Main Menu

গাম্বিয়ার মামলায় সমর্থন দিতে ব্রিটিশ এমপিদের আহ্বান

Sharing is caring!

রোহিঙ্গা গণহত্যা নিয়ে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) গাম্বিয়ার করা মামলায় সমর্থন দিতে যুক্তরাজ্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন শতাধিক ব্রিটিশ পার্লামেন্টেরিয়ান (এমপি)। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথবিষয়ক মন্ত্রী ডমিনিক রাবের বরাবরে পাঠানো চিঠিতে তারা এ আহ্বান জানান। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের।

মিয়ানমার সরকার এবং দেশটির সামরিক বাহিনীর নির্যাতন থেকে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন দলের ১০৪ জন এমপি আহ্বান জানান। রোহিঙ্গা অধিকার সম্পর্কিত সর্বদলীয় সংসদীয় গ্রুপের কো-চেয়ার রুশনারা আলী ও জেরেমি হান্ট এমপিদের পক্ষে চিঠিতে স্বাক্ষর করেন।

চিঠিতে বলা হয়, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনে মিয়ানমার সরকারের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। সুতরাং এটি স্পষ্ট, এখনই অনেক কিছু করা প্রয়োজন। আমরা নিশ্চিত যুক্তরাজ্য এ মামলায় হস্তক্ষেপ করলে আইনগত ও প্রতীকীভাবে উল্লেখযোগ্য সহযোগিতা করা হবে। কেবল ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ও আন্তর্জাতিক আইনকে সমর্থন করতেই নয়, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর দ্বারা আরও আন্তর্জাতিক অপরাধ রোধ করাও জরুরি। মানবাধিকারের বিষয়ে যুক্তরাজ্য ঐতিহাসিকভাবে বিশ্বকে নেতৃত্ব দিয়েছে। যুক্তরাজ্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ‘পেন হোল্ডার’ এবং যৌন সহিংসতা প্রতিরোধ উদ্যোগের প্রতিষ্ঠাতা। এতে বলা হয়, একই সঙ্গে আমাদের নেতৃস্থানীয় ভূমিকা এবং নিরাপত্তা পরিষদের পেন হোল্ডার হিসেবে আমাদের মর্যাদা থাকা সত্ত্বেও এ মামলায় আমাদের যোগ দিতে না পারা সামরিক বাহিনীকে ভুল বার্তা দিতে পারে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘আইসিজে’তে করা মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে অংশগ্রহণের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের উচিত বিশ্বমঞ্চে মানবাধিকার এবং আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখতে নিজের দায়িত্ব যথাযথ পালন করা। ন্যায়বিচার নিশ্চিতে ব্যর্থ হলে বিশ্বের দমনমূলক সরকারগুলোর কাছে বাজে বার্তা যাবে। তারা জাতিগত নিধন এবং গণহত্যাকে গ্রহণযোগ্য হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে থাকবে।

২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নৃশংস সামরিক অভিযানের পর সাড়ে ৭ লাখ রোহিঙ্গা দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। রোহিঙ্গাদের প্রতি সে দেশের সেনাবাহিনীর আচরণ গণহত্যা কনভেনশন লঙ্ঘন করেছে বলে গাম্বিয়া মামলায় উল্লেখ করেছে। আদালত একটি অস্থায়ী ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে-মিয়ানমারে থাকা রোহিঙ্গাদের রক্ষার জন্য ব্যবস্থা নেয়া এবং আদালতে নিয়মিত প্রতিবেদন দাখিল করা। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের মাধ্যমে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যার তদন্ত এবং বিচার নিশ্চিতের জন্য ২০১৯ সালে জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন কঠোরভাবে সুপারিশ করে। এছাড়া কানাডা ও নেদারল্যান্ডস ইতোমধ্যে এ মামলায় হস্তক্ষেপ করেছে। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে রোহিঙ্গাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*