Main Menu

জাকারিয়ার চোখের সামনেই পরিবারের ৪ জনকে পিষে ফেলল ট্রাক

Sharing is caring!

হৃদরোগে আক্রান্ত মারা যান শ্যালক। তাঁর জানাযা ছিলো রোববার (২ মে) সকালে। জানাযায় শরিক হতে স্ত্রী, ভাইয়ের স্ত্রী, ভাতিজা-ভাতিজি ও বোনকে নিয়ে শ্যালকের বাড়ি জৈন্তাপুরের দরবস্ত যাচ্ছিলেন জৈন্তাপুরের রূপচেঙ গ্রামের জাকারিয়া আহমদ। কিন্তু জানতেন না, তার পরিবারেরই চারজনের প্রাণ কেড়ে নেয়ার জন্য রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছেন মৃত্যুদূত।

সিলেটের জৈন্তাপুরের দরবস্ত এলাকার বাসিন্দা আবদুল কাইয়ুম গত শনিবার রাতে হৃদ্‌রোগে মারা যান। রোববার (২ মে) সকালে তাঁর জানাজার কথা ছিল। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সেখানে যাচ্ছিলেন কাইয়ুমের দুলাভাই জাকারিয়া আহমদ।

রোববার সকাল ছয়টার দিকে জাকারিয়াদের অটোরিকশা পৌঁছায় জৈন্তাপুর ফেরিঘাট এলাকায়। সেখানে ট্রাকের ধাক্কায় পরিবারটির চার সদস্য ও অটোরিকশার চালক নিহত হন। আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি জাকারিয়া। একসঙ্গে পরিবারের চার সদস্যকে হারিয়ে তাঁর কান্না থামছেই না। মানসিক যন্ত্রণা সইতে না পেরে বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন এবং নিজেরই মৃত্যু কামনা করছেন।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন- রূপচেঙ গ্রামের জামাল উদ্দিনের (জাকারিয়ার ছোট ভাইয়ের) স্ত্রী সাদিয়া বেগম (৩০), সাদিয়ার মেয়ে সাবিয়া বেগম (৪), ছেলে তাহমিদ হোসেন (৩ মাস), জাকারিয়ার বোন হাবিবুন নেছা (৩৮) ও একই গ্রামের অটোরিকশাচালক হোসেন আহমদ (৩৫)।

চোখের সামনে পরিবারের সদস্যদের মৃত্যু দেখে নিজেকে সামলে রাখতে পারছিলেন না জাকারিয়া আহমদ। সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিছানার পাশে দাঁড়িয়ে যখন স্বজনেরা সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন জাকারিয়াকে, তখন নিজের মৃত্যু কামনা করে বার বার কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন তিনি।

জাকারিয়া জানান, শ্যালক মারা যাওয়ার খবর শুনে রোববার সকালে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দুটি অটোরিকশায় করে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। একটিতে তিনিসহ মোট সাতজন ছিলেন। অন্য অটোরিকশায় উঠেন তাঁর ছোট ভাই অন্যরা। তাঁদের (জাকারিয়াদের) অটোরিকশাটি কিছুটা পেছনে পড়ে। সাড়ে ছয়টার দিকে অটোরিকশাটি জৈন্তাপুর ফেরিঘাট এলাকায় সিলেট-তামাবিল মহাসড়কে উঠার সময় সিলেট থেকে তামাবিলের দিকে যাওয়া একটি ট্রাক সজোরে সেটিকে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশাটিতে থাকা যাত্রীরা ছিটকে পড়েন। অটোরিকশাচালকসহ তিন যাত্রী ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হন।

এরপর আর কিছু মনে নেই জাকারিয়ার। জ্ঞান ফেরার পর তিনি নিজেকে হাসপাতালের শয্যায় দেখতে পান এবং শুনতে পান- তাঁর পরিবারের একসঙ্গে চার সদস্য মারা গেছেন। এর পর থেকে এখনও স্বাভাবিক হতে পারেননি জাকারিয়া।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*