Main Menu

কেমন আছে ডা. মঈনের পরিবার?

Sharing is caring!

গতবছরের ১৫ এপ্রিল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছিলেন সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারি অধ্যাপক ডা. মঈন উদ্দিন। দেশে করোনায় মারা যাওয়া প্রথম চিকিৎসক তিনি। আর সিলেটে করোনায় প্রথম আক্রান্ত হওয়া ও প্রথম মারা যাওয়া ব্যক্তিও ডা. মঈনের।

ডা. মঈনের মৃত্যুর পর দেশজুড়ে বেশ তেলাপাড় শুরু হয়। দেশের স্বাস্থ্যখাতের দুরাবস্থা আর চিকিৎসকদের নিরাপত্তার বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে তখন। ডা. মঈনের পরিবার নিয়ে তখন বেশ আলোচনা হয়। মৃত্যুর পর তাৎক্ষিণকভাবে সরকারের পক্ষ থেকে ডা. মঈনের পরিবারকে ৫০ লাখ টাকা সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার, আরেক ১৫ এপ্রিল। ডা. মঈন উদ্দিনের মৃত্যুর একবছর পূর্ণ হয়েছে। এখন কেমন আছে তার পরিবার তা জানতে বৃহস্পতিবার যোগাযোগ করা হয় মঈনের স্ত্রী চৌধুরী রিফাত জাহান চৌধুরীর সাথে। তিনি নিজেও একজন চিকিৎসক। সিলেটের একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কাজ করছেন।

রিফাত জাহান চৌধুরী বলেন, অকালে মঈনকে হারানোর শোক তো ভোলার নয়। তবে এই একবছরে সামলে নেওয়ার চেষ্টা করছি। বিশেষত বাচ্চাদের জন্য আবার নতুন করে শুরু করার চেষ্টা করছি।

মঈন ও রিফাত দম্পত্তির দুই সন্তান। নগরের হাউজিং এস্টেটে আগের বাসায়ই সন্তানদের নিয়ে থাকছেন রিফাত। এই ভবনের অন্যান্য ফ্ল্যাটে তার আত্মীয়-স্বজনরাও রয়েছেন।

রিফাত বলেন, করোনার কারণে মঈন উদ্দিনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে পারিবারিকভাবে তেমন কোনো আয়োজন ছিল না। বাসায় ব্যক্তিগত ভাবে বাসায় দোয়া করেছি। তার সহকর্মী আত্মীয়সজনসহ বিভিন্ন মানুষজন মোবাইলে কল করে খোঁজ খবর নিয়েছেন। সহকর্মীদের অনেকেই মসজিদে দোয়া পড়িয়েছেন বলে জানিয়েছেন তার স্ত্রী।

ডা. মঈনকে ছাড়া কেমন আছেন তার স্ত্রী-সন্তানরা। রিফাত বলেন, প্রিয়জনকে ছাড়া খুব একটা ভাল থাকা যায় না। তারপরও সন্তানদের নিয়ে ভাল থাকার চেষ্টা করছি।

স্বামী হারানোর শোক কাটিয়ে রিফাতও ফিরেছেন তার চিকিৎসা পেশায়। পাশাপাশি বাচ্চাদেরকেও সময় দিচ্ছেন।

চৌধুরী রিফাত জাহান বলেন, বাচ্চাদের নিয়ে ভালই আছি। বাচ্চাদের স্কুল বন্ধ। তারা তাই বাসয়ই আছে। বিভিন্ন সময় বাবার কথা জিজ্ঞেস করে। তাদের সন্তনা দেওয়ার চেষ্টা করি। তার সহকর্মী, আত্মীয়সজনসহ বিভিন্ন মানুষজন মোবাইলে কল করে খোঁজ খবর নিচ্ছেন। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন আমরা যেন ভাল থাকতে পারি।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ৫ এপ্রিল সিলেটে প্রথমবারের মতো করোনাভাইরাস আক্রান্ত কোনো রোগীর সন্ধান মেলে। আক্রান্ত হওয়া ব্যক্তি পেশায় চিকিৎসক। তিনি ডা. মঈন উদ্দীন। প্রথমে বাসায় থেকেই চিকিৎসা নেন ডা মঈন। এরপর অবস্থার ৭ এপ্রিল রাতে তাকে নগরের শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। ৮ এপ্রিল উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১৫ এপ্রিল ভোরে সেখানেই মারা যান। যদিও ডা. মঈনের পরিবার অভিযোগ করেছিলেন, সিলেটে আইসিইউ চেয়েও পাননি ডা. মঈন। তবে সংশ্লিষ্টরা এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।

ডা. মঈনের মৃত্যুর পর দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। চিকিৎসকদের মধ্যেও ক্ষোভ ও আতঙ্ক দেখা দেয়। তার মৃত্যুর সাথেসাথেই সরকারের পক্ষ থেকে পরিবারকে ৫০ লক্ষ টাকা সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দেওয়া হয়। যা ইতোমধ্যে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান তার স্ত্রী।

ডা. মঈন উদ্দিন ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন। নগরের সুবহানিঘাটে ইবনে সিনা হাসপাতালে তিনি প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতেন। সিলেটের সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার সিদ্দিক আলীর ছেলে ডা. মঈন।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*