Main Menu

গোপনে চলছে ব্রেক্সিট সমঝোতা

বেশ কয়েক সপ্তাহ যাবৎ ব্রেক্সিট ইস্যুতে আনুষ্ঠানিক কোনো বৈঠকের খবর শোনা যায় না । তাই বলে থেমে নেই উভয় পক্ষের দৌড়-ঝাঁপ। শেষ সময়ে এসে আলোচনার আনুষ্ঠানিকতার বদলে গোপনেই চলছে দর-কষাকষি।

গত সেপ্টেম্বরে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মের প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দিয়েছিলেন ইইউ নেতারা। ওই ঘটনার পর উভয় পক্ষে কয়েক দিন উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় চলে। তারপর হুট করেই দৃষ্টির আড়ালে চলে যায় ব্রেক্সিট সমঝোতা।

চলতি সপ্তাহে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে জানান, সমঝোতার কাজ প্রায় ৯৫ শতাংশ হয়ে গেছে। তিনি মন্ত্রী পরিষদের বৈঠক ডেকে তাঁদের সামনে খসড়া প্রস্তাব তুলে ধরেন। সরকারের অংশীদার নর্দান আয়ারল্যান্ডের প্রাদেশিক দল ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টিকেও (ডিইউপি) চিঠি দিয়ে খসড়া প্রস্তাবের বিষয়ে জানান যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী।

নতুন এই প্রস্তাবের বিস্তারিত এখনো প্রকাশ হয়নি। তবে এ নিয়ে সরকারের মধ্যে ফাটল স্পষ্ট হয়েছে। পরিবহন দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী জো জনসন খসড়া প্রস্তাবের বিরোধিতা করে শুক্রবার পদত্যাগ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, ব্রেক্সিট নিয়ে প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মধ্যে বিশাল ফারাক আছে। ব্রেক্সিট চুক্তি বাস্তবায়ন প্রশ্নে গণভোট আয়োজনের আহ্বান জানান জনসন। জনগণ বিচ্ছেদের পক্ষে ভোট দিয়েছে বলে যেকোনো প্রকারে বিচ্ছেদ কার্যকর করাকে ‘গণতন্ত্রের বিকৃত চর্চা’ (ডেমোক্রেটিক ট্রাভেস্টি) বলে অভিহিত করেন তিনি । জো জনসন বলেন, থেরেসা মের প্রস্তাব যুক্তরাজ্যকে এমন বিকল্পের মধ্যে উপনীত করেছে যেখানে একদিকে ইইউ’র মুখাপেক্ষিতা, অন্যদিকে চুক্তিবিহীন বিচ্ছেদের বিপর্যয় ।

এদিকে ডিইউপি নেতা আরলেন ফোস্টার নতুন প্রস্তাবের বিরোধিতা করে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে নর্দান আয়ারল্যান্ড ও স্বাধীন আয়ারল্যান্ডের মধ্যকার মুক্ত সীমানা রক্ষার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করতে যাচ্ছেন। এমন চুক্তির পক্ষে তাঁর দল সংসদে সরকারকে সমর্থন দেবে না বলে জানিয়ে দেয়।

প্রসঙ্গত, থেরেসা মের সরকার সংসদে কোনো আইন পাশ করতে গেলে ডিইউপি’র সমর্থন দরকার হয়। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় ১০ এমপি সংবলিত ডিইউপি’র সঙ্গে সমঝোতা করে সরকার গঠন করেন মে।

প্রসঙ্গত, ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বিচ্ছেদকেই বলা হচ্ছে ব্রেক্সিট। যা ‘ব্রিটেন এক্সিট’ এর সংক্ষেপিত রূপ। আগামী ২৯ মার্চ এই বিচ্ছেদ কার্যকর হবে বলে দিনক্ষণ ঠিক করা আছে। তার আগে বিচ্ছেদ পরবর্তী ইইউ’র সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য ও অন্যান্য আদান-প্রদানের সম্পর্ক কী হবে— তা নিয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে মরিয়া ব্রিটিশরা। সম্ভাব্য এই চুক্তিকেই বলা হচ্ছে ব্রেক্সিট চুক্তি।

অক্টোবর মাসের মধ্যেই একটি চুক্তিতে পৌঁছার প্রত্যাশা করেছিল উভয় পক্ষ। কিন্তু চাওয়া-পাওয়ার দূরত্বের কারণে তাঁরা কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেননি। ফলে চুক্তিবিহীন বিচ্ছেদের বিপর্যয় এড়াতে চলতি মাসের মধ্যেই একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে মরিয়া ব্রিটিশরা। কারণ, ২৯ মার্চ বিচ্ছেদ হওয়ার আগেই সম্পাদিত চুক্তি ব্রিটিশ পার্লামেন্ট এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টের পাশাপাশি ইইউ’র সদস্য ২৭টি দেশের সংসদে পাশ করিয়ে নিতে হবে।

মূলত স্বাধীন আয়ারল্যান্ড এবং নর্দান আয়ারল্যান্ড সীমান্ত ব্যবস্থাপনা প্রশ্নে মতবিরোধে আটকে আছে চুক্তি। নর্দান আয়ারল্যান্ড যুক্তরাজ্যের অংশ। কিন্তু স্বাধীন আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে নর্দান আয়ারল্যান্ডের সীমান্ত উন্মুক্ত রাখবে বলে চুক্তিবদ্ধ যুক্তরাজ্য। কিন্তু স্বাধীন আয়ারল্যান্ড ইইউ’র সদস্য । ফলে বিচ্ছেদের পর আয়ারল্যান্ড সীমান্ত উন্মুক্ত রাখার মানে হবে ইইউ’র সঙ্গে সীমানা উন্মুক্ত রাখা।

যুক্তরাজ্য চেয়েছিল ইইউ’র সঙ্গে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করতে। তা করতে পারলে সীমান্ত বিরোধ আর থাকত না। কিন্তু ইইউ তাতে রাজি হয়নি, কারণ জোট ত্যাগী ব্রিটিশদের তারা জোটের সদস্যদের সমান বাণিজ্য সুবিধা দিতে রাজি নয়। ফলে এই সীমান্ত ব্যবস্থাপনার সুরাহা নিয়ে বেকায়দায় পড়েছে ব্রিটিশরা।