Main Menu

অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত ডিভাইস চেক করা নিয়ে ইসলাম যা বলে

Sharing is caring!

মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। তাদের মহান আল্লাহ সম্মানিত করেছেন। প্রতিটি মানুষকে কিছু মৌলিক অধিকার দিয়েছেন। তার মধ্যে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা অন্যতম। মহান আল্লাহ তাঁর প্রতিটি বান্দার জন্য নিজের একটি ব্যক্তিগত জগৎ রেখেছেন, যেখানে অন্যায়ভাবে অন্য বান্দাদের অনুপ্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছেন। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদাররা, তোমরা বেশি অনুমান থেকে বেঁচে থাকো। কারণ কিছু কিছু অনুমান তো পাপ এবং তোমরা কারো গোপনীয় দোষ অনুসন্ধান কোরো না।’ (সুরা : হুজরাত, আয়াত : ১২)

ব্যক্তিগত গোপনীয়তার সুরক্ষা : মানুষের গোপনীয় দোষ-ত্রুটি বা তার একান্ত ব্যক্তিগত তথ্য অনুসন্ধান করার অন্য ধরন আছে। তার মধ্যে অন্যতম হলো, তার ব্যক্তিগত ডিভাইস। যেমন—ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অ্যাকাউন্ট, ই-মেইল ইত্যাদি। অনেকে ব্যক্তির অগোচরে এগুলো হাতিয়ে নিয়ে তার একান্ত ব্যক্তিজগতে অনুপ্রবেশ করার চেষ্টা করে। তার পেছনে গোয়েন্দাগিরি করে, যা ইসলামের দৃষ্টিতে অত্যন্ত ঘৃণ্য কাজ। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ আরো বলেছেন, ‘হে মুমিনরা, তোমরা নিজেদের গৃহ ছাড়া অন্য কারো গৃহে প্রবেশ কোরো না, যতক্ষণ না তোমরা অনুমতি নেবে এবং গৃহবাসীদের সালাম দেবে। এটাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ করো।’ (সুরা : নুর, আয়াত : ২৭)

সামাজিকভাবেও এ ধরনের কাজকে কেউ পছন্দ করে না। জাতিসংঘের নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক ঘোষণার ১৭ ন{ ধারায় বলা হয়েছে, ‘কোনো ব্যক্তির নিজস্ব গোপনীয়, পরিবার, বাড়ি ও অনুরূপ বিষয়কে অযৌক্তিক বা বেআইনি হস্তক্ষেপের লক্ষ্যবস্তু বানানো যাবে না, তেমনি তার সুনাম ও সম্মানের ওপর বেআইনি আঘাত করা যাবে না।’

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ঘোষণাপত্রের ১২ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘একজন ব্যক্তি কখনো অন্য এক ব্যক্তির গোপনীয়তা, পারিবারিক বিষয়, বাসস্থান বা যোগাযোগে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। এমনকি আত্মসম্মান নষ্ট হয় এমন কোনো পদক্ষেপও নিতে পারবে না। এ রকম হস্তক্ষেপ বা আক্রমণের বিরুদ্ধে আইন সুরক্ষিত করতে প্রত্যেকের অধিকার আছে।’

গোপনীয়তা ফাঁস পাপ : সুতরাং একান্ত ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বান্দার হক। কেউ যদি অন্যায়ভাবে তা লঙ্ঘন করে, তাহলে সে বান্দার হক নষ্টকারীদের অন্তর্ভুক্ত হবে। আর বান্দার হক যতক্ষণ বান্দা মাফ না করবে, ততক্ষণ মহান আল্লাহও মাফ করবেন না। হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, ‘আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ঋণ ছাড়া শহীদের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’ (মুসলিম, হাদিস : ৪৭৭৭)

উপরোক্ত হাদিসে ঋণের ব্যাপারে শিথিলতা না করার কারণ হলো, এটি বান্দার হক। তাই অন্যের ব্যক্তিগত ডিভাইস, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অ্যাকাউন্ট এবং সেখানে সংরক্ষিত ম্যাসেজ, ই-মেইল ইত্যাদি অন্যায়ভাবে তার অগোচরে দেখার চেষ্টা করা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক। তবে হ্যাঁ, কেউ যদি কোনো জরুরি প্রয়োজনে এগুলো দেখার অনুমতি দেয়, তাহলে ততটুকু দেখা যাবে, যতটুকুর অধিকার সে দেবে। কিংবা আইনিভাবে অতি প্রয়োজনে যতটুকু দেখার বৈধতা থাকবে।

অনুমোদিত বিষয়ে সীমারেখা : প্রিয় নবী (সা.) সাহাবায়ে কেরামকে গোপনীয় বিষয়াবলির ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট অনুমোদিত তথ্যের ব্যাপারে অনুমোদন দিয়েছেন। আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) আমাকে বলেন, ‘তোমার জন্য পর্দা (বাধা) তুলে নেওয়া হয়েছে। তাই তুমি আমার কাছে এসে আমার গোপন কথা শুনতে পারো, যতক্ষণ না আমি তোমাকে নিষেধ করি।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৩৯)

মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে এই সূক্ষ্ম বিষয়গুলোতেও সতর্ক থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*