Main Menu

‘অনিয়মের সব রেকর্ড ভেঙেছে ইসি’

Sharing is caring!

কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগ ওঠায় তাদের স্বেচ্ছায় পদত্যাগের পরামর্শ দিয়েছেন বিশিষ্ট জনেরা। তারা বলেছেন, কমিশন এ পর্যন্ত সব অনিয়মের রেকর্ড গড়েছে। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশনে আগে এমন অনিয়ম হয়নি। তাই নৈতিক দায় থেকেই কমিশন সদস্যদের পদত্যাগ করা উচিত। হুদা কমিশনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ৪২ জন বিশিষ্ট নাগরিকের প্রেসিডেন্ট বরাবর আবেদন পাঠানোর বিষয় অবহিত করতে ডাকা অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এমন মত দেন। ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে আবেদনের বিস্তারিত উপস্থাপন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক।

আলোচনায় অংশ নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিশিষ্ট নাগরিকদের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট বরাবর যে আবেদন করা হয়েছে তাতে সহমত পোষণ করছি। কারণ বর্তমান নির্বাচন কমিশন সরাসরি আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি ও অসদাচরণে জড়িয়ে পড়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশে সব সময়ই নির্বাচন কমিশন কমবেশি বিতর্কিত ছিল।

তবে বর্তমান কমিশন যা করছে তা আগে কখনো হয়নি। এমনকি আগে এরকম দৃষ্টান্ত দেখা যায়নি। এই কমিশন আগের সমস্ত রেকর্ড ভঙ্গ করেছে বলে আমি মনে করি। তার মতে, নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। এটির যে গুরুত্ব তার অবমাননা এবং কলঙ্কিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা প্রেসিডেন্টের কাছে আবেদন করেছি। পাশাপাশি সরকার প্রধান প্রধানমন্ত্রীর কাছেও আবেদন করবো। প্রেসিডেন্ট আলোচনা সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। আশা করছি, সরকার প্রধান বিষয়টি বিবেচনা করবেন। আর যদি সিদ্ধান্ত গৃহীত না হয় আশা করি, নির্বাচন কমিশনারগণ এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার স্বেচ্ছায় দায়িত্ব থেকে অবসরে যেতে পারেন। অথবা কেউ কেউ নৈতিক অবস্থান থেকে পদত্যাগ করতে পারেন।

ড. শাহদীন মালিক বলেন, আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি এবং নির্বাচনসংক্রান্ত গুরুতর অসদাচরণের কারণে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের মাধ্যমে তদন্ত হওয়া উচিত। এরপর এই তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্ট বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে অনিয়মের কারণে অপসারণ করবেন বলে তারা আশা করেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমানে গণতন্ত্র ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এখন আর নির্বাচন হয় না। এখন নির্বাচন নির্বাচন খেলা হয়। এখন যে নির্বাচন হচ্ছে তা কারোরই কাম্য নয়। প্রেসিডেন্ট আমাদের আবেদনে যে অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে তাতে সাড়া দেবেন।

আরেক প্রশ্নের জবাবে শাহদীন মালিক বলেন, আইনগতভাবে যা যা করার দরকার তা করেছি। যদি সাড়া না দেন সেজন্য প্রেসিডেন্টের কাছে আবেদন করে আমরা নাগরিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করলাম। আর বাকিটা জনগণ মূল্যায়ন করবেন। এর ফলে জবাবদিহির একটা তো জায়গা তৈরি হলো।
আগে অভিযোগ কেন করলেন না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগে করলে হয়তো দু’একটা অভিযোগ পাওয়া যেত। কিন্তু বর্তমানের বেশকিছু অভিযোগ গুরুতর। আর এই অভিযোগগুলো দিন দিন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে।

সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, সম্পূর্ণ আইনানুগভাবে ও সংবিধান মেনেই তারা এসব অভিযোগ করেছেন। এখন নির্বাচন কমিশনকে স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ানো দরকার। কারণ তারা মুক্তিযোদ্ধা ও বঙ্গবন্ধুর রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, আগের অনুষ্ঠিত হওয়া নির্বাচনগুলোর বৈধতার বিষয় অনেক বড় একটা পয়েন্ট। কারণ, যে দিনের নির্বাচন সে দিনেই হওয়ার কথা। কিন্তু আমরা দেখেছি ভোট আগের রাতে হয়ে গেছে। বিবিসিসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে এসব তথ্য দেখেছি। তাই গত নির্বাচনগুলোর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ বলেন, অনুষ্ঠিত হওয়া নির্বাচনগুলো না হয় রাজনৈতিক হিসেবে গণ্য করলাম। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের দুর্নীতি তো রাজনৈতিক নয়। এটা তো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। এটার বিচার করতে হবে।
সাবেক সচিব আবদুল লতিফ মণ্ডল বলেন, বঙ্গভবনে দীর্ঘদিন কাজ করেছি। প্রেসিডেন্ট অফিস থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ৪২ নাগরিকের আবেদন যাবে কিনা যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*