Main Menu

ইংল্যান্ডে নতুন করে করোনার সংক্রমণে মুসলমানদের দায়ী করা হচ্ছে

Sharing is caring!

ইংল্যান্ডে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করোনাভাইরাস নিয়ে মুসলমানদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়ানো হচ্ছে। সম্প্রতি ইংল্যান্ডে নতুন করে করোনার সংক্রমণ শুরু হওয়ায় এর জন্য ভিত্তিহীনভাবে মুসলমানদের দায়ী করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সিএনএন এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

ইংল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলে করোনার সংক্রমণ বাড়ায় হঠাৎ করেই যুক্তরাজ্য সরকার সেখানে লকডাউন ঘোষণা করে। এই অঞ্চলের গ্রেটার ম্যানচেস্টার, ব্রুনলি, ব্ল্যাকবার্ন, দারওয়েন, ব্রাডফোর্ড ও লেইকেস্টার। এই এলাকাগুলোর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাসিন্দা মুসলিম। পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপনের কয়েক ঘণ্টা আগে এই এলাকাগুলোতে বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়।

স্থানীয় সময় গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ করে এসব এলাকার বাসিন্দাদের ভিন্ন পরিবারের সদস্যদের মেলামেশা নিষিদ্ধ করা হয়। এতে রীতিমতো ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন স্থানীয় রাজনীতিবিদ ও মুসলিম নেতারা।

ম্যানচেস্টারে লেবার দলীয় কাউন্সিলর রব নেওয়াজ আকবর বলেন,‘ সময়টি…এটি মুসলমানদের মানসিকতায় নাড়া দিয়েছে।’

তিনি বলেন, সরকার ঈদের সন্ধ্যায় এই কাজটি করেছে। ফলে লোকজন ভাবতে বাধ্য হয় যে, এটা মুসলিমদের অপরাধ। আপনি দেখেন, লোকজন কীভাবে এই ধারণা করে। সরকার কোনো চিন্তা-ভাবনা ছাড়াই ঈদের আগের দিন সন্ধ্যায় লকডাউন ঘোষণা করে। তারা বিশেষ এক শ্রেণির জনগোষ্ঠীর ওপর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। লোকজন এমনিতেই ক্ষুব্ধ। এখন সেই ক্ষোভ কেন্দ্রীভূত হয়েছে বিশেষ একটি গোষ্ঠীর ওপর।’

এ ব্যাপারে ডাউনিং স্ট্রিটের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেছেন, কেবল বৈজ্ঞানিক পরামর্শ ও সর্বশেষ তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যেখানে স্থানীয় প্রাদুর্ভাব রয়েছে, সেখানকার জনগণের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি আমাদের অগ্রাধিকারের তালিকায় থাকবে।’

কাউন্সিলর রব নেওয়াজ আকবর কনজারভেটিভ দলীয় এমপি ক্রেগ হুইটেকারেরও সমালোচনা করেন। এলবিসি রেডিওকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই এমপি দাবি করেছেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলো মহামারির নির্দেশনা মেনে চলছে না।

তিনি বলেছেন, ‘আমার নির্বাচনী এলাকায় কমিউনিটিগুলোর মধ্যে দেখেছি তারা মহামারিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে না।’

এর মাধ্যমে তিনি মুসলমানদের দিকে ইঙ্গিত করছেন কিনা জানতে চাইলে হুইটেকার বলেন, ‘অবশ্যই।’

যুক্তরাজ্যে মুসলিমবিরোধী কর্মকাণ্ড নজরদারি সংস্থা টেল মামা এই মন্তব্যের জন্য হুইটেকারকে ক্ষমা প্রার্থণার আহ্বান জানিয়েছেন।

সংস্থাটির পরিচালক ইমান আত্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্যে মহামারির শুরু থেকেই চরম ডানপন্থিরা মুসলমানদের ওপর দোষ চাপিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে অসংখ্য ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ভেসে বেড়াতে দেখেছি। চরম ডানপন্থিরা মুসলমানদের মসজিদে নামাজের জন্য সমবেত হওয়ার ছবি পোস্ট করে বলতে শুরু করে তারা মহামারির বিধি-নিষেধ লঙ্ঘন করছে। অথচ বাস্তবতা হচ্ছে, মসজিদগুলো বন্ধ ছিল। এই ছবিগুলো ছিলো গত বছরের।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*