়ার দরকার নেই। তরিকত ফেডারেশনের নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী তাদের বক্তব্য সমর্থন করেন। আসন বণ্টনের বিষয়ে শরিকরা আলোচনা চাইলে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী ফিরলে দ্রুত তার সঙ্গে শরিকদের বৈঠকের ব্যবস্থা করা হবে।