Main Menu

ইউরোপজুড়ে করোনার ২য় তরঙ্গের আঘাত: বাড়ছে সংক্রমণ ও মৃত্যু

Sharing is caring!

ইউরোপজুড়ে আশঙ্কার বাস্তবরূপ নিতে যাচ্ছে মহামারি করোনার দ্বিতীয় তরঙ্গ। ইতোমধ্যেই বৃটেনসহ ইউরোপের স্পেন ও ফ্রান্সে বাড়তে শুরু করেছে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার। ব্রিটিশ চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা অনুযায়ী প্রতিদিন ২ শতাধিক মৃত্যুর ভয়াবহতায় প্রবেশ করেছে বৃটেন। ২০ অক্টোবর, মঙ্গলবার করোনায় ২৪১ জনের মৃত্যুর রেকর্ড করা হয়েছে, যা গত জুন মাসের পর সর্বোচ্চ। আর নতুন করে সংক্রমণের সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়েছে ২১,৩৩১।
বৃটেনসহ ইউরোপজুড়ে ক্রমশ অবনতির দিকে যাচ্ছে করোনা পরিস্থিতি। এরই প্রেক্ষিতে ইউরোপের প্রথম দেশ হিসেবে দেশজুড়ে পূর্ণ লকডাউন ঘোষণা করেছে আয়ারল্যা-। ২১ অক্টোরব, বুধবার মধ্যরাত থেকে ৬ সপ্তাহের জন্য কার্যকর হচ্ছে এই লকডাউন। তবে স্কুল খোলা থাকবে।
বৃটেনের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিস্থিতির আলোকে তিন স্তরের বিধি-নিষেধ চলমান থাকা অবস্থাতেই বাড়তি সতর্কতা হিসেবে ওয়েলসে শনিবার থেকে ২ সপ্তাহের জন্য ‘ফায়ারব্রেক’ নিষেধাজ্ঞা জারী করা হচ্ছে। ফলে অতি প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া মানুষ ঘরের বাইরে যেতে পারবেন না। ঘরে-বাইরে মানুষের মেলেমেশাও সীমিত রাখতে হবে। ব্যবসায়ীদের সহায়তায় ওয়েলস সরকার ৩০০ মিলিয়ন পাউ-ের প্যাকেজ ঘোষণা করেছে।
করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সবচেয়ে কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপ করতে যাচ্ছে স্কটল্যা-। ইংলিশ ফর্মুলার টিয়ার-৩ এর সাথে আরো অতিরিক্ত দুটি রিস্ক লেভেল যুক্ত করে ১৬ দিনের কঠোর বিধিনিষেধের টিয়ার-৫ এর ঘোষণা দিয়েছেন স্কটিশ ফার্স্ট সেক্রেটারি নিকোলা স্টার্জিয়ন।
ইউরোপের অন্য অনেক দেশও করোনা পরিস্থিতি সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। বেলজিয়াম সোমবার থেকে এক মাসের জন্য বার ও রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দিয়েছে। গত সপ্তাহে সে দেশের হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। ইতালিও একই পদক্ষেপ নিয়ে মানুষকে যতটা সম্ভব ঘরে থাকার পরামর্শ দিচ্ছে। পোলে-ের প্রায় অর্ধেক অংশ ‘রেড জোন’ হয়ে ওঠায় রাজধানীস্থ জাতীয় স্টেডিয়ামকে অস্থায়ী হাসপাতালে রূপান্তরিত করা হচ্ছে।
সুইজারল্যা-ে বদ্ধ জায়গায় মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। গত সপ্তাহান্ত থেকে প্যারিসসহ ফ্রান্সের নয়টি শহরে সারারাত কারফিউ জারি করা হয়েছে।

সাউথ ইয়র্কশায়ারে শনিবার থেকে টিয়ার-৩ কার্যকর
লিভারপুল সিটির ন্যায় বার্নসলি, ডানকাস্টার, রদারহ্যাম এবং শেফিল্ডে টিয়ার-৩ এর আওতাভূক্ত করা হয়েছে। একই সাথে ল্যাঙ্কাশায়ার এবং গ্রেটার ম্যানচেস্টারকে কঠোর বিধিনিষেধের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। টিয়ার-৩ এর বিধি-নিষেধ অনুযায়ী ওইসব এলাকায় শনিবার সকাল ১২.০১ টা থেকে ওইসব এলাকার পাব ও রেস্টুরেন্ট বাধ্যতামূলকভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে কঠিন বিধিনিষেধে আটকা পড়বেন উল্লেখিত অঞ্চলের আরো প্রায় ১.৪ মিলিয়ন মানুষ। অন্য সমস্ত টিয়ার-৩ টি অঞ্চলের মতোই ওইসব এলাকার পাব এবং রেস্টুরেন্টগুলো যথাযথ বিধি অনুসরণ করে খাবার পরিবেশন করতে না পারলে অবশ্যইবন্ধ করতে হবে।
টিয়ার-৩ এর শীর্ষে অবস্থান হওয়ার কারণে সাউথ ইয়র্কশয়ারের সফট প্লে সেন্টার, বেটিং শপ, ক্যাসিনো এবং অ্যাডাল্ট গেইমিং সেন্টারগুলিও বন্ধ করতে হবে।
এই অঞ্চলের জিম এবং লেজার সেন্টারগুলিকে উন্মুক্ত থাকতে দেওয়া হবে, তবে লেজার সেন্টারগুলিতে ক্লাস করার অনুমতি দেওয়া হবে না।
লিভারপুল সিটি অঞ্চল, ল্যাঙ্কাশায়ার এবং গ্রেটার ম্যানচেস্টারের পর ইংল্যা-ের চতুর্থ এলাকা হিসেবে সাউথ ইয়র্কশায়র টিয়ার-৩ এ প্রবেশ করলো।
শীর্ষ ৩ টিয়ার-৩ অঞ্চলের মতোই সাউথ ইয়র্কশায়ারের লাকেরা বাড়ীর অভ্যন্তরে বা উদ্যানে, বাসা বা বাড়ীতে পারিবারিক কিংবা সামাজিকভাবে কেউ কারো সাথে দেখা করতে নিষেধাজ্ঞা থাকবে।
তবে পার্কের মতো প্রকাশ্য উন্মুক্ত স্থানে ‘রুল অব সিক্স’ তথাসর্বোচ্চ ছয় জনের মিলিত হওয়ার অনুমতি বহাল রয়েছে।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*