Main Menu

কুলাউড়ায় আশুরা পালিত: ‘জিঞ্জির দিয়ে শরীরে আঘাত’

Sharing is caring!

য় হোসেন, হায় হোসেন ধ্বনিতে আর নিজ শরীর রক্তাত্ব করে কুলাউড়ার পৃথিমপাশার শিয়া সম্প্রদায়ের মুসলমানরা পালন করলো ১০ মহরম পবিত্র আশুরা।

অন্যান্য বছর নবাব বাড়িতে কয়েক লক্ষ মানুষের পদচারনায় মুখরিত হলেও করোনায় এবার তেমন উপস্থিতি ছিল না। পৃথিমপাশা নবাব বাড়িতে প্রবেশও ছিলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বেশ কড়া নজরদারি।

শুক্রবার (২০ অগাষ্ট) দেশের বিভিন্ন স্থানের ন্যায় ধর্মীয় ভাবগাম্বীর্যে সীমিত পরিসরে পালন করা হয়েছে দিবসটি। আয়োজন ‘সীমিত’ পরিসরে হলেও, সীমিত ছিল না আগত মানুষের শোক। হৃদয়ের অন্তঃস্থল থেকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেছেন কারবালা প্রান্তরে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসাইনকে (রা.)।

শুক্রবার সকাল থেকেই থেকেই পৃথিমপাশা নবাব বাড়ির হোসনি দালান ও এর আশপাশের এলাকায় ভিড় জমাতেন শুরু করেন শিয়া সস্প্রদায়ের অনুসারী। তাদের বৃহৎ ধর্মীয় উৎসবে সুন্নী মুসলমানদের পাশাপাশি যোগ দেন ভিন্ন ধর্মালম্বীরা।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে হোসনি দালান প্রাঙ্গণে সীমিত আকারে বের হওয়া তাজিয়া মিছিলে যোগ দেন বিপুল সংখ্যক মানুষ। দালান প্রাঙ্গণ কানায় কানায় পরিপূর্ণ ছিল শোকার্ত মানুষে। শোকের রঙ কালো পোশাক পরিধানের পাশাপাশি তাদের হাতে ছিলো কালো, সবুজ, লাল রঙের আলাম বা নিশান।

দীর্ঘ চারশত বছরেরও বেশী সময় ধরে পবিত্র আশুরা পালন করে আসছে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের নবাব বাড়ি।

এবার হাতির বহর আর বাদ্যযন্ত্র ছাড়াই পালন করা হয়েছে দিবসটি। প্রতিবার এ দিবসটি উপলক্ষে শিয়া সম্প্রদায় সু-সজ্জিত তাজিয়া মিছিল করে থাকে। গেল দুটি বছর ধরে আশুরা পালন হচ্ছে করোনার প্রাদুর্ভাবের মধ্যে। সংক্রমণের আশঙ্কায় সরকার তাজিয়া মিছিল করার অনুমতি দেয়নি, ফলে শিয়া সম্প্রদায়ও রাস্তায় তাজিয়া মিছিল বের না করে নবাব বাড়ির হোসেনি দালানে অবস্থিত ইমাম বাড়ি চত্বরে তাদের কর্মসূচি সীমিত রাখে। তাদের মিছিলে অংশ নেয় তরফি সাহেব বাড়ির আলম মিছিল।

আজ ১০ মহরম বেলা সাড়ে ৪টায় পৃথিমপাশা নাবাব বাড়ির হোসেনি দালান থেকে ধর্মী ভাবগাম্বীর্যের মধ্যে দিয়ে বের হয় সীমিত তাজিয়া মিছিল। শিয়া সম্প্রদায়ের সামান্য সংখ্যক পুরুষ যুদ্ধের নানা অনুসঙ্গ, তাজিয়া, কালো, লাল ও সবুজ নিশান উড়িয়ে মিছিলে অংশ নেয়। পা নগ্ন রেখে মিছিলে অশংগ্রহণকারীরা শোকের প্রতীক কালো পোষাক পরিধান করে।

কারবালার নির্মম হত্যাকান্ড ও ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর প্রাণপ্রিয় দৌহিত্র ইমাম হোসেন (রা.) শাহাদৎ বরণের শোকে কাতর হয়ে শিয়া সম্প্রদায়ের মুসলমানরা ধারালো ছোরাগুচ্ছ রশিতে বেধে নিজের শরীরেকে অবলীলায় রক্তত্ব করে। ফলে বুক ও পিঠ থেকে ঝরছে রক্ত।

কারো কারো কালো জামা রক্তে ভিজে চুপসে গেছে আর সাদা জামা হয়ে উটে রক্তে লালে-লাল। তবুও ‘হায় হোসেন, হায় হোসেন’ ধ্বনিতে প্রকম্পিত হচ্ছে আকাশ-বাতাস। তাজিয়া মিছিলে বুক চাপড়ে, জিঞ্জির দিয়ে শরীরে আঘাত করে প্রকাশ করা হয় মাতম।

এতে কঠোর নিরাপত্তার চাদরে বেষ্টিত ছিল পৃথিমপাশার নবাব বাড়ি। উপস্থিত ছিলেন কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম ফরহাদ চৌধুরী, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও কুলাউড়া থানার অফিসার বিনয় ভূসণ রায়।

এদিকে শান্তি পূর্ণূভাবে আশুরা পালিত হওয়ায় নবাব বাড়ির পক্ষ থেকে প্রশাসন ও সর্বস্তরের জনসাধারনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন উক্ত অনুষ্ঠানের মোতাওয়াল্লী মৌলভীবাজার-২ আসনের সাবেক এমপি নবাব আলী আব্বাছ খান।

অপরদিকে ১ মহরম থেকে ১০ মহরম পযর্ন্ত নবাব বাড়িতে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে ছিল জিগির আজগার, কোরআনে তেলাওয়াত, মিলাদ মাহফিল, আলোচনা সভা, কাঙ্গালী ভোজসহ নফল নামায ও রোজা।

উল্লেখ্য, কথিত আছে প্রায় ১ হাজার ৩৩২ বছর আগে আরবি মহরম মাসের ১০ তারিখ মহানবী হযরত মুহাম্মদের (সা.) এর দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসেন (রা.) এবং তার ৭২ অনুসারীরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে যুদ্ধ করতে গিয়ে ফোরাত নদীর তীরে কারবালার প্রান্তে ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে শহীদ হন। সে দিন থেকেই দিনটি অত্যন্ত তাৎপযর্ম শোকাবহ, হৃদয়বিদারক হয়ে উঠে মুসলিম উম্মার জন্য এবং সত্য ন্যায় ও ইসলামের আদর্শকে উর্ধ্বে তুলে ধরার দিন ১০ মহরম। এ দিনের শোক স্মৃতিকে স্মরণ করে নারা বিশে^ও মুসলমানরা দিনটিকে পবিত্র আশুরা হিসাবে পালন করে আসছে।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*